

অতীত সরকারগুলোর ব্যর্থতায় সারাদেশে হাম নিয়ে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘আগের অগণতান্ত্রিক ও অনির্বাচিত সরকার এই টিকা কর্মসূচি পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছে। সর্বশেষ ২০২০ সালে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হয়েছে। তাই এই প্রাদুর্ভাব।’
আজ সোমবার সকালে জিন্দাপার্কে হাম ও রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত সরকারের ব্যর্থতার কারণে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। বিগত সময়ে নিয়মিত টিকা না দেওয়ার কারণেই শিশুদের বড় একটি অংশ হামে আক্রান্ত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকার সব খাতেই লুটপাট করেছে এবং স্বাস্থ্যখাতে কোনো টাকা রেখে যায়নি। আর কোনো ফ্যাসিস্টের জন্ম নিতে দেওয়া হবে না। রূপগঞ্জে ৫০ বেডের হাসপাতালকে ১০০ বেডে উন্নত করা হবে, আগামী বাজেটে এ নিয়ে সব তথ্য তুলে ধরা হবে।’
সাম্প্রতিক এই প্রাদুর্ভাবের সময়ও দেশ প্রস্তুত ছিল না উল্লেখ করে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমাদের টিকার মজুত ছিল না। বর্তমানে ইউনিসেফ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতায় এই টিকাদান কর্মসূচি সফলতার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কিছু মা স্টাইল করে, কিছু মা কর্মব্যস্ততার কারণে সন্তানদের বুকের দুধ খাওয়ায় না, যার কারণে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমছে আর হামের মতো রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে।এতে করে বাচ্চাদের শরীরে পুষ্টির জন্য আলাদা করে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল দিতে হচ্ছে।’
ওষুধ দিয়ে শিশুদের সুস্থ করা সম্ভব না। মায়েদেরও এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে বলে পরামর্শ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
প্রসঙ্গত, আজ থেকে তৃতীয় দফায় দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি শুরু হলো। আগামী চার সপ্তাহ (শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত) কেন্দ্রগুলাতে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এ টিকা দেওয়া হবে। ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে এ কর্মসূচির আওতায় টিকা প্রদান করা হবে।
হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার জরুরি ভিত্তিতে গত ৫ এপ্রিল প্রথম দফায় ঝুঁকিপূর্ণ ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় হাম-রুবেলার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে। এসব উপজেলায় ২১ লাখ ৮০ হাজার ১০৫ জন শিশুকে টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। চলমান এ কর্মসূচির আওতায় ৫ থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত উপজেলাগুলোতে ১৪ লাখ ৮৭ হাজার ১৯২ জন শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা প্রদান করা হয়েছে।