

লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করা একটি সন্দেহভাজন রুশ ড্রোন ভূপাতিত করেছে ন্যাটোর মিশনে থাকা ইতালীর একটি যুদ্ধবিমান। মঙ্গলবার দেশটির মধ্যাঞ্চলে প্রাটকুনাই এলাকার কাছে ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয়।
বার্তাসংস্থা আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে লিথুয়ানিয়ার জাতীয় সংকট ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের বরাতে জানান হয়, ড্রোনটি বেলারুশের দিক থেকে দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করে। ঘটনাস্থলটি দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর কাউনাসের উত্তরে অবস্থিত।
লিথুয়ানিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রোবার্তাস কাউনাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, ড্রোনটিতে বিস্ফোরক ছিল। তবে ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করে এটি রাশিয়ার নাকি অন্য কোনো দেশের ড্রোন, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
ঘটনাস্থলে থাকা সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর কাউনাস বলেন, ইতালীয় যুদ্ধবিমানের এই হস্তক্ষেপ ‘আটলান্টিক জোটের গুরুত্ব’ এবং মিত্র হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি স্পষ্ট করেছে।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন ঘটনাটিকে ইউরোপের বিরুদ্ধে ‘আগ্রাসন ও উসকানির’ ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ওয়াডেফুলও এ ঘটনায় রাশিয়াকে দায়ী করে বলেন, ন্যাটোর সদস্যদের ভয় দেখিয়ে দমিয়ে রাখা যাবে না। তবে এ বিষয়ে রাশিয়ার কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি।
এর আগে সোমবার বাল্টিক সাগরে রুশ একটি যুদ্ধজাহাজ পর্যবেক্ষণকারী ডেনিশ সামরিক হেলিকপ্টারের দিকে রাশিয়া থেকে ফ্লেয়ার ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। এর পরদিনই লিথুয়ানিয়ার আকাশে ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনা ঘটে।
পোল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিস্লাভ কোসিনিয়াক-কামিশ মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেখিয়ে দিচ্ছে যে রাশিয়ার কর্মকাণ্ড পুরো ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে।
এদিকে রোববার রুশ ড্রোন হামলার পর ইউক্রেনকে আরও সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে। ওই হামলার সময় পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে একটি ট্রেনে আঘাত হানে রুশ ড্রোন। হামলার কয়েক মিনিট আগেই যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধি দল ওই স্টেশন অতিক্রম করেছিল।
সংবাদ সম্মেলনে লিথুয়ানিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাউনাস সতর্ক করে বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এখন ইউরোপের অন্য এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়েছে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকতে পারে। তাঁর দাবি, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শান্তিপূর্ণ সমাধান চান না।