

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আরও দুই হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। মামলা দুটি একটি রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও অপরটি আদাবর থানা।
আজ সোমবার ঢাকার সিএমএম আদালতে আদাবর ও যাত্রাবাড়ী থানার এই মামলাগুলোতে গ্রেপ্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন বিচারক।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
যাত্রাবাড়ী থানাধীন এলাকায় শিক্ষার্থী মো. আরিফ হত্যা মামলায় গত ১০ মার্চ তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক মো. মাহমুদুল হাসান এবং গত ২৯ এপ্রিল আদাবর থানাধীন এলাকায় গার্মেন্টস কর্মী রুবেল হত্যা মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক মোহাম্মদ টিপু সুলতান আসামি খায়রুলকে গ্রেপ্তার দেখানো আবেদন করেন।
এদিন সকালে খায়রুল হককে কারাগার থেকে এনে সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। পৌনে ১২ টায় পুলিশের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে তাকে আদালত উঠানো হয়। শুনানিকালে তিনি নিশ্চুপভাবে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ছিলেন।
প্রথমে রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী গ্রেপ্তার দেখানো পক্ষে শুনানি করেন। আর আসামি পক্ষে আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহিন গ্রেপ্তার দেখানোর বিরোধিতা করে শুনানি করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।
যাত্রাবাড়ী থানার মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে যাত্রাবাড়ীর উত্তর কুতুবখালীর বউবাজার রোডে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচার গুলি ছোড়েন আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। লর্ড হার্ডিঞ্জ সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী মো. আরিফের চোখের নিচে গুলি লাগে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা হয়।
আদাবর থানার রুবেল হত্যা মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রুবেলসহ কয়েকশ ছাত্র-জনতা সকাল ১১ টার দিকে আদাবর থানাধীন রিংরোড এলাকায় প্রতিবাদী মিছিল বের করে। এ সময় পুলিশ, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, তাঁতীলীগ, কৃষকলীগ, মৎসজীবী লীগের নেতাকর্মীরা গুলি চালায়। এতে গার্মেন্টস কর্মী মো. রুবেল গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান তিনি।এ ঘটনায় ২২ আগস্ট আদাবর থানায় মামলাটি করেন রুবেলের বাবা রফিকুল ইসলাম।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের প্রায় এক বছর পর ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে জুলাই আন্দোলনকালে হত্যাসহ একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।
রায় জালিয়াতির অভিযোগের মামলাসহ পৃথক চার মামলায় গত ৮ মার্চ খায়রুল হককে জামিন দেন হাইকোর্ট। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় ১১ মার্চ তাকে হাইকোর্ট জামিন দেন।
এরপর তার আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহীন বলেছিলেন, সাবেক এই প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি মামলা রয়েছে। সব কটিতে তিনি জামিন পাওয়ায় তার কারামুক্তিতে আইনগত বাধা নেই। এরপরই খায়রুল হককে দু২ টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে পুলিশ।