

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই পদত্যাগ করেছেন বলে এবার জানালেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও সদ্য পদত্যাগ করা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশেই তিনি মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন এবং এটিকে তিনি জীবনের ‘সেরা পরামর্শ’ হিসেবে দেখছেন।
আজ বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব তথ্য জানান।
পোস্টে ইশরাক লেখেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়ে এযাবৎকালের সেরা পরামর্শটি দিয়েছিলেন, যা আমি একবাক্যে মেনে নিয়েছিলাম।’
তিনি লেখেন, ‘প্রথমে শাস্তি মনে হয়েছিল কিন্তু সবার আগে তিনিই পরিষ্কার বুঝে ফেলেছিলেন যে একটি গণমাধ্যম ও কমন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী আমার জন্য অত্যন্ত শক্তিশালী ও ক্ষতিকর একটি পরিকল্পনা সাজিয়ে রেখেছে। পুরো ছক তৈরি করা হয়েছিল, যার মাধ্যমে একটার পর একটা বিধ্বংসী প্রতিবেদন ও মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে আমার চরিত্র হনন করা হতো এবং আমাকে জণগণের তুমুল সমালোচনার মুখে ফেলা হতো।’
‘এবং আমার শুভাকাঙ্খী সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করে আমাকে একঘরে করে ফেলতো। এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হতো, যাতে হয়তো আমার রাজনৈতিক জীবনের ইতি টানতে হতো। একই চক্র অতীতে তার বিরুদ্ধে কী ভয়াবহ অন্যায় পরিকল্পনা করেছিল, সেটাও তিনি মনে করিয়ে দিয়েছিলেন’, লেখেন বিএনপির এই নেতা।
তিনি আরও লেখেন, ‘আমি তার প্রতি অন্ধ বিশ্বাস রাখা একজন কর্মী। আল্লাহর রহমতে দেশনায়ক তারেক রহমান আমাকে ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহের চোখে দেখেন এবং সবসময় আমার জন্যে কোনটা ভালো সেটি চিন্তায় রাখেন। যার প্রমাণ আমি জীবনে বার বার পেয়েছি।’
ইশরাক লেখেন, ‘আমার শুভাকাঙ্ক্ষী সবাইকে বলতে চাই, আমি একটি কঠিন কাজ শুরু করতে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে সূত্রপাত হওয়া এক ভয়াবহ চক্রান্ত থেকে নিজেকে পাশ কাটিয়ে রক্ষা করতে পেরেছি।’
‘এই কথাগুলো আমি কেবল একটা স্ট্যাটাস দেওয়ার জন্য বলছি না। সবাই আমার কথাগুলো দেখবে। আমি শুধু অবাক হয়ে কয়েক দিন আগে বলা তার কথাগুলোর সঙ্গে আজকের পরিস্থিতি মিলিয়ে দেখছি’, সাবেক প্রতিমন্ত্রী।
পোস্টের শেষে নিজ দলের ভেতরে থাকা ষড়যন্ত্রকারীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে ঢাকার এই সংসদ সদস্য লেখেন, ‘নিজ দলের সুযোগসন্ধানী কেউ যদি আঁতাতকারী হয়, প্রমাণ সাপেক্ষে, অনুমতি নিয়েই পা**** চা**** তুলে নেবো। আমরা ঢাকার মানুষ, খেত-খামারির কূটচাল এখানে চলবে না।’