বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন

বিশ্বমঞ্চে প্রধানমন্ত্রী, দেবেন নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৬ বার

ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নেওয়া তারেক রহমানের এবার অভিষেক হলো বৈশ্বিক মঞ্চে। গতকাল মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগদানের মধ্য দিয়ে বিশ্ব কূটনীতির এ শীর্ষ মঞ্চে আনুষ্ঠানিকভাবে পা রাখেন তিনি। আগামীকাল বৃহস্পতিবার তিনি অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে বাংলায় দেওয়া এ ভাষণে তিনি তুলে ধরবেন একটি নতুন গণতান্ত্রিক ও সাম্যভিত্তিক বাংলাদেশের রূপরেখা। এর মধ্য দিয়ে তারেক রহমান তার বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার পর একই পরিবারের তৃতীয় উত্তরসূরি হিসেবে বৈশ্বিক এই ফোরামে ভাষণ দিয়ে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে যাচ্ছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্বমঞ্চে পদার্পণের এ ঐতিহাসিক মুহূর্তে তারেক রহমান একদিকে যেমন বাবা-মায়ের রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবেন, অন্যদিকে দেশের স্বাতন্ত্র্য, বৈশ্বিক অংশীদারত্ব এবং সার্বভৌমত্বের নতুন অধ্যায়ের উন্মোচন করবেন।

এদিকে দীর্ঘ দুই দশক পর তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফর ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। তার আগমনের মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখতে স্থানীয় সময় সোমবার বিকেলে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ব্যাপক জমায়েত হয়। অবশ্য প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফরের প্রতিবাদ জানিয়ে একই স্থানে বিক্ষোভ করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও।

জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রাতরাশ: সফরের দ্বিতীয় দিনে গতকাল মঙ্গলবার কর্মসূচির শুরুতেই জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আয়োজনে প্রাতরাশ প্রোগ্রামে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর তিনি এবারের অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিশ্বনেতার সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন। সন্ধ্যায় তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট আয়োজিত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের সহধর্মিণীদের সম্মানে অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী: প্রাতরাশ শেষে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ‘নর্থ ডেলিগেটস লাউঞ্জ’-এ সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে তিনি এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব নাজমুল হক এ তথ্য জানান।

অধিবেশনের সভাপতি এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বক্তব্য দেন।

অধিবেশনস্থলে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়। বিশ্বনেতাদের সঙ্গে মর্যাদাপূর্ণ এ বৈশ্বিক ফোরামের উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নেন তিনি। এবারের অধিবেশনে জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক সংঘাত নিরসন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বিশেষভাবে প্রাধান্য পাচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। এ ছাড়া তিনি সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে (জেনারেল ডিবেট) বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেন। বক্তব্যে তিনি বিশ্ব শান্তিরক্ষা, জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আর্থসামাজিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অন্যের মধ্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, শামা ওবায়েদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিনসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

জাতিসংঘে নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী: জানা গেছে, জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে আগামীকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেলে ১৫ মিনিটের ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার বক্তব্যে থাকবে বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা, অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা। সেইসঙ্গে বাবার প্রবর্তিত অর্থনৈতিক দূরদর্শিতা ও মায়ের রাষ্ট্রনায়কসুলভ নেতৃত্বের উত্তরাধিকার বহন করে বিশ্ব কূটনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও দৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করবেন তিনি। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে একাধিক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, জাতিসংঘ মহাসচিব এবং বৈশ্বিক ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এ যুক্তরাষ্ট্র সফর নানা কারণে তাৎপর্যপূর্ণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ও মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান বলেন, বিশ্বমঞ্চে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অভিষেক, জিয়া পরিবারের তিন প্রজন্মের উত্তরাধিকারের নতুন অধ্যায়। ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মঞ্চে এক দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক বিশ্বনেতাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রাখেন—উন্নয়নের এত আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতির পরও দারিদ্র্য ও ক্ষুধা কেন থেকেই যাচ্ছে? শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দারিদ্র্য ও ক্ষুধার এই স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে শান্তি, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক দায়িত্বের ভিত্তিতে বিশ্ব গড়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। আজ প্রায় ১৬ হাজার ৮৩০ দিন পর, সেই একই মঞ্চে দাঁড়াতে যাচ্ছেন তার সন্তান। ২৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। জিয়া পরিবারের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের প্রেক্ষাপটে এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মো. শামীম বলেন, এ সফরের মাধ্যমে শুধু যে একটি রাজনৈতিক পরিবারের ঐতিহ্য বজায় থাকছে তা নয়, বরং বিশ্ব রাজনীতিতে বাংলাদেশের স্বাতন্ত্র্য ও সার্বভৌম নেতৃত্বের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। পাশাপাশি এ সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুল লতিফ সম্রাট কালবেলাকে বলেন, বাবা-মা ও সন্তানের জাতিসংঘে ভাষণের নজির নেই। কিন্তু তারেক রহমান সৌভাগ্যবান যে, তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি একই পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। ফলে এই বিরল দৃষ্টান্ত গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস গড়বে বলে আমি বিশ্বাস করি। এজন্য আমরা গর্বিত, আনন্দিত।

নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা: এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে পাঁচ দিনের সফরে স্থানীয় সময় সোমবার বিকেলে নিউইয়র্কে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী তুর্কি এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজটি নিউইয়র্ক সময় সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও রয়েছেন। বিমানবন্দরের ১ নম্বর টার্মিনালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন জুবাইদা খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম। একই স্থানে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের ফুল ও করতালি দিয়ে স্বাগত জানান নিউইয়র্ক মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান সেলিম রেজার নেতৃত্বে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের অনেক নেতাকর্মী। প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের পুষ্পস্তবক ও উষ্ণ অভ্যর্থনায় বরণ করে নেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব জানান, বিমানবন্দর থেকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে প্রধানমন্ত্রীকে ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। হোটেলে তাকে স্বাগত জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান ও ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপির সভাপতি বদরুল আলম চৌধুরী শিপলু, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান ভূঁইয়া মিল্টন, গিয়াস আহমেদ প্রমুখ।

জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ হোটেলে অবস্থান করবেন। নিউইয়র্কের কর্মসূচি শেষে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে দেশের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী।

বিমানবন্দরে নেতাকর্মীদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক আগমন কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিএনপি ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। এ উপলক্ষে তারা নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে আনন্দ ও স্বাগত মিছিল করেছে। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনগুলোর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই মিছিলে অংশ নেন হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশি। এই কর্মসূচির প্রধান সমন্বয়ক ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন।

সরেজমিন দেখা গেছে, জেএফকে বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৮ এর চত্বরে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী জড়ো হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে নানা ধরনের স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় তাদের হাতে থাকা রং-বেরঙের পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন, জাতীয় পতাকা এবং বিএনপির দলীয় পতাকায় ছেয়ে যায় চারপাশ। প্রবাসীরা করতালি ও উল্লাসের মাধ্যমে প্রিয় নেতাকে স্বাগত জানান। এ সময় নিউইয়র্ক সিটি পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে।

আনন্দ মিছিলের আগে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান ভুঁইয়া মিল্টন, গিয়াস আহমেদ, আব্দুল লতিফ সম্রাট, জিল্লুর রহমান জিল্লু, নিউ ইংল্যান্ড (বোস্টন) বিএনপির সভাপতি সৈয়দ বদরে আলম (সাইফুল), ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপির সভাপতি বদরুল আলম চৌধুরী শিপলু, নিউইয়র্ক মহানগর বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা, বিএনপি নেতা আখতার হোসেন বাদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক মাকসুদুল ইসলাম চৌধুরী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফোরাম, যুক্তরাষ্ট্রের মোতাহার হোসেন, যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা তোফায়েল আহমেদ লিটন, স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা রাশেদ রহমান, এনামুল হক ভিকি ও বাদল মির্জাসহ অসংখ্য নেতাকর্মী।

প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর ইতিহাসের অংশ, বললেন মাহদী আমিন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের বার্তা তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন তার উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, দেশপ্রেম, আবেগ, অনুভূতি এবং আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে দেশের ভবিষ্যৎ রূপকল্প কী হওয়া উচিত, কীভাবে বাংলাদেশের স্বার্থকে সুরক্ষিত রাখতে হবে এবং কীভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করা যাবে, সেগুলো বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর সোমবার রাতে ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ হোটেলের লবিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি ঐতিহাসিক সফরে নিউইয়র্কে এসেছেন। দীর্ঘদিন পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি প্রতিনিধিত্বমূলক সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি আমন্ত্রিত হয়ে এসেছেন, যা একটি ইতিহাসের অংশ।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবির, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি ওয়াহিদুজ্জামান, নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান ভুঁইয়া মিল্টন, গিয়াস আহমেদ ও ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপির সভাপতি বদরুল আলম চৌধুরী শিপলু প্রমুখ।

ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাইডলাইন বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী: নিউইয়র্কে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাইডলাইন বৈঠক করেছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে। গতকাল সকালে সাইডলাইনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব এ কে এম নাজমুল হক।

তিনি জানান, বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্ব ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করা, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

এ ছাড়া তারেক রহমানের সঙ্গে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাইডলাইন বৈঠক করেছেন বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা। মঙ্গলবার সকালে দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এসব তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব এ কে এম নাজমুল হক।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com