

নির্বাচনবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে ক্ষতি করতে পারে—এমন কনটেন্ট তৈরি ও প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি ভোটারদের আকৃষ্ট বা প্রভাবিত করতে অর্থ লেনদেন, খাদ্য-পানীয় পরিবেশন কিংবা উপহারসামগ্রী বিতরণের ওপর কড়া কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
ধর্মীয় উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি কার্যালয়ে যেকোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা চালানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া ধর্মের অপব্যবহার, পেশিশক্তির প্রয়োগ কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা ও ব্যক্তিগত চরিত্রহননমূলক অপপ্রচার পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।
সরকারি সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে কোনো প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারবেন না। সরকারি যানবাহন, মাইক বা অন্য কোনো সরকারি সম্পত্তি প্রচার কাজে ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেওয়ার ওপরও কড়াকড়ি থাকছে।
নির্বাচনের দিন ভোটারদের আনা-নেওয়ার জন্য কোনো ধরনের যানবাহন ভাড়া বা ব্যবহার করা যাবে না। প্রচারণায় নির্ধারিত সীমার বাইরে নির্বাচনী ক্যাম্প স্থাপন ও মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিমালার সুনির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হবে।
নতুন বিধিমালায় নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ক্ষমতা আরো বাড়ানো হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা তার নির্বাচনি এজেন্ট আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন কিংবা লঙ্ঘনের চেষ্টা করছেন বলে মনে হলে ইসি বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে পারবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এবং অপরাধ গুরুতর হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলেরও সুযোগ রয়েছে।
তাছাড়াও নির্ধারিত ব্যয়সীমা লঙ্ঘন, অর্থ কিংবা পেশিশক্তির মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিতকরণ এবং সরকারি সম্পদের অপব্যবহারপূর্বক প্রচারণা পরিচালনাকে নতুন বিধিমালায় দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
নির্বাচন কমিশনের এই নতুন বিধিমালার মূল উদ্দেশ্য হলো উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে আরো অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক করা এবং সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। বিশেষ করে পোস্টার, মিছিল ও শোডাউন বন্ধ রাখা এবং ডিজিটাল মাধ্যমে এআইনির্ভর অপপ্রচার ঠেকানোর মতো বিধানগুলো এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।