বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:০১ অপরাহ্ন

অতিঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ২৫৬ আসনে

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২০ বার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে কেন্দ্র রয়েছে ৪২ হাজার ৭৭৯টি। এর মধ্যে ৮ হাজার ২২৬টি কেন্দ্র অতিঝুঁকিপূর্ণ। শতাংশের হিসাবে তা মোট ভোটকেন্দ্রের ১৯.২৩ শতাংশ। এই হিসেবে ২৯৯ আসনের ২৫৬টিতেই অতিঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে। সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, এসব কেন্দ্র ঘিরে সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে। ঝুঁকি বিবেচনায় এসব কেন্দ্র ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অস্ত্রসহ পুলিশ, আনসার মোতায়েনের পাশাপাশি লাইভ বডিওর্ন ক্যামেরা, সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য, বিজিবিসহ অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরাও সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখবেন এসব কেন্দ্র। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

কালবেলার হাতে থাকা এই গোয়েন্দা প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অতিঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র সবচেয়ে বেশি রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে। সেখানে ১২১টি কেন্দ্রকে অতিঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ৮০টির বেশি অতিঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে ৯টি আসনে। সেগুলো হলো—শরীয়তপুর-২ ৯৭টি, লক্ষ্মীপুর-২ ৯৪টি, শরীয়তপুর-১ ৯৩টি, বরিশাল-৫ ৮৮টি, বগুড়া-৬ ৮৭টি, কিশোরগঞ্জ-২ ৮৫টি, ঠাকুরগাঁও-১ ৮৩টি, কিশোরগঞ্জ-১ ৮০টি ও কুড়িগ্রাম-৩ ৮০টি।

শরীয়তপুর-১ ও শরীয়তপুর-২ দুটি আসনে অতিঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে ১৯০টি। এ বিষয়ে শরীয়তপুর জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) রওনক জাহান কালবেলাকে বলেন, কেন্দ্রগুলোকে অতিগুরুত্বপূর্ণ, গুরুত্বপূর্ণ এবং সাধারণ এই তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে। যেসব কেন্দ্র অতিগুরুত্বপূর্ণ সেসব কেন্দ্রে আমাদের আলাদা নজরদারি থাকবে। পাশাপাশি অন্যান্য কেন্দ্রেও প্রয়োজনীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত থাকবে।

লক্ষ্মীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক কালবেলাকে বলেন, আমাদের এখানে যেসব অতিগুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে সেগুলো নিয়ে তো আমাদের আলাদা নজরদারি আছে এবং থাকবে। আমরা প্রতিটি কেন্দ্রে ৩ জন করে পুলিশ সদস্য দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ সদর দপ্তর থেকে আমাদের চাহিদা অনুযায়ী পুলিশ সদস্য না দিতে পারায় আমাদের দুজন করে পুলিশ সদস্য থাকবে। পাশাপাশি ১৩ জন করে আনসার সদসস্য থাকবে। এ ছাড়া এবার সর্বোচ্চসংখ্যক সেনাবাহিনীর সদস্য ভোটের মাঠে থাকবে। তাদের সঙ্গে আমাদের সমন্বয় হয়েছে। যে কোনো ধরনের সমস্যা মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন। তিনি কালবেলাকে বলেন, আমাদের পুলিশ সদস্যদের কাছে বডিওর্ন ক্যামেরা থাকবে। আমরা প্রতিটি কেন্দ্র সার্বক্ষণিক নজরদারির মধ্যে রাখব। কোথাও কোনো ঝামেলা হলে আমরা অতি দ্রুত অ্যাকশনে যাব। আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, তারা এসব অতিঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে অস্ত্রসহ পুলিশ মোতায়েন করেছে ৩ জন, অস্ত্রসহ আনসার একজন, প্রিসাইডিং অফিসারের নিরাপত্তার জন্য অস্ত্রসহ একজন আনসার, সাধারণ আনসার একজন, লাঠিসহ আনসার ১০ জন ও গ্রাম পুলিশ একজন, ক্ষেত্রবিশেষে দুজন।

পুলিশ সদর দপ্তরের বাইরেও প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপারের (এসপি) কার্যালয়ে স্থাপন করা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ‘অপারেশন্স কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল রুম’। যেখান থেকে ঝুঁকিভিত্তিক ভোটকেন্দ্র চিহ্নিতকরণ, মোবাইল ও স্ট্রাইকিং টিমের লাইভ লোকেশন ট্র্যাকিং করা হবে।

এ ছাড়া সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং পার্টি সার্বক্ষণিক টহলে থাকবে। আর তাদের রিয়েলটাইম মনিটর করবেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

পুলিশ সদর সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন ডিউটিতে নিয়োজিত সব অফিসার ও ফোর্সের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করতে স্থাপন করা হয়েছে ওয়াকিটকি সাব-স্টেশন। মোবাইল ও স্ট্রাইকিং টিমের লাইভ লোকেশন মনিটরিংয়ের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত নির্দিষ্ট স্থানে পাঠানোর নির্দেশনাও দেওয়া যাচ্ছে।

এ ছাড়া সোশ্যাল মিডিয়া ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া পর্যবেক্ষণ, দ্রুত রুট নির্ধারণে গুগল ম্যাপ ব্যবহার এবং জরুরি সমন্বয়ের জন্য পুলিশ, সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড, আনসার, জুডিসিয়াল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং প্রিসাইডিং অফিসারদের যোগাযোগ তথ্য সংরক্ষণ করা হবে।

ভোটকেন্দ্র ও কেন্দ্রের আশপাশে যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, মবকে কঠোর হাতে দমন করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (অপারেশন) রেজাউল করিম। তিনি কালবেলাকে বলেন, সব জেলার এসপি ও ইউনিট প্রধানদের সেভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। লাইভ বডিওর্ন ক্যামেরা ও সিসি ক্যামেরা দিয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হবে। এসপির কার্যালয়ে সমন্বিত কমান্ড সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকে জেলার কেন্দ্রগুলোতে থাকা ক্যামেরাগুলো লাইভ মনিটরিং হবে। এরই মধ্যে এসব ক্যামেরা নিয়ে পুলিশ সদস্যরা তাদের নিয়মিত ও ভোটের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কেন্দ্রে কেউ মব তৈরি করে ছাড় পাবে না।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com