

ওয়াশিংটনে কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ঘিরে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের শীর্ষ সন্ত্রাস পৃষ্ঠপোষক’ হিসেবে অভিযুক্ত ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। সরাসরি হামলার ঘোষণা না দিলেও তার বক্তব্যের সুরে সামরিক বিকল্প খোলা থাকার ইঙ্গিত স্পষ্ট।
ভাষণটি এমন সময়ে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি জোরদার হয়েছে এবং ওয়াশিংটনে তেহরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সরাসরি সংঘাত নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন এবং পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় সক্রিয় করার অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, তেহরান এমন ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
ইরান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তেহরান বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বেসামরিক জ্বালানি উৎপাদনের জন্য এবং এটি অস্ত্র কর্মসূচি নয়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ভাষণের আগে কংগ্রেস নেতাদের ব্রিফ করেন। এদিকে সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার সতর্ক করে বলেন, সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা গোপনে নয়, প্রকাশ্য বিতর্কের মাধ্যমে হওয়া উচিত। আজ বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এ সংকট ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধিদের বৈঠক করার কথা রয়েছে। এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, সংঘাত এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা ‘হাতের নাগালে’র মধ্যেই। একই দিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, তিনি কূটনীতিকেই অগ্রাধিকার দেন। কিন্তু ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করার বিষয়টি তিনি মেনে নেবেন না।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের বক্তব্য তাৎক্ষণিক যুদ্ধঘোষণা নয়; বরং কৌশলগত সংকেত। ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অধীনে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ এড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও ইরানে হামলা আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে—বিশেষত যদি তেহরান পাল্টা জবাব দেয়। জ্বালানি বাজার, আঞ্চলিক জোট এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরোধক্ষমতার বিশ্বাসযোগ্যতা—সবই এতে জড়িত।