

ডিস ব্যবসায়ী স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা করেন স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমিক পিন্টু। এ হত্যার মিশন সফল করতে পাহারা দেন স্ত্রী সুলতানা আক্তার কেমিলি। আশুলিয়ায় নিজ ঘরে ডিস ব্যবসায়ী এলিম সরকারকে (৪২) হত্যার অভিযোগে ঘটনার পাঁচ মাস পরে তার স্ত্রীসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেফতারকৃতরা হলেন এলিম সরকারের স্ত্রী সুলতানা আক্তার কেমিলি (৩০) ও তার প্রেমিক মোহাম্মদ রবিউল করিম পিন্টু (৩৫)। পিন্টু নাটোর জেলার গুরুদাসপুরের তেলটুপি গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে। পিন্টু জামগড়া পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের লাইনম্যান ছিলেন ও আশুলিয়ার জামগড়ার বেরন এলাকায় বসবাস করতেন।
গত ২৮ মার্চ এলিম সরকারকে পরকীয়া প্রেমিকের সহায়তায় হত্যার পর পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের বিভ্রান্ত করতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার স্ত্রী। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলনও করেন তিনি। নিহত এলিম সরকার আশুলিয়ার কাঠগড়া সরকারবাড়ি এলাকার হাজী ফজল সরকারের ছোট ছেলে।
জানা গেছে, নিহতের স্ত্রী তার নানাবাড়ি কাঠগড়া থেকে লেখাপড়া করার সুবাদে এলিম সরকারের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ১৪ বছর আগে বিয়ে করে তারা দাম্পত্য জীবন শুরু করেন। কিন্তু ২০১৯ সাল থেকে পিন্টুর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। পরে পরকীয়া সম্পর্কের পথের কাঁটা তার স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিগত ২৮ মার্চ সকালে ঘুমের মধ্যেই এলিম সরকারকে কুপিয়ে হত্যা করেন স্ত্রী, তার প্রেমিকসহ সহযোগীরা। এর আগে দুইজন ভাড়াটে খুনিকে ভুক্তভোগীর বাসায় ভাড়া থাকার ব্যবস্থা করে দেয় পিন্টু। তবে ভাড়াটে খুনিরা ব্যর্থ হয়।
পিবিআই জানায়, এলিম সরকারের বাসায় বিদ্যুতের মিটার লাগানোর কাজ করতে এসে নিহতের স্ত্রীর সঙ্গে ২০১৯ সালে পরিচয় হয় পিন্টুর। এরপর তাদের মধ্যে পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি ইলিম সরকার জানতে পারলে তাদের মধ্যে দাম্পত্যকলহের সৃষ্টি হয়। এই ঘটনা এলিম সরকার তার স্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের জানাবেন বলে হুমকি দেন। পরে হত্যাকাণ্ডের সাত দিন আগে এলিম সরকারকে খুনের পরিকল্পনা করেন তার স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিক পিন্টু। পরিকল্পনা অনুযায়ী রাতে স্বামী ইলিম সরকারকে দই ও মিষ্টির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাইয়ে দেন তার স্ত্রী। পরে সকালে পিন্টুসহ তার সহযোগী ঘরে ঢুকে এলিম সরকারকে হত্যা করেন। এ সময় তার স্ত্রী দরজার সামনে দাঁড়িয়ে পাহারা দেন। হত্যাকাণ্ড ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করার জন্য ডিস ব্যবসার কোন্দলের বিষয়টি তখন প্রচার করেন স্ত্রী।
এ বিষয়ে পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: আবু ইউছুফ বলেন, এ ঘটনায় পিন্টুর সহযোগীকে আটকের চেষ্টা চলছে। আটকের আগে তার নাম ও পরিচয় প্রকাশ করা যাচ্ছে না।