মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আগামীকাল কুড়িগ্রাম যাচ্ছেন এনসিপির ৩ নেতা ময়মনসিংহে ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষ, নিহত ৩ মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি : ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে সবসময় থাকার প্রতিশ্রুতি ডা. জুবাইদা রহমানের প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী হিসেবে যোগ দিলেন রাশেদ খাঁন দিল্লিমুখী হাজারো কৃষক, নতুন চাপে মোদি সরকার ভিডিও ইস্যুতে এবার মুখ খুললেন জামায়াত এমপির ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ পারফর্ম করতে না পারলে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন স্বাভাবিক-তথ্য উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘বার্থা’ সরকারের ঋণ বেড়েছে ২৩ হাজার ৫৩২ কোটি টাকা আফগানিস্তানে আকস্মিক বন্যায় নিহত ২০, নিখোঁজ শতাধিক

পায়রা বন্দর নাবিক পারাপারের আড়ালে চলে অবৈধ তেল ও মাদকের ব্যবসা

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬
  • ১০ বার

পণ্যবাহী জাহাজের নাবিকদের তীরে পৌঁছে দেওয়ার আড়ালেই চলছে রমরমা চোরাই তেলের কারবার। আর এই জ্বালানি তেল অবৈধ পন্থায় সংগ্রহের লক্ষ্যে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। যাদের মাধ্যমেই তেলের বিনিময়ে জাহাজের মাদকাসক্ত ক্রুদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকের ছোট-বড় চালান। শুধু চোরাই তেলের কারবারই নয়, এই চক্র রীতিমতো অবৈধ ব্যবসা পরিচালনার জন্য সরকারি সম্পত্তি দখল করে গড়ে তুলেছে একাধিক স্থাপনা।

তবে দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করার সাহসও পাচ্ছে না কেউ। এমনকি নির্দিষ্ট এলাকায় সাংবাদিকদের প্রবেশেও রয়েছে সিন্ডিকেটের নিষেধাজ্ঞা। পটুয়াখালীর কলাপাড়ার পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকার অবস্থা এটি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কলাপাড়া উপজেলার ধানখালীতে নির্মিত পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি (কয়লা) নিয়ে আসে একাধিক লাইটারেজ জাহাজ। পায়রা সমুদ্রবন্দরের আওতাধীন এই জাহাজগুলো প্রায় প্রতিদিন নির্দিষ্ট জেটি দিয়ে পণ্য খালাস করে। তবে এই পণ্য খালাসের আড়ালেই লুকিয়ে আছে মাদক সরবরাহসহ লাখ লাখ টাকার চোরাই তেলের বাণিজ্য। প্রায় এক মাস ধরে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে অবৈধ উপায়ে রমরমা এমন বাণিজ্যের চিত্র।

অনুসন্ধানে জানা যায়, একাধিক কোম্পানির লাইটারেজ জাহাজ থেকে প্রায় প্রতিদিন চোরাই পথে তেল পাচার করছে জাহাজের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি সরাসরি এই তেল পাচরে জড়িত। এর বিনিময়ে তারা মাদকসহ লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

একজন জানান, স্থলপথে গড়ে তোলা শক্তিশালী সিন্ডিকেটের সদস্যরা অভিনব পদ্ধতিতে তৈরিকৃত ছোট ছোট ফাইবার বোর্ডে জাহাজের নাবিকদের তীরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। কিন্তু লোক দেখানো এই পারাপারের আড়ালেই চলে লাখ লাখ টাকার অবৈধ কার্যক্রম।

তিনি বলেন, এসব ফাইবার বোর্ডে বিশেষ পদ্ধতিতে তেল মজুতের জন্য আলাদা কেবিনেট তৈরি করা হয়েছে। যার মাধ্যমে খুব সহজেই জাহাজ থেকে কম সময়ে কয়েক হাজার লিটার তেল নিয়ে তীরে ফিরে আসে বোর্ডগুলো। এরপর ফাইবার বোর্ড থেকে তেল ব্যারেলে ভর্তি করে বিভিন্ন যায়গায় সরবরাহ করা হয়। আর এসব তেল জাহাজ থেকে ৭০-৮০ টাকা লিটার দরে ক্রয় করে কারবারিরা। পরে আবার স্থানীয় সিন্ডিকেটের কাছে ১০০ টাকা দরে বিক্রি করে।

সরেজমিন দেখা গেছে, পায়রা বন্দরের ধানখালীর মরিচবুনিয়ার আরপিসিএল জেটি ঘাট এলাকার খাসজমিতে একাধিক টিনের ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে এসব চোরাই তেল খালস করে রাখা হয়। পরে সেগুলো বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয় বলে অভিযোগ। তেল ক্রয়ের সঙ্গে জড়িত একজন জানান, জাহাজে কর্মরত মাদকাসক্ত অনেক ব্যক্তিকে শুধু টাকা দিয়েই খুশি করা সম্ভব হয় না। তাদের ইয়াবা না দিলে তেল বিক্রি করবে না—এমন অসংখ্য ঘটনা রয়েছে। তাদের মাদক সাপ্লাই দিয়ে খুশি করতে পারলেই বোর্ড বোঝাই করে চোরাই তেল পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, স্থলপথে পুলিশি ঝামেলা হয় প্রায় সময়েই। মাঝেমধ্যে ব্যারেল বোঝাই তেলের চালান আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। কিন্তু তৈরিকৃত নকল কাগজ দেখিয়ে বৈধ তেল বলে আবার সেসব ফিরিয়ে আনা হয়। পুলিশি ঝামেলা এড়াতে সম্প্রতি ক্ষমতাসীন দলের এক ব্যক্তির মাধ্যমে থানার কর্তাদের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে বলেও তিনি জানান। তবে নিরাপত্তার জন্য তিনি ওই ক্ষমতাসীন দলের নেতার নাম প্রকাশে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।

তার ভাষ্যমতে, এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পুলিশকে একটা নির্দিষ্ট অর্থ প্রতি মাসে পৌঁছে দেওয়া হয়। যাতে কোনো ধরনের ঝামেলা না করে। তবে খাসজমিতে অবৈধ স্থাপনা তুলে চোরাকারবারির রমরমা বাণিজ্যে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সরাসরি হস্তক্ষেপ রয়েছে বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে পায়রা সমুদ্রবন্দরের হারবার মাস্টার ক্যাপটেন শরীফ বলেন, এটা আসলে খুবই স্পর্শকাতর বিষয়। পায়রা বন্দর সীমানায় এমন কর্মকাণ্ড রোধে কোস্টগার্ডকে আরও জোরদার করা হবে।

এ ছাড়া বন্দর কর্তৃপক্ষকে বিষয়গুলো অবহিত করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.আরিফুজ্জামান বলেন, সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। সত্যতা পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কলাপাড়া থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, থানা পুলিশের বিষয়ে কেউ কিছু বলে থাকলে তা সত্য নয়, সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কারণ এ বিষয়গুলো নৌ পুলিশ এবং কোস্টগার্ডের বিষয়। কিন্তু থানা পুলিশ কিছু তেল আটক করেছিল। সেসব তেলের বৈধ কাগজপত্র দেখিয়ে পরে মালিক পক্ষ নিয়ে যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com