

ওজন বেড়ে যাওয়া নিয়ে অনেকের ভ্রান্ত ধারণা আছে। অনেকেই মনে করেন, আমি তো খুব বেশি খাই না, তবুও ওজন কেন বাড়ছে? বিশেষ করে তরুণ বয়সে এমন প্রশ্ন প্রায়ই মনে আসে। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওজন বাড়ার কারণ সবসময় বেশি খাওয়া নয়। শরীরের ভেতরের কিছু পরিবর্তন, জীবনযাপনের ধরন ও খাদ্যাভ্যাসের কারণেও বাড়তে পারে ওজন। শুধু খাবারের পরিমাণ কমালেই ওজন নিয়ন্ত্রণে আসবে—এমন ধারণা সবসময় ঠিক নয়। কারণ অনেক সময় কম খেলেও খাবারের গুণগত মান, ঘুম, মানসিক চাপ, হরমোন ও শরীরের বিপাক প্রক্রিয়ার কারণে ওজন বাড়তে পারে।
চলুন জেনে নিই ওজন বাড়ার কারণ-
বিপাকের গতি কমে গেলেও বাড়ে ওজন
শরীর খাবার থেকে পাওয়া শক্তি কত দ্রুত ব্যবহার করে, সেটিই মূলত বিপাক প্রক্রিয়া। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকের শরীরে এই প্রক্রিয়ার গতি কিছুটা কমে যায়। ফলে আগের মতো একই পরিমাণ খাবার খেলেও শরীর কম শক্তি খরচ করে। অতিরিক্ত শক্তি তখন চর্বি হিসেবে জমতে শুরু করে। এ ছাড়া মানুষের শরীরের গঠনও অনেকাংশে জিনগত বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। কারও শরীর দ্রুত ক্যালরি খরচ করে, আবার কারও ক্ষেত্রে তা ধীর গতিতে হয়। শরীর খাবার থেকে পাওয়া শক্তি কত দ্রুত ব্যবহার করে, সেটিই মূলত বিপাক প্রক্রিয়া। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকের শরীরে এই প্রক্রিয়ার গতি কিছুটা কমে যায়। ফলে আগের মতো একই পরিমাণ খাবার খেলেও শরীর কম শক্তি খরচ করে। অতিরিক্ত শক্তি তখন চর্বি হিসেবে জমতে শুরু করে। এ ছাড়া মানুষের শরীরের গঠনও অনেকাংশে জিনগত বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। কারও শরীর দ্রুত ক্যালরি খরচ করে, আবার কারও ক্ষেত্রে তা ধীরগতিতে হয়।
ঘুম কম হলে বাড়ে ক্ষুধা
ওজন বাড়ার আরেকটি বড় কারণ হলো পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব। ঘুম কম হলে শরীরের কিছু হরমোনের ভারসাম্য বদলে যায়। ফলে ক্ষুধা বাড়তে পারে এবং বেশি খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। বিশেষ করে ঘুমের অভাবে মিষ্টি, তেলেভাজা বা বেশি ক্যালরিযুক্ত খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়ে। এসব খাবার অল্প খেলেও শরীরে অতিরিক্ত শক্তি জমা হতে পারে।
মানসিক চাপও বাড়াতে পারে ওজন
অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপ শরীরে এক ধরনের হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা পেটে চর্বি জমার প্রবণতা তৈরি করতে পারে। অনেকেই মানসিক চাপের সময় মন ভালো করার জন্য বেশি খেয়ে ফেলেন। এই অভ্যাসও ধীরে ধীরে ওজন বাড়াতে পারে।
ওষুধ ও হরমোনের সমস্যাও হতে পারে কারণ
কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ওজন বাড়তে পারে। বিষণ্নতা কমানোর ওষুধ, অ্যালার্জির ওষুধ বা কিছু বিশেষ ওষুধ এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। এ ছাড়া থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি, নারীদের হরমোনজনিত সমস্যা বা পিসিওএস-এর মতো সমস্যাও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। দীর্ঘদিন অস্বাভাবিকভাবে ওজন বাড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
খাবারের ধরনেও লুকিয়ে থাকে কারণ
অনেকে কম খান, কিন্তু খাবারের তালিকায় যদি বেশি চিনি, মিষ্টি পানীয়, তেলেভাজা বা প্রক্রিয়াজাত খাবার থাকে, তাহলে ওজন বাড়তে পারে। কারণ এসব খাবারে ক্যালরি বেশি থাকলেও পুষ্টি কম থাকে। এর পরিবর্তে ফল, শাকসবজি, ডাল, মাছ, মাংস ও আঁশযুক্ত খাবার খেলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে।
অনেকে কম খান, কিন্তু খাবারের তালিকায় যদি বেশি চিনি, মিষ্টি পানীয়, তেলেভাজা বা প্রক্রিয়াজাত খাবার থাকে, তাহলে ওজন বাড়তে পারে। কারণ এসব খাবারে ক্যালরি বেশি থাকলেও পুষ্টি কম থাকে। এর পরিবর্তে ফল, শাকসবজি, ডাল, মাছ, মাংস ও আঁশযুক্ত খাবার খেলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজন কমানো বা নিয়ন্ত্রণে আনা কোনো একদিনের কাজ নয়। ধৈর্য ধরে নিয়ম মেনে চললেই ধীরে ধীরে পরিবর্তন সম্ভব। তাই কম খেলেও যদি ওজন বাড়ে, শুধু খাবারকে দায়ী না করে শরীরের ভেতরের কারণগুলোও খুঁজে দেখা প্রয়োজন।