শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ০৫:৫৭ অপরাহ্ন

মাকে ভালোবাসা জানানোর দিন আজ

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
  • ৩৪ বার

মায়ের জন্য ভালোবাসা কোনো দিনক্ষণ মানে না; এটি অনাবিল, চিরন্তন । মাকে ভালোবাসতে হবে প্রতিদিন, মাকে সম্মান জানাতে হবে প্রতিক্ষণ। তবু বছরের বিশেষ দিন যদি বিশ্বেরসব মায়ের জন্য উৎসর্গ করা থকে, তাতে মন্দ কি! আনুষ্ঠানিকতার জন্য না হয় দিনটি পালন করলাম।

আজ বিশ্ব মা দিবস। পৃথিবী সব মাকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানানোর দিন।প্রতিবছর মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার বিশ্বের দেশে দেশে পালিত হয় দিবসটি। বাংলাদেশেও দিনটি নানা আয়োজনে পালিত হয়।

মা দিবসের ধারণাটি কিন্তু হুট করে আসেনি। এটি শুধুই আবেগের গল্প নয়। এর ভেতরে আছে সামাজিক আন্দোলন, ইতিহাস, প্রতিবাদ এবং একজন নারীর দীর্ঘ সংগ্রামের কাহিনি।

প্রাচীন গ্রিসে মা দিবসের আয়োজন হতো ঘরে ঘরে। তৎকালীন গ্রিসে প্রতি বসন্তকালে দেবতাদের মা ‘রিয়া’-র উদ্দেশ্যে উৎসব পালন করা হতো। মা দিবস তখন বর্তমানের মতো এতটা ব্যাপক না হলেও, সেই উদযাপনেই রোপিত হয়েছিল মাতৃত্বকে সম্মান জানানোর বীজ। সপ্তদশ শতকে ব্রিটেনে মে মাসের চতুর্থ রবিবারকে ‘মাদারিং সানডে’ হিসেবে পালন করা শুরু হয়। সেদিন মানুষ মায়ের সঙ্গে সময় কাটাতেন এবং মায়ের জন্য উপহার কিনতেন। এরপর আমেরিকার পশ্চিম ভার্জিনিয়াতে প্রথম মা দিবস পালন করা হয় ১৮৫৮ সালে। জুনের ২ তারিখকে তারা বেছে নিয়েছিল মা দিবস হিসেবে। তৎকালীন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন আমেরিকানদের ইতিহাসে সর্বপ্রথম মা দিবসকে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করেন।

আবার কথিত আছে, আজ থেকে ১৫০ বছর আগের সপ্তাহের রবিবারের সকালটা অ্যানা জারভিসের জন্য একদম অন্যরকম ছিল। নিজের প্রতিষ্ঠিত সানডে স্কুলে বাচ্চাদের দিতেন বাইবেল পাঠ। এই পাঠদান কালে বাচ্চাদের জন্য তার মায়া সৃষ্টি হয়। বাচ্চাদের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে তার নিজের মায়ের ছবি খুঁজে ফিরতেন। ভালোবাসা আর শ্রদ্ধায় মায়ের মুখচ্ছবিকে লালন করতে চাইলেন তিনি। এই বোধ থেকেই আধুনিক মা দিবসের গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন- মার্কিন সমাজকর্মী অ্যান জার্ভিস। তিনি ছিলেন একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী, যিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত আমেরিকায় নারীদের স্বাস্থ্য রক্ষা ও সচেতনতা নিয়ে কাজ করতেন। ১৯০৫ সালে এই মহীয়সী নারী মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর মেয়ে অ্যানা জার্ভিস মায়ের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখার সংকল্প করেন। তিনি চেয়েছিলেন বছরের অন্তত একটি দিন যেন পৃথিবীর সব মায়েরা বিশেষ সম্মান আর ভালোবাসা পান।

অ্যানা জার্ভিসের এই যাত্রায় অনুপ্রেরণা ছিলেন জুলিয়া ওয়ার্ডের মতো সমাজকর্মীরাও, যারা মায়ের প্রতি শ্রদ্ধার প্রসারে কাজ করেছিলেন। ১৯০৮ সালের ১০ মে, পশ্চিম ভার্জিনিয়া গ্রাফিটন শহরের সেই চার্চে- যেখানে তার মা একসময় পড়াতেন। অ্যানা জার্ভিস প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে মা দিবস পালন করেন। অ্যানা জার্ভিসের নিরলস চেষ্টার পর ১৯১৪ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারকে সরকারি ছুটির দিন এবং ‘মা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেন। ১৯২০ সাল নাগাদ এই ধারণা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে এটি কেবল একটি ক্যালেন্ডারের তারিখ নয়, বরং মাতৃত্বের প্রভাব ও গুরুত্বকে স্বীকার করে নেওয়ার একটি বৈশ্বিক মঞ্চ। সেই থেকে এই দিনে আন্তর্জাতিকভাবে পালিত হচ্ছে মা দিবস।

এই পৃথিবীতে একমাত্র নিঃস্বার্থ ভালোবাসার প্রতীক হলেন মা। যিনি সন্তানের জন্য নিজের সবটুকু বিলিয়ে দেন। গল্প, উপন্যাস, কবিতা, গান, সিনেমা, ইতিহাস সবখানে মায়ের অসীম ত্যাগ ও ভালোবাসা নিয়ে রয়েছে অসংখ্য উদাহরণ। ধর্মেও মাকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।

‘মা’ শব্দের ভেতর জড়িয়ে আছে জন্ম, নিরাপত্তা, আত্মত্যাগ, মমতা, শিকড় আর অস্তিত্বের গল্প। একজন মানুষের জীবনে প্রথম যে আশ্রয়, স্পর্শ ও ভাষা, তার অনেকটা শুরু হয় মায়ের মধ্য দিয়ে। পৃথিবীর সভ্যতার উত্থান-পতনের যত গল্পই বলা হোক না কেন মায়ের জন্য ভালোবাসার গল্পটি সব সময় সবচেয়ে গভীর মমতায় মাখা থাকবে। মায়ের হাসিমুখের তুলনা চলে না অনুভূতির ভান্ডারে জমে থাকা কোনো আনন্দ বা সুখের সঙ্গে।

পৃথিবীর সব মায়ের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com