বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ন

‘প্রযুক্তির ব্যবহারকারী নয়, উদ্ভাবক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে তরুণদের’

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬
  • ১৩ বার

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, পরিবর্তিত বাস্তবতায় তরুণদের শুধু প্রযুক্তির ব্যবহারকারী নয়, প্রযুক্তির উদ্ভাবক ও নির্মাতা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এজন্য বিজ্ঞান শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি বিজ্ঞানমনস্ক সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমপ্লেক্স মিলনায়তনে আয়োজিত জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ-২০২৬ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে যে জাতি জ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবনে যত এগিয়ে, অর্থনীতি, শিল্প, শিক্ষা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রেও সে জাতি তত অগ্রসর। তাই বিজ্ঞানচর্চা শুধু একাডেমিক কার্যক্রম নয়, বরং একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণের ভিত্তি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন উন্নয়ন ও অগ্রগতির নতুন পর্যায়ে রয়েছে। উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দক্ষ মানবসম্পদ, গবেষণাসক্ষম প্রতিষ্ঠান এবং সৃজনশীল তরুণ প্রজন্ম প্রয়োজন। এ লক্ষ্য অর্জনে বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণার বিকল্প নেই।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, প্রতিটি বড় আবিষ্কারের শুরু হয় একটি ছোট প্রশ্ন থেকে। তাই প্রশ্ন করতে, পর্যবেক্ষণ করতে এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নতুন কিছু জানার চেষ্টা করতে হবে। ব্যর্থতাকে ভয় না পেয়ে উদ্ভাবনের সাহস অর্জন করতে হবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জনের ওপরও জোর দেন তিনি। বলেন, আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তির সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজেদের প্রস্তুত করতে না পারলে ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে।

তরুণদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা বৃদ্ধি, স্টার্টআপ সহায়তা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার জন্য সরকার কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, সফলতার জন্য অধ্যবসায় প্রয়োজন। দীর্ঘদিনের গবেষণা ও নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমেই বিজ্ঞানীরা বড় আবিষ্কার করেন। শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করার সাহস ও অনুসন্ধিৎসু মনোভাব গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে পরমাণু শক্তি কমিশন, জাতীয় বায়োটেকনোলজি ইনস্টিটিউট এবং সমুদ্রবিজ্ঞান গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মতো বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ভবিষ্যতে এসব প্রতিষ্ঠানে গবেষণার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে।

অনুষ্ঠানে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমপ্লেক্সের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. মো. মনিরুজ্জামান স্বাগত বক্তব্য দেন। এ সময় বিজ্ঞান ও গবেষণায় অবদানের জন্য বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. আব্বাস উদ্দিন আহমেদ এবং গবেষক মারজানা আক্তারকে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com