

দেশে হাম ও হাম উপসর্গে শিশুমৃত্যু থামছেই না। প্রতিদিনই প্রাণ হারাচ্ছে শিশুরা। প্রতিরোধযোগ্য এ ছোঁয়াচে রোগে হাজারেরও বেশি নিষ্পাপ শিশুর অকালমৃত্যু দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য নিশ্চিতভাবেই উদ্বেগের।
সাত মাসের বেশি সময় ধরে চলা হামের এ প্রাদুর্ভাবে এরই মধ্যে ১ হাজার ২১৪ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। এর মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে ১০৪ এবং এর উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১ হাজার ১১০ জন। একটি আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় প্রতিষেধক টিকা বা ভ্যাকসিন চলমান থাকা সত্ত্বেও হামের চিকিৎসায় এ বিপর্যয় অত্যন্ত দুঃখজনক। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের পাশাপাশি নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও অপুষ্টির মতো জটিলতায় শিশুরা ভিড় করছে। ফলে একদিকে যেমন শিশুদের প্রাণহানি ঘটছে, অন্যদিকে ডেঙ্গু মৌসুমের ভিড়ে হাসপাতালগুলোয় শয্যা সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। অভিভাবকরা অসুস্থ শিশুকে নিয়ে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটছেন, যা একটি সুষ্ঠু স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত পীড়াদায়ক দৃশ্য। হামের এ দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এবং ধারাবাহিক মৃত্যুর পেছনে মূল কারণগুলোর গোড়ায় যাওয়া জরুরি। শনিবার কালবেলায় প্রকাশিত এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন অনুসারে, বিরাটসংখ্যক শিশু হামের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি থেকে বাদ পড়ার কথা জানা যায়। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) থেকে কেন এবং কীভাবে এত বড় সংখ্যক শিশু বাদ পড়ল, তা খুঁজে বের করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাদ পড়া শিশুদের দ্রুত চিহ্নিতকরণ, ঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্গম এলাকাগুলোয় জরুরিভিত্তিতে গণটিকাদান জোরদার করা এবং হাসপাতালগুলোয় শিশু রোগীদের কার্যকর শয্যা ও চিকিৎসাসুবিধা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। শুধু পরিসংখ্যান প্রকাশ করার মাধ্যমেই দায়িত্ব শেষ হতে পারে না। কোন বয়সের শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে, মৃতদের টিকাদানের ইতিহাস কেমন ছিল এবং কোন অঞ্চলে সংক্রমণের হার বেশি, এসব তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হবে। একই সঙ্গে অভিভাবকদের সচেতন করতে হবে, যেন প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দেওয়া মাত্রই শিশুকে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। মনে রাখতে হবে যে, হাম সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগ। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, এখন রোগ শনাক্তকরণ ও নজরদারি জোরদার করার পাশাপাশি প্রতিটি শিশুকে টিকাদানের আওতায় আনা অপরিহার্য। অবশ্য এ অপরিহার্য হামের টিকা নিয়ে বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের মূল কথা হচ্ছে, তৎকালীন সরকারের এ বিষয়ক উদাসীনতা ও দায়িত্বহীনতারই মূল্য চোকাতে হচ্ছে শিশুদের প্রাণ দিয়ে।