

রেলওয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে রেলপথমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, রেলওয়ের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে এসব নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর তা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তুলে ধরেন সড়ক পরিবহন, নৌপরিবহন এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে এবং সভাপতিত্বে রেল মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ কার্যক্রম এবং সামগ্রিক কানেক্টিভিটি, সামগ্রিক সেবা কী পর্যায়ে আছে এবং উত্তরণের জন্য কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, কী কার্যক্রম চলমান আছে এবং আগামীর পরিকল্পনা কীÑ সে বিষয়ে বৈঠক ছিল। দেশের আরও ১০ জেলা রেল যোগাযোগের আওতায় আসছে বলে জানিয়েছেন তিনি। পরে মন্ত্রণালয় এ প্রতিবেদককে জানিয়েছে শেরপুর, মেহেরপুর, মাগুরা, সাতক্ষীরা, বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলা রেল যোগাযোগের আওতায় আসছে।
মন্ত্রী বলেন, আখাউড়া-সিলেট, সিরাজগঞ্জ-বগুড়া, ধীরাশ্রমে আইসিডি কন্টেইনারের প্রকল্প ইতোমধ্যে পাস হয়েছে এবং ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন হবে। পাশাপাশি ঢাকা থেকে কুমিল্লা একটা কর্ড লাইন জরুরি সে ব্যাপারেও নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এটা বাস্তবায়ন করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ এবং প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ করার তাগাদা এসেছে। এক প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ঢাকার ভেতর থেকে বাস টার্মিনালগুলো এখনই সরছে না।
গত সোমবার রাজধানীর যানজট নিরসনে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন সংক্রান্ত সভায় প্রধানমন্ত্রী ঢাকার চারটি বাস টার্মিনাল দ্রুত স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। চারটি আন্তঃনগর বাস টার্মিনাল হচ্ছে- ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান বাস টার্মিনাল, গাবতলী বাস টার্মিনাল, মহাখালী বাস টার্মিনাল এবং সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী বাস টার্মিনাল।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থাকছে আপাতত। এইটা স্থায়ীভাবে সরানো হবে উত্তরার একটা জায়গায়। সেখানে ৫০ বিঘা জায়গা অধিগ্রহণ করার একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু মহাখালী বাসস্ট্যান্ডে যে জট তৈরি হচ্ছে বাসের, সেখানে সার্ভিসটা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না বিধায় যেসব বাস ছাড়বে, সেটা মহাখালী বাসস্ট্যান্ড ব্যবহার করবে। অতিরিক্ত যেসব বাস, ১২ ঘণ্টা তাকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে, তারপর সে ট্রিপে যাবে। সে ১২ ঘণ্টা মহাখালী বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করতে পারবে না। সে ৩০০ ফিটের আমাদের ওখানে একটা জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে অস্থায়ীভাবে, ওখানে ডিপো হিসেবে ব্যবহার করবে।
শেখ রবিউল আলম বলেন, বাসস্ট্যান্ড সবগুলোই সরবে, কিন্তু এই যে রাতারাতি সরে যাচ্ছে আমি তা বলছি না। যেমন ধরুন, সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড (টার্মিনাল), সেটাকে কাঁচপুরে একটা জায়গায় শেড করা হচ্ছে, বাসস্ট্যান্ড করা হচ্ছে। স্থায়ী শেড না, সে ওখানে শিফট হয়ে যাবে। পর্যাপ্ত সুবিধার পরেই কেবল চলে যাবে। এখন ডিপো হিসেবে ব্যবহার হবে শুধু ওই স্ট্যান্ড থেকে যে বাসগুলো দ্রুততম সময়ে ছাড়বে, একটা নির্দিষ্ট টাইম ওই স্ট্যান্ডে (সায়েদাবাদ) থাকবে। বাকি টাইম সে ওই পাশের ডিপোতে গিয়ে থাকবে। এইটা হচ্ছে সিদ্ধান্ত।
প্রধানমন্ত্রী চীন সফরে যাবেন। সেখানে কী কোনো চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা আছে- এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, যেসব প্রকল্প চীনের আগ্রহ থাকবে এবং চীন যে প্রক্রিয়ায় বাস্তবায়ন করতে চায় তা বাংলাদেশের স্বার্থে হবে। প্রকল্পের স্বার্থে হবে, আমাদের অর্থনীতির স্বার্থে হবে, সেইগুলোই নিয়ে হয়তো আলোচনা হবে। সেখানে চীনের যে প্রস্তাবনা আছে, সেটা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত হবে। তিনি বলেন, চীনের অনেক প্রস্তাব ব্যক্তিগতভাবে যদি আপনি বলেন আমাদের মন্ত্রণালয়ে আছে। তারা রেল, রোড এবং নৌ খাতে বিনিয়োগ করতে চায়। এখন এই বিনিয়োগগুলো নিয়ে আলোচনা হয়, নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন প্রকল্পের স্বার্থ দেখে আলোচনা হয়। সেখানে অনেক প্রকল্প আছে যাতে চীনের আগ্রহ আছে এবং তাদের প্রস্তাবনাগুলো ইতিবাচক। আমরা সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছি। নিশ্চয়ই চীন এগিয়ে আসতে চায়, অতীতেও, এখনও। আমরাও আমাদের উন্নয়নের স্বার্থে, টেকনোলজিক্যাল একটু আমরা সাউন্ড হবো সেই স্বার্থে, এগুলো বিবেচনায় নেব এবং উভয় দেশের স্বার্থ এবং রাইট রক্ষা করে, বেনিফিট রক্ষা করে, যেসব প্রকল্প একমত হওয়া যাবে, অনলি সেইগুলোই গ্রহণ করা হবে।
ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেন ‘মৈত্রী’ ও ‘বন্ধন’ চালুর বিষয়ে জানতে চাইলে রেলমন্ত্রী বলেন, সেটার বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। সেটা নিয়ে আলাপ-আলোচনা আছে এবং অনেক কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষারও প্রয়োজন আছে। নতুন করে এই লাইনটি কতটুকু বাংলাদেশ এবং ইন্ডিয়ার স্বার্থে ব্যবহার হবে, সেটা নিয়ে পর্যালোচনা হচ্ছে।