

করোনাভাইরাস ও উপসর্গ নিয়ে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন সাতজন। আর উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ১১ জন। ভর্তির পর করোনার নমুনা পরীক্ষার আগেই তাদের মৃত্যু হয়। এছাড়া করোনা নেগেটিভ হওয়ার পরও শ্বাসকষ্ট নিয়ে একজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টার মধ্যে বিভিন্ন সময়ে মারা গেছেন। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ফলে রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে একদিনের ব্যবধানে মৃত্যুর সংখ্যা আবারো বাড়ল।
রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী সাংবাদিকদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, মৃতদের মধ্যে নয়জন পুরুষ ও ১০ জন নারী। এদের মধ্যে রাজশাহীর সাতজন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের চারজন, নাটোরের পাঁচজন, নওগাঁর দু’জন ও পাবনার একজন। এর মধ্যে ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সের মধ্যে একজন, ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সের মধ্যে তিনজন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে দু’জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে পাঁচজন ও ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে আটজনের মৃত্যু হয়েছে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় রামেক হাসপাতালে নতুন ভর্তি হয়েছেন ৪৭ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩০ জন। রামেক হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত হয়ে ১৭৩ জন ও উপসর্গ নিয়ে ২১৯ জন ভর্তি রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ৫১৩টি শয্যার বিপরীতে রোগী ভর্তি ছিলেন ৩৯২ জন।’
তিনি বলেন, ‘রামেক হাসপাতালের পিসিআর মেশিনে ১৮৮টি নমুনা পরীক্ষায় ৬০ জনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। আর রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের পিসিআর মেশিনে ৩৬৭ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৭৫ জনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। দুই ল্যাবে মোট ৫৫৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে ১৩৫ জনের করোনা পজিটিভ ফল আসে। পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ২৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ।’
এদিকে, রামেক হাসপাতাল সূত্র জানায়, রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চলতি আগস্টের প্রথম তিনদিনে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত মোট ৫২ জনের মৃত্যু হলো। আর গত জুলাইয়ে (৩১ জুলাই) সকাল ৮টা পর্যন্ত মোট ৫৩৫ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়া গত জুনে রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মারা গেছেন ৪০৫ জন রোগী।