

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভোট উপজেলাভিত্তিক হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। এ ক্ষেত্রে একটি উপজেলার সব ইউনিয়নে একই সঙ্গে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।
আজ সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
আখতার আহমেদ বলেন, ‘ইউপি নির্বাচন একাধিক ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। তবে কত ধাপে নির্বাচন হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। পাঁচ বা ছয় ধাপসহ বিভিন্ন সম্ভাবনা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।’
ইসি সচিব বলেন, ‘একটি উপজেলায় যতগুলো ইউনিয়ন রয়েছে, সেগুলো একই ধাপে নির্বাচন করার পরিকল্পনা রয়েছে। কারণ, একই উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে এক ধাপে এবং বাকি ইউনিয়নে অন্য ধাপে ভোট হলে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। এ ধরনের ঝুঁকি কমাতেই উপজেলাভিত্তিকভাবে সব ইউনিয়নে একই সময়ে ভোট নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।’
তবে এটি এখনো নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কমিশনই নেবে। একইভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল কবে ঘোষণা করা হবে, সে বিষয়েও এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান ইসি সচিব।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিধিমালা ও আচরণবিধি প্রসঙ্গে আখতার আহমেদ জানান, সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা, জেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের বিধিমালা ও আচরণবিধি পর্যালোচনার জন্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ উইংয়ে পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকে ফাইল ফেরত এসেছে। এখন কোনো পর্যবেক্ষণ বা পরিবর্তন এসেছে কি না, তা পর্যালোচনা করা হবে।
স্থানীয় নির্বাচনে পোস্টারের ব্যবহার না রাখার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে বলে জানান তিনি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় যেসব বিষয় কার্যকর বা ভালো ফল দিয়েছে, সেগুলোর কিছু স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিধিমালা ও আচরণবিধিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও কাজ চলছে।
এদিকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের তফসিল চলতি সপ্তাহে ঘোষণা হতে পারে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ। তবে তিনি এটিকে কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়, সম্ভাব্য সময় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এর আগে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছিলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের জন্য কমিশন প্রস্তুতি নিচ্ছে। নির্বাচনে আইটি-সমর্থিত পোস্টাল ভোটিংয়ের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। আশা রাখি, আমরা অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আমরা শিডিউলটা ডিক্লেয়ার করতে পারব। নির্বাচন পূজা, পরীক্ষা ইত্যাদি বিবেচনায় নিয়ে তারিখ নির্ধারণ করা হবে।
গত ২২ আগস্ট জাতীয় সংসদ সচিবালয় ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করে। সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২১ আগস্ট রাষ্ট্রপতি হিসেবে কার্যভার গ্রহণ করায় সংবিধানের ৫০(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ওই দিন থেকেই তাঁর সংসদীয় আসনটি শূন্য হয়।
সংবিধানের ১২৩(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ ভেঙে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনো কারণে কোনো সংসদীয় আসন শূন্য হলে সাধারণভাবে শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে ওই আসনে নির্বাচন আয়োজনের বিধান রয়েছে।
সে অনুযায়ী ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। তবে ভোটের দিনক্ষণ ও পূর্ণাঙ্গ তফসিল নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরই চূড়ান্তভাবে জানা যাবে।