সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১৪ অপরাহ্ন

প্রবাসী শ্রমিকদের টিকা জটিলতা দীর্ঘ হচ্ছে

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২১
  • ১৭১ বার

করোনার কালবেলায় দুর্ভোগের শেষ নেই প্রবাসীদের। স্বস্তি তো মিলছেই না; কেবল দীর্ঘ হচ্ছে ভোগান্তির তালিকা। কর্মহীন হওয়া, দেশে এসে কর্মস্থলে ফিরতে না পারা; ফেরার সুযোগ থাকলেও ফ্লাইট না থাকা। আবার ফ্লাইট থাকলেও বিমানবন্দরে পিসিআর পরীক্ষার ব্যবস্থা হচ্ছে না। তা ছাড়া বিভিন্ন দেশের করোনার নির্দিষ্ট টিকা ও কোয়ারেন্টিন শর্ত তো আছেই। একের পর এক- এমন সমস্যা পিছু ছাড়ছে না প্রবাসীদের। ইতোমধ্যে কিছু সমস্যা থেকে উত্তরণ হলেও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে টিকা। একটি হলো- টিকার জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষা। প্রবাসীদের দ্রুত টিকা দেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও তাদের এসএমএস পেতে বিলম্ব হচ্ছে। ক্ষেত্রে বিশেষ ১৫ থেকে ২০ পরেও এসএমএস পাওয়া যাচ্ছে না। আরেকটি হলো- সৌদি প্রবাসীদের সেখানে ফিরে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিন থাকার শর্ত। এ ক্ষেত্রে সৌদি প্রবাসী শ্রমিকদের গুনতে হচ্ছে ৭০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা। কারণ দেশের বেশিরভাগ মানুষকে চীনের সিনোফার্মের টিকা দেওয়া হয়েছে। এই টিকা সৌদি আরব সরকার গ্রহণ করছে না। কূটনৈতিক ব্যর্থতায় ভুগতে হচ্ছে নিরীহ শ্রমিকদের।

সংশ্লিষ্টরা জানান, নিবন্ধনের তুলনায় স্বল্পসংখ্যক প্রবাসীকে টিকা দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। অনেকে বলছেন, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো বিএমইটির মাধ্যমে নিবন্ধন করলেও টিকার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। নিবন্ধনের এক মাসের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও এখনো টিকা নেওয়ার এসএমএস আসেনি। এতে প্রবাসে ফেরা নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। অনেকে এসএমএস পেয়ে টিকাকেন্দ্রে গেলেও মিলছে না টিকা। এ পরিস্থিতিতে গত ১১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব ও ঢাকা মেডিক্যালের সামনে বিক্ষোভ করেন প্রবাসীরা।

জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম আমাদের সময়কে বলেন, প্রবাসীরা যেন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা পান, সে বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া আছে। সৌদি প্রবাসীদের বিষয়ে তিনি বলেন, সিনোফার্মের টিকা গ্রহণের ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আলোচনা চলছে। ইতোমধ্যে দুই দেশের চিঠি চালাচালি হয়েছে। সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি বিচেনায় নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। আশা করছি দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।

গত বছরের শুরু থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৬ লাখের অধিক প্রবাসী কর্মী দেশে ফিরেছেন। এদের অনেকেই করোনার কারণে চাকরি হারিয়েছেন, কেউ কেউ কর্মস্থল বন্ধ থাকায় কিংবা ভিসার মেয়াদ শেষ করে দেশে এসেছেন। বিভিন্ন কারণে দেশে এসে করোনায় আটকা পড়েন তারা। পরে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সৌদি সরকারের দেওয়া নতুন বিধিনিষেধে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন এসব প্রবাসী। ফ্লাইট নিয়ে বিমানবন্দরে পড়েন চরম বিড়ম্ব^নায়। বাংলাদেশ থেকে করোনার নেগেটিভ সনদ নিয়ে সৌদি পৌঁছলেও হোটেলে নিজ খরচে ৭ থেকে ১৪ দিন পর্যন্ত কোয়ারেন্টিনে থাকতে হয়েছে। এতে অগ্রিম হোটেল বুকিং দেওয়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন অনেকে। যারা হোটেল বুকিং দিয়েছেন, তাদের গুনতে হয়েছে অতিরিক্ত প্রায় ৭০ হাজার থেকে পৌনে এক লাখ টাকা পর্যন্ত।

