বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:২৭ পূর্বাহ্ন

যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গাজায় ১১ ফিলিস্তিনিকে হত্যা

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৭ বার

গাজা উপত্যকাজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর নতুন দফার হামলায় অন্তত ১১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গত ১০ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির এটি সর্বশেষ লঙ্ঘন। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নবগঠিত ‘বোর্ড অফ পিস’-এর মাধ্যমে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা পুনর্গঠনে ৫ বিলিয়ন (৫০০ কোটি) ডলারের অঙ্গীকার ঘোষণা করেছেন।

চিকিৎসা সূত্রের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের তাঁবু লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এতে অন্তত ৫ জন নিহত হন। এছাড়া দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে পৃথক হামলায় আরও পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছেন।

এদিকে গাজা সিটির পূর্বে তাল আল-হাওয়া এলাকায় এক হামলায় ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ (পিআইজে)-এর কমান্ডার সামি আল-দাহদুহ নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় সূত্রগুলো।

হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম এই হামলাকে ‘নতুন গণহত্যা’ এবং ‘অপরাধমূলক বিস্তার’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এটি স্পষ্টতই মাটিতে একটি রক্তাক্ত বাস্তবতা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা। এর মাধ্যমে বার্তা দেওয়া হচ্ছে যে, গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার সব প্রচেষ্টা অর্থহীন এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা চললেও দখলদার বাহিনী তাদের আগ্রাসন অব্যাহত রাখবে।’

গাজা কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ৬০১ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,৬০৭ জন আহত হয়েছেন। গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, গত বছরের ১০ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে ইসরায়েল অন্তত ১,৬২০ বার এই চুক্তি লঙ্ঘন করেছে।

অন্যদিকে ইসরায়েল হামাসের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে। তাদের দাবি, এই সময়ের মধ্যে চারজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে।

হামলার এই খবর এমন এক সময়ে এলো যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ঘোষণা করেছেন যে, আগামী বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ওয়াশিংটন ডিসিতে নবগঠিত ‘বোর্ড অফ পিস’-এর প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

ট্রাম্প জানান, বোর্ডের সদস্যরা গাজা পুনর্গঠনে ৫ বিলিয়ন ডলার প্রদানের অঙ্গীকার করেছেন। এছাড়া গাজাবাসীদের নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখতে ‘আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী’ এবং স্থানীয় পুলিশের জন্য হাজার হাজার কর্মী নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র এই বোর্ডে যোগ দিতে আগ্রহী দেশগুলোর কাছ থেকে ১ বিলিয়ন ডলার করে ফি দাবি করেছে। আল জাজিরার ওয়াশিংটন প্রতিনিধি রোজালিন্ড জর্ডান জানিয়েছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) প্রথম দেশ হিসেবে এই অর্থ দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। কুয়েতও এই উদ্যোগে যোগ দিতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। বাকি তিনটি দেশের নাম এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

প্রাথমিকভাবে গাজায় ইসরায়েলি যুদ্ধ বন্ধের প্রক্রিয়া হিসেবে ভাবা হলেও, ট্রাম্পের এই বোর্ডের লক্ষ্য এখন বিশ্বজুড়ে নানা সংঘাত নিরসন করা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একে জাতিসংঘকে এড়িয়ে চলার একটি মার্কিন প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু প্রধান মিত্র এই বোর্ডে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

ট্রাম্প তার পোস্টে জোর দিয়ে বলেন, ‘হামাসকে অবশ্যই পূর্ণ ও তাৎক্ষণিক নিরস্ত্রীকরণের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে।’ পাল্টা বক্তব্যে হামাস মুখপাত্র হাজেম কাসেম বোর্ড অফ পিস-কে আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন বন্ধে চাপ দেয় এবং কোনো বিলম্ব বা কারসাজি ছাড়াই চুক্তি বাস্তবায়নে বাধ্য করে।

সূত্র: আল-জাজিরা

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com