

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় গতকাল বুধবার রাতে বিক্ষোভ ও মশাল মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক একেএম রাশিদুল আলমের পদত্যাগের দাবি করেছেন তারা।
এদিকে ধর্ষণচেষ্টা কাণ্ডে অভিযুক্ত ব্যক্তি এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় নতুন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন সংগঠন।
অরক্ষিত ক্যাম্পাস, নিরাপত্তা প্রদানে প্রশাসনের ব্যর্থতার অভিযোগ এনে পাঁচ দফা দাবিতে বিক্ষোভ ও মশাল মিছিল করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপরাধীকে গ্রেপ্তার ও দ্রুত আইনে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা; প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ; শিক্ষার্থী, বহিরাগত বা শ্রমিক, যে কারও দ্বারা সংঘটিত হয়রানি ও হেনস্তায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ; ক্যাম্পাসের প্রতিটি প্রবেশপথে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার; নারী নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ ও কুইক রেসপন্স টিমে তাদের অন্তর্ভুক্তি।
বিক্ষুব্ধ নারী শিক্ষার্থীরা টারজান পয়েন্টে প্রথমে জমায়েত হন। পরে সেখান থেকে মশাল হাতে নিয়ে বের করেন বিক্ষোভ মিছিল। এ সময় তাদের সঙ্গে একাত্মা প্রকাশ করে ছাত্ররাও একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে তাদের সঙ্গে যোগ দেন।
মিছিল নিয়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্ট প্রদক্ষিণ করেন। পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ,জাকসু কার্যালয় অতিক্রমের সময় ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন। পরে প্রক্টর অফিস ও প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন তারা।
এ সময় শিক্ষার্থীরা গেল রাতে এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় জড়িত যুবককে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার, ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ বন্ধসহ পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিতে ব্যর্থ হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলারও হুঁশিয়ারি দেন শিক্ষার্থীরা।
এদিকে ঘটনার মধ্যেই শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে এক বহিরাগতকে আটক করেছে শিক্ষার্থীরা। তিনি বেসরকারি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত পুরাতন ফজিলতুন্নেছা হল সংলগ্ন এলাকা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় অনুসরণ করে আসা এক বহিরাগত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থীকে রাস্তা থেকে টেনেহিঁচড়ে পার্শ্ববর্তী ঝোঁপঝাড়ের মধ্যে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে।
এ ঘটনায় ববিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. জেফরুল হাসান চৌধুরী বাদী হয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে অজ্ঞাতনামা একজনের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা করেন। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হয়নি।