

দেশে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে করোনা সংক্রমণ ৬৬ ও মৃত্যু ৭১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। সংক্রমণের দ্বিতীয় টেউয়ে এমন ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে কোনোভাবেই এর লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন সরকার। এ অবস্থায় করোনা নিয়ন্ত্রণে আবার লকডাউনের দিকে যাচ্ছে সরকার।
গত বছর মার্চে প্রাদুর্ভাবের পর প্রথমে বাড়তে থাকা করোনা জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে সংক্রমণ হার ২ থেকে ৩ শতাংশে নেমে আসে। কিন্তু এ বছরের মার্চে শুরু থেকে সংক্রমণ বাড়তে থাকে এবং গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা শনাক্তের হার ২৩ দশমিক ১৫ শতাংশ ওঠে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, দেশে সপ্তাহের ব্যবধানে করোনার নমুনা পরীক্ষা থেকে শুরু করে রোগী শনাক্তসহ মৃত্যু বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে নতুন রোগী শনাক্ত ৬৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং মৃত্যু ৭১ দশমিক ১৪ শতাংশ বেড়েছে।
করোনা সাপ্তাহিক সংক্রমণ পরিস্থিতির তথ্য বলছে, এক সপ্তাহে (২৮ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত) নুমনা পরীক্ষা হয়েছে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৯৬৭টি। এসব নমুনা থেকে রোগী শনাক্ত হয়েছে ৩৮ হাজার ৪৭১ জন। একই সময়ে মারা গেছে ৩৪৪ জন এবং সুস্থ হয়েছে ১৫ হাজার ৮৫৩ জন। এর আগের সপ্তাহে (২১ মার্চ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত) ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৮৩টি নমুনা পরীক্ষা করে রোগী শনাক্ত হয় ২৩ হাজার ১০০ জন। একই সময়ে মারা গেছে ২০১ এবং সুস্থ হয়েছে ১৩ হাজার ২০৪ জন।
করোনার সাপ্তাহিক সংক্রমণ পরিস্থিতির তুলনামূলক চিত্র বলছে, সপ্তাহের ব্যবধানে নমুনা সংগ্রহ ৪ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ বাড়লেও রোগী শনাক্ত বাড়ে ৬৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ। আর মৃত্যু বেড়েছে ৭১ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং সুস্থতা বেড়েছে ২০ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ২৪ হাজার ৫৪৮টি। এর মধ্যে শনাক্ত হয়েছে ৫ হাজার ৬৮৩ জন। পরীক্ষায় রোগী শনাক্তের হার ২৩ দশমিক ১৫ শতাংশ। দেশে এখন পর্যন্ত ৪৭ লাখ ৫২ হাজার ৬৬১টি নমুনা পরীক্ষা করে রোগী শনাক্ত হয়েছে ৬ লাখ ৩০ হাজার ২৭৭ জন। মোট নমুনা পরীক্ষায় রোগী শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ২৬ শতাংশ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে ৫৮ জন। এর মধ্যে ৩৮ জন পুরুষ এবং ২০ জন নারী। মৃতদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৬০ বছরের বেশি বয়সী ৩৪, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১৬ এবং ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৪ জন এবং ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ৪ জন রয়েছে।
মৃতদের অঞ্চল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে ৩৯, চট্টগ্রামে ১২, খুলনায় ৩, বরিশালে ২, রংপুরে ১ এবং ময়মনসিংহে ১ জন রয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছে ২ হাজার ৩৬৪ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এক মাসের হিসাবে দেশে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয় গত বছর জুনে। ওই মাসে ৯৮ হাজার ৩৩০ জনের শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। এর পর সংক্রমণ কমতে কমতে ফেব্রুয়ারিতে তা নেমে এসেছিল ১১ হাজার ৭৭ জনে। আর মার্চে তা এক ধাক্কায় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫ হাজার ৭৯ জনে। করোনার মহামারীর শুরুর পর সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে গত বছরের জুলাই মাসে। সেই মাসে মারা গেছে ১ হাজার ২৬৪ জন। সংক্রমণ কমে যাওয়ার পর গত ফেব্রুয়ারি মাসে তা নেমে এসেছিল ২৮১ জনে। আর মার্চে মাসে আবার মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৩৮ জনে।