গত জুন-জুলাই মাসে কর্মস্থলে গমন নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত করতে বিদেশগামী কর্মীদের অগ্রাধিকারভিত্তিতে কোভিড-১৯ টিকা প্রদান করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। তখন টিকা নিবন্ধন নিয়ে দেখা দেয় জটিলতা। বিদেশগামী কর্মীদের টিকার জন্য সুরক্ষা প্ল্যাটফরমে নিবন্ধন সুবিধার্থে ২ জুলাই থেকে রেজিস্ট্রেশন শুরু করে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো-বিএমইটি। তখনো সুরক্ষা অ্যাপে নিবন্ধন বিড়ম্ব^নায় পড়েন তারা। পরে দ্রুত সময়ে টিকা নিবন্ধন করতে বিএমইটি চালু করে ‘আমি প্রবাসী’ অ্যাপ। বিএমইটির ডাটাবেজে নিবন্ধন ও স্মার্টকার্ড না থাকায় সেখানেও ভোগান্তির শিকার হন শ্রমিকরা। পরে বিএমইটির নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রবাসীকল্যাণ ভবনে এসে প্রবাসীরা টিকার নিবন্ধন করেন।

সরকার রাজধানীর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল, শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতাল ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে প্রবাসীদের টিকাকেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করেছে।

তবে শুরু থেকেই প্রবাসীরা টিকা পাওয়া নিয়ে নানা অভিযোগ করে আসছেন। অনেকে নির্ধারিত দিনে নির্ধারিত টিকাদানকেন্দ্রে গিয়েও টিকা না পেয়ে ফিরে গেছেন। আবার কখনো কখনো টিকাকেন্দ্রে বিক্ষোভ করছেন। নির্দিষ্ট সময়ে টিকা না পেয়ে অনেকেই যথাসময়ে প্রবাসে ফিরতে পারেননি। এরই মধ্যে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

ফয়সাল নামে এক সৌদি প্রবাসী বলেন, প্রবাসীদের ভোগান্তির শেষ নেই। একটা শেষ না হতেই আরেকটির ভোগান্তির মধ্যে পড়েছি। প্রতিনিয়তই প্রবাসীরা নতুন নতুন নিয়মকানুনে আটকে যাচ্ছেন। দীর্ঘ সময় দেশে আটকে থাকলেও তাদের দ্রুত কর্মস্থলে ফেরাতে সরকারের তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। এতে আমাদের কাজে ফিরতে বিলম্ব^ হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে একটা সময় ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। এরই মধ্যে হাজার হাজার প্রবাসীর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। তাদের এখন মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।

এদিকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ইউনাইটেড নেশনস পপুলেশন ডিভিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী জনশক্তি রপ্তানিতে ভারত, মেক্সিকো, চীন, রাশিয়া ও সিরিয়ার পরই বাংলাদেশের অবস্থান। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রায় ৮০ লাখের বেশি কর্মী কাজ করতেন। যার অর্ধেকের বেশি সৌদি আরব, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন ও ওমানে অবস্থান করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) এক কর্মকর্তা বলেন, বিভিন্ন দেশ নিজেদের জনগণকে সুরক্ষিত ও নিরাপদ রাখতে আমাদের দেশসহ বহু দেশের কর্মী নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এখন নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল রয়েছে। এতে বিভিন্ন দেশে প্রবাসীদের প্রবেশের সুযোগ রয়েছে। তবে নির্ধারিত টিকা না পাওয়া ও বিমানবন্দরে আরটিপিসিআর ল্যাব এখনো স্থাপন না হওয়ায় প্রবাসীরা ফিরতে পারছেন না। এতে হাজার হাজার প্রবাসী ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। সরকারকে দ্রুত সময়ে প্রবাসীকর্মীদের টিকার ডোজ সমাপ্ত করতে হবে। তা হলে এখনো যাদের ভিসার মেয়াদ আছে, তারা কাজে ফিরতে পারবেন। প্রবাসীদের বিষয়ে সরকারকে আরও আন্তরিকতা দেখাতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com