

হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে গতকাল বুধবার এক দিনে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ১০৮ জন শিশু। এই নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত এক মাসে হাম ও উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১৯৮ জন শিশু। আর আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা পৌঁছেছে ১৯ হাজার ১৬১ জনে। গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বুলেটিন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ল্যাব পরীক্ষায় আরও একজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। তারা তিনজনই ঢাকা বিভাগের। এ সময়ের মধ্যে সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে এক হাজার ৩২ জন এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত রোগী ৭৬ জন। গত এক মাসে বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি রোগী পাওয়া গেছে ঢাকা বিভাগে ৮ হাজার ২৬০ জন। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ, যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা দুই হাজার ৫১৪ জন।
জানা গেছে, সংক্রমণ মোকাবিলায় সরকার দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি চালু করেছে। শুরুতে বেশি আক্রান্ত ৩০টি জেলায় টিকা দেওয়া হলেও বর্তমানে সারদেশেই এই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হাম উপসর্গ নিয়ে এই হাসপাতালে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল পাঁচজনে। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সকালে একজন এবং বিকাল ৪টার দিকে আরেক শিশুর মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগ সিলেটের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নূরে আলম শামীম। তিনি বলেন, দশ মাস বয়সী শিশুটি হাম ছাড়াও অন্যান্য রোগে আক্রান্ত ছিল। সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় শিশুটির। এ ছাড়া গতকাল বিকাল ৪টার দিকে হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ মাস বয়সী আব্দুল্লাহর মৃত্যু হয়।
শরীয়তপুর প্রতিনিধি : শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে হাম রোগের উপসর্গ নিয়ে ভর্তির ৬ দিন পর জাহিদ নামে ১০ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকালে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মিতু আক্তার এসব তথ্য জানিয়েছেন। এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মারা যাওয়া শিশু জাহিদ সদর উপজেলার আংগারিয়া এলাকার জয়নাল মিয়ার ছেলে।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলায় হাম রোগের উপসর্গ নিয়ে ১৬৭ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪২ জন। বর্তমানে ৬৯ জন হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ : চাঁপাইনবাবগঞ্জে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন লামিয়া খাতুন নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের হাম আইসোলেশন কর্নারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আধা ঘণ্টা আগে দেড় বছর বয়সী ওই শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করে স্বজনরা। লামিয়া শিবগঞ্জ উপজেলার নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়নের বিরাহিমপুর গ্রামের মো. রনির মেয়ে ।
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ মশিউর রহমান জানান, গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে আরো ৩৯ জন হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে জেলা হাসপাতালে। এদের মধ্যে ১৯ জন ছেলে ও ২০ জন মেয়ে রয়েছেন। আর হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ১০৩ জন হাম রোগী ভর্তি রয়েছে। আর ৫ জন রোগীকে সুস্থ্যতার জন্য ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে।
সিভিল সার্জন ডা. একেএম শাহাব উদ্দিন জানান, এখন পর্যন্ত ১০১ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৪৩ জন শিশুর শরীরে হাম ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।