বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:০৯ অপরাহ্ন

সরকারের বিদায়বেলায় এমপিও দিতে রকেট গতিতে দৌড়ঝাঁপ!

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২৪ বার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হাতে আছে আর মাত্র দুই কর্মদিবস। এই বিদায়বেলার আগমুহূর্তে শিক্ষা প্রশাসনে চলছে নজিরবিহীন তৎপরতা। যেসব সিদ্ধান্ত বছরের পর বছর ছিল ফাইলবন্দি, সেগুলো এখন চূড়ান্তে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কর্তাব্যক্তিরা। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত, শিক্ষা আইন অনুমোদন, শিক্ষা প্রশাসনে শীর্ষ তিন পদে পদায়নসহ চালাচ্ছেন নানান তৎপরতা। এর আগে এই নির্বাচনের তপশিলের আগের রাতে ৫শর বেশি বদলি করে বিতর্কের মুখে পড়ে শিক্ষা প্রশাসন। এরপর বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ নিয়োগের ক্ষমতা বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) হাতে দেওয়া এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা প্রকাশের মতো সিদ্ধান্ত যেগুলো রাজনৈতিক সরকার নেওয়ার কথা, সেগুলোও শেষ সময়ে এসে করা হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, অন্তত তিনটি জনগুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষা আইন পাস, ১ হাজার ৭১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত এবং শিক্ষা প্রশাসনের তিন শীর্ষ পদে পদায়ন। অথচ রীতি অনুযায়ী এই তিনটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক সরকারের নেওয়ার কথা। গতকাল জাতীয় শিক্ষা প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা একাডেমির (নায়েম) মহাপরিচালক পদে পদায়ন করেছে। শেষ সময়ের এমন তৎপরতা বন্ধের দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন। প্রস্তাবিত শিক্ষা আইন দ্রুত অনুমোদনের উদ্যোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে শিক্ষা অধিকার সংসদ, মূল্যবোধ আন্দোলন ও অভিভাবক ঐক্য ফোরাম। সংগঠনগুলো মনে করছে, অংশীজনের সঙ্গে পর্যাপ্ত পরামর্শ ও জাতীয় ঐকমত্য ছাড়া এসব আইন প্রণয়ন করা সমীচীন নয়। শিক্ষা অধিকার সংসদের আহ্বায়ক অধ্যাপক এম নিয়াজ আসাদুল্লাহ ও মূল্যবোধ আন্দোলনের মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মাদ সাদাতসহ দেশের সুপরিচিত ৯৯৯ জন শিক্ষক এ বিষয়ে যৌথ বিবৃতি দেন। এ ছাড়া অভিভাবক ঐক্য ফোরাম এ সময় শিক্ষা আইন না করার দাবি জানায়। এমন প্রেক্ষাপটে বিতর্কের মুখে কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগ এমপিওভুক্তির আবেদন নেওয়া স্থগিত করেছে।

১৭১৯ প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির তোড়জোড়: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শেষ পর্যায়ে এসে ১ হাজার ৭১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে ৬৭০ কোটি বরাদ্দ চেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এত স্বল্প সময়ে বিশালসংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রকেট গতিতে এমপিওভুক্ত করার প্রক্রিয়া ঘিরে বড় ধরনের আর্থিক লেনদেনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, এর পেছনে কাজ করছে কয়েকশ কোটি টাকার ‘ঘুষ-বাণিজ্য’। প্রতিষ্ঠানভেদে ১২-৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হচ্ছে। কোথাও শিক্ষক অনুযায়ী ঘুষ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে প্রথমবার এমপিওভুক্ত হতে যাওয়া স্নাতক (অনার্স) ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি ঘুষ লেনদেন হচ্ছে।

এখানে ২৭৭টি প্রতিষ্ঠানের জন্য ১২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এমপিওভুক্তের জন্য গঠিত ১১ সদস্যের কমিটির বেশিরভাগ সদস্যের অগোচরে চলছে তালিকা তৈরির কাজ। কমিটির তিনজন সদস্য এমপিওভুক্তির বৈঠকে একদিনও উপস্থিত ছিলেন না। কমিটির একজন যুগ্ম সচিব ও একজন উপসচিব পুরো সময়টায় ছিলেন ঢাকার বাইরে। এমপিও কমিটির আহ্বায়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মিজানুর রহমান ও সদস্য সচিব বেসরকারি বিদ্যালয় শাখা-৩-এর উপসচিব মোরশেদ আলী, উপদেষ্টার পিএস তাজকির-উজ-জামান, এপিএস ইনজামুল হক, সচিব রেহেনা পারভীন ও তার পিএস রকিবুল হাসান উপদেষ্টার রুমে কোন প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হবে, তা ঠিক করেছেন। গত এক সপ্তাহ ধরে নীরবে এ কার্যক্রম চালান তারা। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিষ্ঠান বাছাইয়ের ক্ষেত্রে উপদেষ্টার পিএস ও উপসচিব মোরশেদ আলীর ভূমিকা ছিল সবচেয়ে বেশি। তারা অনার্স-মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষকদের সঙ্গে আর্থিক চুক্তিতে গেছেন। এরই মধ্যে যার বড় অংশ লেনদেনও হয়েছে। এর মধ্যে পটুয়াখালী সদরের ‘আ’ অদ্যাক্ষরের একটি কলেজ থেকে সংগ্রহ করে মন্ত্রণালয়ে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের সদস্যের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দিয়েছেন নাজমুস শাহাদাত আজাদী নামে এক শিক্ষক নেতা। তিনি প্রত্যেক শিক্ষকের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা করে উঠিয়েছেন।

কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের এক কর্মকর্তা কালবেলাকে বলেন, অতীতে স্কুল, কলেজ, কারিগরি প্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসার এমপিওভুক্তির ঘোষণা একসঙ্গে দেওয়া হয়েছে; কিন্তু এবার মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠান ছাড়াই শুধু স্কুল, কলেজকে আলাদাভাবে এমপিওভুক্ত করার চেষ্টা চলছে। মাদ্রাসা স্তুরে এখনো আবেদন নেওয়াই শেষ হয়নি। এর মধ্যে স্কুল, কলেজের জন্য বাজেট বরাদ্দ চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া নিয়ে রহস্যের জন্ম হয়েছে। এমন বিতর্কের মধ্যে গতকাল কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের এমপিও আবেদন নেওয়ার কার্যক্রম স্থগিত করেছে ওই বিভাগ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবার আবেদনকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যাচাই-বাচাই হয়েছে রকেট গতিতে। গত ১৪ জানুয়ারি থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত আবেদন নেওয়া হয়। এ সময়ে ৩ হাজার ৬১৫টি প্রতিষ্ঠান থেকে আবেদন যাচাই-বাচাই হয় মাত্র ৮ দিনে। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ৪৫২টি প্রতিষ্ঠানের তথ্য যাচাই হয়েছে, যা একেবারেই অসম্ভব ও নজিরবিহীন।

কমিটির একজন সদস্য কালবেলাকে বলেন, ‘৮ দিনে ৩ হাজার ৬০০ প্রতিষ্ঠান যাচাই করা একেবারে অসম্ভব। কারণ এসব প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনের তারিখ, কাম্য শিক্ষার্থী, পাসের হার, স্থাবর সম্পত্তি যাচাই করা আট দিনে কোনোভাবেই সম্ভব নয়। যেসব প্রতিষ্ঠান টাকা দিয়েছে তারা অটোমেটিক চয়েস হিসেবে যোগ্য বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। বাণিজ্যের পথ প্রশস্ত করতে এমপিও নীতিমালা সংশোধন করে অনার্স-মাস্টার্সকে প্রথমবারের মতো এমপিওভুক্তির আওতায় আনা হয়েছে।’

একজন অতিরিক্ত সচিব কালবেলাকে বলেন, ‘নতুন সরকার আসার পর এ তালিকা টিকবে না। এজন্য সিন্ডিকেট অর্থ মন্ত্রণালয়ের সবুজ সংকেত নেওয়ার চেষ্টা করছে এবং দ্রুততম সময়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র নেওয়ার চেষ্টা করছে।’

এসব অভিযোগ ও পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সি আর আবরারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তী সময়ে উপদেষ্টা এবং তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিএস) তাজকির-উজ-জামানের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে যোগাযোগ ও বিস্তারিত জানতে চেয়ে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে জানতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহেনা পারভীনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকেও পাওয়া যায়নি।

তবে গতকাল মন্ত্রণালয় থেকে এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে প্রথম পর্যায়ে ১ হাজার ৭১৯টি প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিক বিবেচনায় নিয়ে সম্ভাব্য আর্থিক সংশ্লেষ নিরূপণ করা হয়েছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ বিভাগে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তালিকা তৈরি সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে হয়েছে দাবি করে এ বিষয়ে বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য বা সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করা হয়েছে।

নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি সেলিম মিয়া কালবেলাকে বলেন, ‘আমাদের দীর্ঘ আন্দোলনের ফলেই সরকার এমপিওভুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এ কাজ করতে গিয়ে যদি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ ওঠে সেটি অবশ্যই বিবেচনায় নেওয়া উচিত।’

