রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৬ অপরাহ্ন

সিজেপির অভিজিৎ দীপকেসহ তিন নেতা মুক্ত

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৯ বার

ভারতের ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) তিন নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে মুক্তি দিয়েছেন স্থানীয় আদালত। রোববার সকালে তাদের প্রতিরোধমূলকভাবে আটক করা হয়েছিল।

এর আগে শনিবার দিল্লিতে অবতরণের পর উড়োজাহাজের ভেতর থেকেই তাদের আটক করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

মুক্তির শর্ত হিসেবে আগামী এক বছর এমন কোনো কাজ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণ হতে পারে। রোববার সকালে দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে নেওয়া হয় ওই তিন নেতাকে।

ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান বিক্ষোভের দ্বিতীয় দিনে তাদের আটক করা হয়।

শনিবার রাজনীতিবিদসহ তিন হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ। পরে রাতে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। দিল্লির কেন্দ্রস্থল জন্তর মন্তরে বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে রাজধানীজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলে পুলিশ। এতে বিক্ষোভকারীরা শহরের বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট দলে জড়ো হতে বাধ্য হন।

শনিবার রাতে মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিও। তিনি কংগ্রেসের সংসদ সদস্য রাহুল গান্ধীর সমর্থক এবং ক্ষমতাসীন এনডিএ সরকারের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত।

রোববারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হতে পারে দিল্লির মেট্রোর স্টেশন ও ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদনে সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ শুনানি।

রোববার সকালে মেট্রো চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও প্রবেশ ও বের হওয়ার প্রতিটি পথে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। আটক ব্যক্তিদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য কাছাকাছি এলাকায় বাসও রাখা হয়েছে।

শুক্রবার ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও ভি মোহনার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছিলেন, শনিবারের বিক্ষোভের আগে মেট্রো চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করা যাবে না।

ককরোচ জনতা পার্টির নেতারা জানিয়েছেন, ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি ভোট মুছে ফেলা ও কারসাজির অভিযোগের জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে বিক্ষোভ চলবে। তাদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ জমায়েত ঠেকাতে রাজধানীতে ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’ জারি করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী অভিজিৎ দীপকে ককরোচ জনতা পার্টি গঠন করেন। চিকিৎসাশিক্ষায় ভর্তির পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় প্রতিবাদের নেতৃত্ব দিতে তিনি ভারতে ফিরেছিলেন। ওই আন্দোলনের ফলে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদও ঝুঁকিতে পড়তে পারত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন বিরোধী দলের সমর্থন রয়েছে সংগঠনটির প্রতি।

তবে ক্ষমতাসীন বিজেপি ককরোচ জনতা পার্টিকে বিরোধী শক্তির একটি অংশ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। দলটির অভিযোগ, সংগঠনটি দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। বিজেপির সভাপতি নীতিন নবীন অভিযোগ করেছেন, ‘বিদেশি শক্তির নির্দেশে’ বিরোধী গোষ্ঠীগুলো ভারতের ক্ষতি করতে চাইছে।

অন্যদিকে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, ‘গণতন্ত্রে প্রত্যেক ব্যক্তিরই ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার রয়েছে।’ তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘নৈরাজ্য ছড়ানো কারও অধিকার নয়।’

তার মতে, তরুণ প্রজন্মের কেউ কেউ সাময়িকভাবে বিভ্রান্ত হতে পারে, কিন্তু ‘জাতি গঠনের লক্ষ্য থেকে তাদের কখনোই বিচ্যুত করা যাবে না।’

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com