বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:১৯ পূর্বাহ্ন

‘ক্লিক ডে’ ত্রুটিতে মিলছে না ইতালির স্পন্সর ভিসা, বাড়ছে অবৈধ শ্রমিক

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৪ বার

ইতালিতে ২০২৬–২৮ মেয়াদের তিন বছরের কর্মসূচির আওতায় পাঁচ লাখ বিদেশি শ্রমিক নেওয়ার প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপের ‘ক্লিক ডে’ সম্পন্ন হয়েছে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত এক লাখ ৬৪ হাজার ৮৫০ জনের কোটায় বিভিন্ন খাতে আবেদন গ্রহণ শেষ হয়।

এবার কঠোর শর্ত ও জটিল আবেদনপদ্ধতির কারণে প্রত্যাশার তুলনায় আবেদন সংখ্যা কম হয়েছে। এ কারণে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ধারণা, যারা নির্ধারিত নিয়ম মেনে আবেদন করতে পেরেছেন, তাদের ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি।

এদিকে প্রশাসনিক জটিলতা এবং ক্লিক ডের ত্রুটির কারণে ইতালিতে বহু বিদেশি শ্রমিক অবৈধ হয়ে যাচ্ছেন। দেশটির উচ্চকক্ষ সিনেটে উপস্থাপিত এক বার্ষিক জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে।

অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য প্রতি বছর কোটা নির্ধারণ করে স্পন্সর ভিসায় বিদেশি শ্রমিক প্রবেশের অনুমোদন দিয়ে থাকে ইতালি সরকার। যদিও বাস্তবে অনুমোদনের হার খুবই কম। প্রশাসনিক জটিলতা ও ক্লিক ডের ত্রুটিতে অবৈধ হয়ে থাকছেন বহু শ্রমিক।

দেশটির উচ্চকক্ষ সিনেটে ‘এরো স্ত্রানিয়েরো’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের স্পন্সর ভিসার কোটা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লাখ ৪৬ হাজার ৮৫০টি। তবে সফলভাবে ইতালিতে থাকার অনুমোদন পেয়েছেন মাত্র ২৪ হাজার ৮৫৮ জন। চূড়ান্ত অনুমোদনের হার ছিল ১৬ দশমিক ৯ ভাগ।

২০২৫ সালের কোটা বাড়িয়ে করা হয় ১ লাখ ৮১ হাজার ৪৫০। কিন্তু মাত্র ১৪ হাজার ৩৪৯ জন অনুমোদন পেয়েছেন। শতকরা হার মাত্র ৭ দশমিক ৯ শতাংশ।

ইতালিতে আসা এসব শ্রমিক দেশটির অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখলেও অনুমোদনপ্রক্রিয়ার জটিলতায় অনেকে অবৈধ থেকেই কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। সরকারকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন করে সঠিক উপায়ে ভিসা ও থাকার অনুমোদন দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন দেশটির নাগরিক ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

তারা বলছেন, ইতালিতে আসার ক্ষেত্রে শ্রমিকদের আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় কঠিন অবস্থার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সরকারকে এ বিষয়টি মনোযোগ দিয়ে বিবেচনা করা উচিত। তা না হলে ইতালিতে অবৈধ লোকের সংখ্যা বাড়বেই।

ইতালিতে বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ শুধু একটি অভিবাসন ইস্যু নয়। এটি দেশের অর্থনীতি এবং ভবিষ্যৎ শ্রম বাজারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। সিনেটে উপস্থাপিত প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়, শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী কোটা নির্ধারণ, আবেদন প্রক্রিয়া ডিজিটাল ও দ্রুত করা, মৌসুমি কাজের শ্রমিকদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শ্রম অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এদিকে ইতালিতে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত বিচার বিভাগের কয়েকজন সদস্য অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং অভিবাসী-সম্পর্কিত অপরাধ দমনে সরকারের প্রচেষ্টায় বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির ডানপন্থি প্রধানমন্ত্রী জর্জা মেলোনি। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ প্রসঙ্গে ক্ষোভ জানানা।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com