কমিশন নয়, শেষ সময়ে শিক্ষা আইনের তোড়জোড়: ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন খাতে সংস্কারের জন্য কমিশন গঠন হলেও শিক্ষা কমিশন করেননি শিক্ষার দুই উপদেষ্টা। বরং এ দাবি উঠলে তারা ধারাবাহিকভাবে কমিশনের বিরোধিতা করেছেন। সরকারের হাতে যখন মাত্র দুই কর্মদিবস বাকি ঠিক, তখন শিক্ষা আইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি আইন করতে তৎপরতা চালাচ্ছে সি আর আবরারের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দেড় যুগ ধরে আলোচিত এ আইনটির প্রথম যাত্রা শুরু হয় ২০১১ সালে। প্রথম খসড়ায় শিক্ষকদের কোচিং ও নোট-গাইড প্রকাশনা নিষিদ্ধ থাকায় নোট-গাইড ব্যবসায়ীদের আন্দোলনের মুখে সরকার পিছু হটে। পরে শাস্তির বিধান শিথিল করে ২০১৩ সালে দুর্বল একটি খসড়া তৈরি হলেও সেটিও রহস্যজনক কারণে দীর্ঘদিন পড়ে থাকে। এরপর ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে প্রথমে শিক্ষা আইনের খসড়া অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হলে আইনের ঢাউস আকৃতি, অস্পষ্টতা, নানা সীমাবদ্ধতার কারণে তা ফেরত আসে। এরপর ঘটে মহাকেলেঙ্কারি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় নমনীয় একটি খসড়া করে যেখানে বাণিজ্যিক কোচিংকে বৈধতা দেওয়া হয়। সেখানে নিজ স্কুলে অন্য স্কুলের শিক্ষার্থীদের কোচিং করানো সুযোগ দেওয়া হয়। নোট-গাইড নিষিদ্ধ করলেও ‘সহায়ক বই’ চলবে বলে পক্ষান্তরে নোট গাইডকে বৈধতা দেয়। ওই খসড়ায় শিক্ষায় মোট পাঁচটি স্তরের কথা বলা হয়। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে প্রস্তাবিত ১৮ পৃষ্ঠার খসড়ায় মোট ৫৭টি ধারা যুক্ত করে দ্বিতীয়বার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হলে ১২টি পর্যবেক্ষণসহ আবার ফেরত আসে। ওই সময় শিক্ষার যত আইন আছে সেগুলো নিয়ে একটি আমব্রেলা (এক ছাতার নিচে) আইন করার প্রস্তাব দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ফেরত আসে। সর্বশেষ ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে আইনটি আরেকবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে যায়। সেবারও ফেরত আসে। এর মধ্যে একবার যায় আইন মন্ত্রণালয়ে। আইনটি ত্রুটিপূর্ণ মন্তব্য করে সেখান থেকেও ফেরত আসে।

জানা গেছে, আজ সোমবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে খসড়াটি উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তঃমন্ত্রণালয় মতামত ও আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং ছাড়া শেষ সময়ে এমন আইন পাসের উদ্যোগ শিক্ষা খাতে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ‘এই আইনের সঙ্গে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ প্রায় ৫ কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত। যে আইন ১৫ বছরেও চূড়ান্ত করা যায়নি, তা এত অল্প সময়ে করতে তাড়াহুড়ার কারণ বোধগম্য নয়।’

সম্প্রতি অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপার ও সহকারী সুপার নিয়োগও এনটিআরসিএর মাধ্যমে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, যা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ নির্বাচনী তপশিল হওয়ার পর এ ধরনের সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার নেই। তার আগে বেসরকারি শিক্ষকদের (এমপিওভুক্ত) বদলি নীতিমালা জারি করে। শিক্ষক বদলি বাণিজ্যের পথ আরও প্রশস্ত করতে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, নির্বাচনে তপশিল ঘোষণার পর গত ২৫ জানুয়ারি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ২৪ উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে পদোন্নতি দিয়ে সহকারী প্রকৌশলী করে আদেশ (জিও) জারি করে মন্ত্রণালয়। এখন সেটি অনুমোদনের জন্য নির্বাচন কমিশনে (ইসি) চিঠি পাঠানো হয়েছে। এর আগে গত ৭ ও ১০ ডিসেম্বর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে ১১ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি ও নতুন পদায়ন দেওয়া হয়। সেই পদোন্নতি নিয়েও তুমুল আলোচনা-সমালোচনা হয়। তার চেয়েও এগিয়ে ছিল গত ১১ ডিসেম্বর। নির্বাচনের তপশিলের আগের রাতে বিভিন্ন দপ্তর-প্রতিষ্ঠান ও কলেজগুলোতে ৫২৫ জন ক্যাডার কর্মকর্তার বদলি-পদায়ন হয়। অতীতের সব রেকর্ড ভাঙা এই বদলি প্রক্রিয়ায় বিপুল অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠে। আলোচিত এই বদলি কারবারে শিক্ষা উপদেষ্টা ও সচিবের দপ্তর এবং কলেজ শাখার তিন কর্মকর্তার নাম এসেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ইতিহাসে এক দিনে এত বিপুলসংখ্যক বদলির নজিরবিহীন এই রাতটিকে এরই মধ্যে অনেকেই ‘বদলির চাঁদরাত’ নামে আখ্যা দিয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এরই মধ্যে এ ‘চাঁদ রাতের’ তথ্য সংগ্রহ করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com