মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ০৪:২৮ অপরাহ্ন

দাদা-দাদির কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত শিশু রামিসা

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
  • ২০ বার

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে দাদা-দাদির কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে জানাজা শেষে উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের মধ্য শিয়ালদী গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে, রাত ৮টার দিকে শিশু রামিসার মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। স্বজন ও এলাকাবাসী এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন। এতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহত শিশু রামিসা আক্তার সিরাজদিখানের মধ্যম শিয়ালদী গ্রামের মরহুম হেলাল উদ্দিন মোল্লার ছেলে হান্নান মোল্লার মেয়ে। সে একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল বলে জানিয়েছে পরিবার।

জানাজায় রামিসার আত্মীয়-স্বজন, স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ অংশ নেন। এ সময় শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো এলাকায়। কবরস্থানের পাশে শিশুটির বাবা ও পরিবারের স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। এদিকে নির্মম এই ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে মুন্সীগঞ্জ শহরে মশাল জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

বুধবার দুপুরে রামিসাকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। একই ঘটনায় সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানো হয়।এসব তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ।

এদিন আসামিদের আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর আসামি সোহেল রানা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান। পরে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন সোহেল রানা। জবানবন্দি গ্রহণ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

একই দিন সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে আটক রাখারও আবেদন করে পুলিশ। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিকেল সোয়া ৩টার দিকে হাজতখানা থেকে কড়া নিরাপত্তায় সোহেল রানাকে আদালতে তোলা হয়। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত কয়েকজন তার উদ্দেশে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পুলিশের আবেদনে বলা হয়, হত্যার শিকার শিশুটি রাজধানীর একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে বাসা থেকে বের হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান।

আবেদনে আরও বলা হয়, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য শিশুটিকে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তারা। পরে ডাকাডাকিতে সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা। ওই ফ্ল্যাটে শিশুটির মরদেহ খণ্ডিত অবস্থায় পাওয়া যায়। ওই ফ্ল্যাট থেকে স্বপ্না আক্তারকে আটক করা হয়। তবে ঘটনার পর একটি কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান সোহেল রানা। পরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে গতকাল রাতে পল্লবী থানায় সোহেল রানা, স্বপ্না আক্তার ও অজ্ঞাতপরিচয় একজনকে আসামি করে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় বলা হয়েছে, শিশুটিকে যখন সোহেল রানাদের ফ্ল্যাটে নেওয়া হয়েছিল, সে সময় সেখানে তৃতীয় একজন ব্যক্তি ছিলেন। শিশুটির স্বজনসহ অন্যরা দরজা ভেঙে ওই ফ্ল্যাটে ঢোকার আগে তিনি সেখান থেকে চলে যান। এ ঘটনায় আদালতে হাজির হয়ে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন গ্রেপ্তারকৃতরা।

নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com