বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:২৫ অপরাহ্ন

হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত ঘোষণার শর্তে নতুন আলোচনায় বসবে যুক্তরাষ্ট্র

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬
  • ৪২ বার

যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান প্রকাশ্যে ঘোষণা দিক যে হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত এবং ভবিষ্যতে আর কোনো বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালাবে না। আজ শনিবার ওমানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নতুন দফার আলোচনার আগে ওয়াশিংটন এই শর্ত তেহরানের কাছে তুলে ধরেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে জানা গেছে, ইরানি কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টাদের জানিয়েছেন যে সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালানোর ঘটনা ছিল একটি ভুল। তবে তাদের দাবি, এ ঘটনার জন্য দায়ী ছিল সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা একটি উগ্রপন্থী অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠী।

মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান আলোচনায় ফিরে এসে জানিয়েছে যে তারা পরিস্থিতি নিয়ে অনুতপ্ত এবং আলোচনা চালিয়ে যেতে চায়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট ইরানকে প্রকাশ্যে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ঘোষণা দিতে হবে এবং জাহাজে হামলা বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। অন্যথায় আলোচনার ফল ইতিবাচক হবে না বলে সতর্ক করেছে ওয়াশিংটন।

এছাড়া হোয়াইট হাউস চায়, ইরান প্রকাশ্যে স্বীকার করুক যে বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালানো একটি ভুল ছিল।

শনিবার ওমানে অনুষ্ঠেয় আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের।

অন্যদিকে, কাতারের একটি প্রতিনিধিদল শুক্রবার ইরান সফর করেছে। তাদের লক্ষ্য হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনা প্রশমিত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করার উপায় খুঁজে বের করা।

শুক্রবার ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ইরান আবারও আলোচনার অনুরোধ জানিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র তাতে সম্মত হয়েছে। তবে তিনি একই সঙ্গে দাবি করেন, ইরানকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে ‘যুদ্ধবিরতি শেষ’।

উল্লেখ্য, গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির অন্যতম শর্ত ছিল হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা। কিন্তু চলতি সপ্তাহে ওই নৌপথে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে, যা যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে।

ইরানের দাবি, ওমান উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সুপারিশ করা নৌপথে হামলার ঘটনায় সরকার দায়ী নয়; বরং একটি উগ্রপন্থী গোষ্ঠী আলোচনাকে ব্যাহত করার উদ্দেশ্যে এ হামলা চালিয়েছে।

গত মাসে দুই দেশ ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) স্বাক্ষর করে, যার লক্ষ্য ছিল যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করা এবং আঞ্চলিক সংঘাতের অবসান ঘটানো। ওই সমঝোতা অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ প্রশাসন ও সামুদ্রিক সেবা নিয়ে ইরান, ওমান এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে পৃথক আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে ইরানের ফার্স সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, নতুন সমঝোতার আওতায় ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা ইরান ও ওমান যৌথভাবে পরিচালনা করতে পারে। সেই ব্যবস্থায় প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে সেবা ফি আদায়ের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com