বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ০২:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

আজ ৫৬তম মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬
  • ১ বার

আজ ২৬ মার্চ, ৫৬তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। বাঙালি জাতির ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রচনার সূচনা দিন। পরাধীনতার শিকল ছিঁড়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর দিন

আজ থেকে ৫৫ বছর আগে ১৯৭১ সালের এই দিনে ডাক এসেছিল দেশকে পাকিস্তানি হানাদারের কবল থেকে মুক্ত করার। আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছিল সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের । ২৫ মার্চ দিনগত রাতের মধ্য প্রহরে কিস্তানি সেনাবাহিনী শুরু করে গণহত্যা। স্বজন হারানোর শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে ২৬ মার্চ থেকেই শুরু হয় প্রতিরোধ। এরপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্বিচার হত্যা, ধ্বংস ও পৈশাচিকতার বিরুদ্ধে ৯ মাসের মরণপণ লড়াইয়ে ৩০ লাখ শহীদের আত্মদানের বিনিময়ে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন বাংলাদেশের। গোটা জাতি আজ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে দেশের জন্য আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের।

দিবসটি উপলক্ষে দেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আলাদা বাণীতে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেশে ও প্রবাসে বসবাসরত সব বাংলাদেশিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে বলেন, ‘স্বাধীনতা জাতি হিসেবে আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন। আজকের এই দিনে আমি সশ্রদ্ধচিত্তে ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করি মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোত্সর্গকারী বীর শহীদদের, যাঁদের সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা।

২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে গ্রেপ্তার কয়ে নিয়ে যায় পাকিস্তানি বাহিনী। গ্রেপ্তারের আগে তিনি শত্রুসেনাদের বিতাড়িত করতে শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই করতে দেশবাসীকে নির্দেশ দেন। তৎকালীন রাজনৈতিক নেতারা ওইসময় আত্মগোপনে চলে যান। পাকিস্তানি সেনাদের আক্রমণে দিশেহারা জাতির সামনে তখন আবির্ভূত হন অচেনা-অখ্যাত এক মেজর। নিজ ব্যাটালিয়ান বিদ্রোহ ঘোষণা করে দেশের পক্ষে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেন তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান। চট্টগ্রাম কলুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন তিনি। মেজর জিয়ার সেই ঘোষণা ছিল খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে, এ ঘোষণা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে সহায়তা এবং একটা দিক নির্দেশনা প্রদান করে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বিশ্ব জানতে পারে, এ দেশের মানুষ সশ্রস্ত্র সংগ্রাম শুরু করেছে এবং তাদের সঙ্গে রয়েছে সেনাবাহিনীর একটি অংশ।

দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী প্রাণপণ যুদ্ধের সফল পরিণতিতে বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশ ঘটে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলার আকাশে ওড়ে বিজয়ের লাল-সবুজ পতাকা। মরণপণ লড়াই ও একসাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয় এই বিজয়। স্বাধীনতা তাই বাংলাদেশিদের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অসামান্য আত্মত্যাগ আমাদের একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার পথে দৃপ্ত পদভারে এগিয়ে চলার সাহস জোগায়। স্বাধীনতার লক্ষ্য ছিল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, শোষণমুক্ত সমাজ ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং সর্বস্তরের জনগণের ক্ষমতায়নকে সুসংহত করা। রাষ্ট্র ও সমাজের সব ক্ষেত্রে সাম্য, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে স্বাধীনতার অপূর্ণ স্বপ্নগুলো পূরণ করতে হবে। নতুন প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সুখী-সমৃদ্ধ মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা আমাদের পবিত্র কর্তব্য।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে বলেন, ২৬ মার্চ আমাদের জাতীয় জীবনের এক গৌরবময় ও ঐতিহাসিক দিন। এই দিনে আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি জাতির শ্রেষ্ঠ সূর্যসন্তানদের, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। একইসঙ্গে আমি মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা, নির্যাতিতা মা, বোন ও স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মনিবেদিত সবাইকে গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি এবং সব শহীদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

তিনি বলেন, মহান স্বাধীনতা দিবস আমাদের জীবনে সাহস, আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের চেতনাকে নতুন করে উজ্জীবিত করে। স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির অগ্রগতি ও উন্নয়নের ধারাকে আরও বেগবান করতে জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক সহনশীলতা এবং দেশপ্রেমের চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। আসুন, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের তাৎপর্য থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করি। একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও মর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা সম্মিলিতভাবে কাজ করি।

‘মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬’ যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে সরকার দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর বাণী প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হবে। সংবাদপত্রগুলো বিশেষ নিবন্ধ, সাহিত্য সাময়িকী ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে।

কর্মসূচি

২৬ মার্চ সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ঢাকাসহ দেশের সব জেলা ও উপজেলায় ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের সূচনা হবে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশন, সিটি করপোরেশন এবং ঢাকার দৃশ্যমান উঁচু ভবনগুলোতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। পরে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের সদস্যরা, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এছাড়া, বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি কূটনীতিকরাও জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক বীরশ্রেষ্ঠদের পরিবার ও জীবিত খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনার আয়োজন করা হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

২৬ মার্চ সকাল ৮টায় দেশের সব বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের সমাবেশ ও ডিসপ্লে অনুষ্ঠিত হবে। দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে রচনা, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন এবং দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোতে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে।

চট্টগ্রাম, খুলনা, মোংলা ও পায়রা বন্দর, ঢাকার সদরঘাট, পাগলা (নারায়ণগঞ্জ) ও বরিশালসহ বিআইডব্লিউটিসি’র বিভিন্ন ঘাটে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের জাহাজ এবং চাঁদপুর ও মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাটে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের জাহাজ ২৬ মার্চ সকাল ৯টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত জনসাধারণের দর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে।

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করা হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রদর্শনী ফুটবল ম্যাচ, টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, কাবাডি ও হা-ডু-ডু ইত্যাদি খেলাধুলার আয়োজন করা হবে। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ও বেতারে দিবসটি উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসভিত্তিক অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে। ঢাকাসহ দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সিনেমা হলে বিনা টিকিটে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হবে। সরকারি ও বেসরকারি/স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার জাদুঘর সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিনা টিকিটে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। শিশুদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি বিনোদন কেন্দ্রে উন্মুক্ত থাকবে। দেশের সব পর্যটনকেন্দ্রে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে এদিন সকাল ৯টায় জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে কুচকাওয়াজ ও ফ্লাই পাস্ট অনুষ্ঠিত হবে।আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। প্রবেশের জন্য গেট নম্বর ২, ৩, ৪, ১০ ও ১১ নির্ধারণ করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের ব্যাগ বহন না করার জন্য বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত, মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সুস্বাস্থ্য এবং জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনায় দেশের সব মসজিদে বিশেষ মোনাজাত এবং মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।

দিবসটি উপলক্ষে দেশের সব সরকারি হাসপাতাল, জেলখানা, সরকারি শিশু পরিবার, পথশিশু পুনর্বাসনকেন্দ্র, শিশু উন্নয়নকেন্দ্র, প্রতিবন্ধী কল্যাণকেন্দ্র, বৃদ্ধাশ্রম, ভবঘুরে পুনর্বাসনকেন্দ্র ও শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com