রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ০৪:০৮ অপরাহ্ন

ছোট ছেলে হত্যায় বড় ছেলের ফাঁসি চান মা

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২১
  • ২২৬ বার

পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে সালাহউদ্দিন কামরুল দ্বিতীয় আর চতুর্থ নেজামউদ্দিন মুন্না। চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলীর সরাইপাড়া বারো কোয়ার্টার এলাকায় তিনতলা পৈত্রিক বাড়ির দ্বিতীয় তলায় বাস করেন কামরুল। ছোট ভাই মুন্না থাকেন ওই বাড়িরই পাশের একটি কক্ষে। এই বাড়ি নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে দুই ভাইয়ের মধ্যে চলছিল উত্তেজনা।

তাদের মা জিন্নাত আরার অভিযোগ, বিরোধের জেরে মুন্নাকে দীর্ঘদিন ধরে খুনের চেষ্টা করছিলেন কামরুল। এ জন্য মুন্নার দিকে নজর রাখতে তিনি বাড়িতে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরাও লাগান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ছেলেকে বাঁচাতে পারেননি। গতকাল বুধবার চট্টগ্রামে সিটি নির্বাচনের ডামাডোলের মধ্যে সকাল ৮টার দিকে বারো কোয়ার্টার এলাকায় মুন্নাকে ছুরিকাঘাতের পর গলা কেটে হত্যা করে কামরুল ও তার সঙ্গীরা। জানা গেছে, নিহত মুন্না নগরীর ১২ নম্বর ওয়ার্ড বারো কোয়ার্টারপাড়া এলাকার আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থী সাবের আহমেদের নির্বাচনী এজেন্ট ছিলেন।

অন্যদিকে তার বড় ভাই কামরুল ছিলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী নুরুল আলম কালুর কর্মী। সকালে মুন্না ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সময় বাড়ি থেকে কয়েকশ গজ দূরে তার ওপর এই হামলা হয়। এ ঘটনায় সাবের আহমেদ অভিযোগ করে বলেছেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার নির্বাচনী এজেন্ট মুন্নাকে হত্যা করেছে কাউন্সিলর প্রার্থী কালু সমর্থকরা। এ জন্য তারা নির্বাচনী উত্তেজনার সুযোগকে ব্যবহার করেছে।

গতকাল সকালে বাসায় গিয়ে দেখা যায়, মুন্নার স্ত্রী নাসরিন আক্তার সুমি একজন মূক প্রতিবন্ধী। স্বামীর এই ঘটনার পর তিনি আহাজারি করছেন। তখন তার কোলে ছিল তাদের সন্তান তিন বছরের শিশু বিবি মরিয়ম জাহরা ও এক বছরের আল ইব্রাহিম। সুমি ইশারায় বোঝানোর চেষ্টা করেন, কীভাবে তার স্বামীকে গলা কেটে খুন করেছে তার আপন বড় ভাই।

নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, কামরুল ও মুন্নার বাবার নাম গিয়াসউদ্দিন আহমদ। তাদের মা জিন্নাত আরার অভিযোগ, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে কামরুল প্রায় ১০ বছর আগে বড় ভাই সাইফুদ্দিন এমরানকেও ছুরিকাঘাত করেছিলেন। এর পর এমরান প্রাণভয়ে পৈত্রিক বাড়ি ছেড়ে অন্য জায়গায় ভাড়া বাসায় চলে যান। তবে তার অন্য তিন ছেলে মহিউদ্দিন মনি, মুন্না ও মিনহাজউদ্দিন মানিক পৈত্রিক বাড়িতে থাকেন। এর মধ্যেই পুরো বাড়িটি লিখে দেওয়ার জন্য কামরুল বিভিন্ন সময় বাবা-মাকে চাপ দিতেন। বাধ্য হয়ে তারা বাড়িটি তার নামে লিখেও দেন। কিন্তু ভাইয়েরা বের হয়ে না যাওয়ায় এ নিয়ে শুরু হয় অশান্তি। এক পর্যায়ে কামরুলের সঙ্গে মুন্নার দ্বন্দ্ব হয়, তার সঙ্গে যোগ হয় এবারের নির্বাচনের উত্তেজনা।

মা জিন্নাত আরা ও বাবা গিয়াসউদ্দিন বলেন, দ্বন্দ্বের জেরে ভোটের উত্তেজনার মধ্যে মুন্নাকে খুন করার পরিকল্পনা করেছিল কামরুল। তা বুঝতে পেরে আগের দিন মঙ্গলবার ফেসবুকে এ নিয়ে একটি স্ট্যাটাসও দেয় মুন্না। সেখানে তিনি লেখেন- তার খুব ভয় হচ্ছে, সে খুন হতে পারে। জিন্নাত আরা জানান, সকালে নির্বাচনী কেন্দ্রে যেতে বাসা থেকে বের হওয়ার পরেই কামরুল ও তার সঙ্গীরা মুন্নাকে ঘিরে ফেলে। ওই সময় মুন্না চিৎকার করে কামরুলের কাছে প্রাণভিক্ষা চাইছিল। সে বলছিল- ভাই ক্ষমা করো, আমার বোবা স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তানের দিকে তাকিয়ে অন্তত আমাকে ক্ষমা করো। কিন্তু সে অনুনয় কামরুলের পাষান হৃদয়কে গলাতে পারেনি। মুহূর্তের মধ্যে সে মুন্নার পেটে ছুরিকাঘাত করে। পরে সহযোগীদের নিয়ে কামরুল গলা কেটে খুন করে মুন্নাকে।

জিন্নাত আরা বলেন, আমি আমার ছেলে কামরুলের ফাঁসি চাই। আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই, যাতে আর কোনো পরিবারে এ ধরনের নিষ্ঠুর ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়। আমি কামরুলের নামে মামলা করব।

গোটা বিষয়ে পাহাড়তলী থানার ওসি হাসান ইমাম বলেন, মূলত পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে ঘটেছে এই হত্যাকা-। তবে খুনিরা নির্বাচনী উত্তেজনার সুযোগকে কাজে লাগিয়েছে। এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। আমরা হত্যাকারীদের ধরার চেষ্টা করছি।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com