

নতুন মৌসুমের শুরুতেই নিজেদের শক্তির জানান দিল বায়ার্ন মিউনিখ। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বরুশিয়া ডর্টমুন্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে সিগনাল ইদুনা পার্কে জার্মান সুপার কাপের শিরোপা জিতেছে তারা।
মাইকেল অলিসের এক গোল ও এক গোলে সহায়তায় পাওয়া এই জয় বায়ার্নকে গত সাত মৌসুমে পঞ্চমবারের মতো সুপার কাপ জেতাল। সব মিলিয়ে এটি প্রতিযোগিতাটিতে বায়ার্নের রেকর্ড ১২তম শিরোপা।
বায়ার্নের স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন বলেন, ‘মৌসুম শুরুর জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ জয়, বিশেষ করে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের মাঠে জয় পাওয়াটা। শুরুটা ভালো হয়েছে।’
২৮ মিনিটে বায়ার্নকে এগিয়ে দেন গ্রীষ্মের দলবদলে আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে বড় অঙ্কের চুক্তিতে আসা নাথানিয়েল ব্রাউন। মাইকেল অলিসের বাড়ানো বল থেকে দারুণ ফিনিশিংয়ে গোল করেন তিনি।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফ্রান্সের ফরোয়ার্ড অলিস। তার গোলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তভাবে নিজেদের হাতে নেয় জার্মান লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচ শেষ হওয়ার ১৫ মিনিট আগে ডর্টমুন্ডের হয়ে এক গোল শোধ করেন ফাবিও সিলভা। তবে শেষদিকে ইসমায়েল সাইবারিকে বিপজ্জনক ট্যাকল করায় রামি বেনসেবাইনি লাল কার্ড দেখলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় ডর্টমুন্ড।
ডর্টমুন্ডের কোচ নিকো কোভাচ বলেন, ‘আমার মনে হয় দ্বিতীয়ার্ধে আমরা ভালো খেলেছি। তবে বায়ার্ন যে পর্যায়ে আছে, সেখানে পৌঁছাতে আমাদের এখনো অনেক পরিশ্রম করতে হবে।’
দ্বিতীয়ার্ধে স্বাগতিকদের চাপের মধ্যেও নিজেদের সামলে নেয় বায়ার্ন। ম্যাক্সিমিলিয়ান বায়ারের একটি শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে কাঙ্ক্ষিত জয় তুলে নেয় তারা। নতুন মৌসুমে এটি আরও একটি সফল অভিযানের প্রথম শিরোপা হবে—এমনই প্রত্যাশা বায়ার্নের।
ভিনসেন্ট কোম্পানির দল শুক্রবার ঘরের মাঠে ভিএফবি স্টুটগার্টের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে জার্মান লিগের শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরু করবে। পরদিন ডর্টমুন্ড নিজেদের মাঠে খেলবে হামবুর্গের বিপক্ষে।
বায়ার্ন কোচ কোম্পানি বলেন, ‘প্রথমার্ধটা খুব ভালো ছিল। দ্বিতীয়ার্ধেও আমরা অনেক দৃঢ়তা দেখিয়েছি। দলের হৃদয় ও চরিত্র দেখা গেছে। কয়েকজন খেলোয়াড় মাত্র কয়েকবার অনুশীলন করেই আজ পুরো ৯০ মিনিট খেলেছে—এটা সত্যিই দারুণ।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগামীকাল থেকেই আমাদের মনোযোগ পরের ম্যাচে। আজ আমরা খুশি ও সন্তুষ্ট। তবে আগামীকাল আবারও জয়ের ক্ষুধা নিয়ে মাঠে নামতে হবে।’
জার্মানির উইঙ্গার জামাল মুসিয়ালা অবশ্য এই ম্যাচে খেলেননি। প্রস্তুতি ম্যাচে দুবার মাঠে লুটিয়ে পড়ার পর স্নায়বিক সমস্যার চিকিৎসায় ওষুধ পরিবর্তনের কারণে তিনি এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন।