

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের বৈশ্বিক প্রভাব থেকে বিশ্বের কোনো দেশ বা জাতিই রেহাই পাবে না বলে কড়া হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। পশ্চিমা বিশ্বের আরও বেশিসংখ্যক কর্মকর্তার উচিত এই সংঘাতের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো- এমন ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেছেন, যুদ্ধের ভয়াবহতা কেবল শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির বিষয়ে ইরানের যে দীর্ঘদিনের নীতি রয়েছে, তাতে এখনই বড় কোনো পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা নেই। তবে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এ বিষয়ে এখনও প্রকাশ্যে নিজের মতামত জানাননি বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। খবর দ্য গার্ডিয়ান ও আল জাজিরার।
বুধবার সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আব্বাস আরাগচি যুদ্ধের পরিণতি নিয়ে এই সতর্কবার্তা দেন। এক্সে তিনি লেখেন, ‘যুদ্ধের বৈশ্বিক প্রভাবের একটি ঢেউ সবেমাত্র শুরু হয়েছে। সম্পদ, ধর্ম বা বর্ণ নির্বিশেষে এই প্রভাব সবাইকে ভোগ করতে হবে।’ নিজের বক্তব্যের সপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কাউন্টার টেররিজম সেন্টারের (এনসিটিসি) পরিচালক জো কেন্টের পদত্যাগপত্রের একটি অনুলিপি এক্সে শেয়ার করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। মঙ্গলবার জো কেন্ট নিজের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। পদত্যাগপত্রে কেন্ট স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, তিনি ‘বিবেকবান হয়ে’ ইরানের বিরুদ্ধে চলমান এই যুদ্ধকে কোনোভাবেই সমর্থন করতে পারেন না। তিনি আরও লিখেছেন, ‘ইরান আমাদের জাতির জন্য কোনো আসন্ন হুমকি সৃষ্টি করেনি।’
জো কেন্টের এই পদত্যাগের বিষয়টিকে সামনে এনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এমন কণ্ঠস্বর ক্রমেই জোরালো হচ্ছে, যারা ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এই যুদ্ধকে সম্পূর্ণ ‘অন্যায়’ বলে মনে করছেন এবং এর প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। আরাগচির মতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও অনেক সদস্যেরই এই পথ অনুসরণ করা উচিত এবং যুদ্ধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া উচিত।
অন্যদিকে, আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও এর ভবিষ্যৎ নিয়েও কথা বলেছেন আব্বাস আরাগচি। বুধবার ইরানের সংবাদমাধ্যমে তার এই বক্তব্য প্রচার করা হয়। আরাগচি বলেন, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির বিরুদ্ধে ইরানের যে শক্ত অবস্থান রয়েছে, তাতে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন আসবে না।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। এই শতকের প্রথম দশকের শুরুর দিকে তিনি একটি ফতোয়া বা ধর্মীয় অনুশাসন জারি করে গণবিধ্বংসী অস্ত্র তৈরির তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েলসহ পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে অভিযোগ করে আসছে যে তেহরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও তেহরান বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি তার সাক্ষাৎকারে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির চিন্তাভাবনাকে শাস্ত্রীয় বা রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিচার করার মতো অবস্থানে তিনি এখনও পৌঁছাননি। ফলে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে নতুন সর্বোচ্চ নেতার চূড়ান্ত অবস্থান কী হবে, তা জানতে বিশ্ববাসীকে আরও অপেক্ষা করতে হবে।