শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:১২ অপরাহ্ন

প্রথম ক্লাসে বই পাবে তো সব শিক্ষার্থী

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ২২৭ বার

আসছে শিক্ষাবর্ষ উপলক্ষে চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে পাঠ্যপুস্তক উৎসবের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে জানুয়ারির প্রথম ক্লাসে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন পাঠ্যবই পৌঁছানোকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। প্রতিষ্ঠানটির সূত্র বলছে, ২০২২ শিক্ষাবর্ষে প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থীর জন্য এবার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের মোট ৩৪ কোটি ৭০ লাখ ২২ হাজার ১৩০ কপি পাঠ্যবই ছাপানো হচ্ছে। এর মধ্যে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত মাত্র ১৬ কোটি বই ছাপা সম্পন্ন হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে প্রাথমিক স্তরের ৯ কোটি ৯৮ লাখ ৫৮ হাজার ৮৭৪ কপি ও মাধ্যমিক স্তরের ২৪ কোটি ৭১ লাখ ৬৩ হাজার ২৫৬ হাজার কপি বই। গতকাল সোমবার পর্যন্ত সারাদেশে বই সরবরাহ সম্পন্ন হয়েছে ৮ কোটি। অর্থাৎ মোট লক্ষ্যমাত্রার আরও ১৯ কোটি বই এখনো ছাপানো বাকি। লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সময় আছে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ফলে নতুন বছরের প্রথম ক্লাসে সব শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌঁছে দেওয়াকে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলো। তারা বলছে, যে সময় আছে এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছানো সম্ভব নয়।

মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিযোগ, পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিতে গিয়ে বই উৎসবকে হুমকির মুখে ফেলেছে এনসিটিবি। তবে এনসিটিবি বলছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পৌঁছে যাবে পাঠ্যপুস্তক। এ প্রসঙ্গে এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণচন্দ্র সাহা বলেন, আজ (শক্রবার) পর্যন্ত আপডেড তথ্য আমার কাছে নেই। গত ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত যে তথ্য ছিল তা হচ্ছে প্রায় ১৬ কোটি বই ছাপা সম্পন্ন হয়েছে। জেলা উপজেলায় পৌঁছানো হয়েছে ৮ কোটি বই। বাকি বই নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পৌঁছানো হবে। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করছি। প্রতি বছরের মতো এবারও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাঠ্যপুস্তক উৎসবের উদ্বোধন করবেন। এটি চলতি মাসের চতুর্থ সপ্তাহে হতে পারে।

বাংলাদেশ পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও বাজারজাত অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তোফায়েল খান বলেন, মাধ্যমিকের বই যেগুলো দরপত্র হয়েছে সেগুলো ছাপানো ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে না; জানুয়ারি চলে যাবে। সে হিসেবে জানুয়ারির প্রথম দিন বই উৎসব কীভাবে সম্ভব। দু-একটি প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান টেন্ডারের শর্ত নিয়ে ঘাপলা করে প্রতি বছর। কিন্তু এনসিটিবি তাদের শাস্তির আওতায় আনে না এবং প্রতি বছর নানা অভিযোগের পরও তাদেরই বড় বড় লটের কাজ দিয়ে থাকে। ফলে বই সময়মতো দিচ্ছে না তারা।

এনসিটিবির বিরুদ্ধে অভিযোগ, পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দিতে পুনঃদরপত্র আহ্বান করায় মাধ্যমিক স্তরের বই ছাপার কাজ শুরু করতে দেরি হয়। অপরদিকে প্রাথমিকের অর্ধেকের বেশি বই ছাপার কাজ দেওয়া হয় একটি প্রতিষ্ঠানকে। গত বছর ওই প্রতিষ্ঠানটি নির্ধারিত সময়ের দুই মাস পরও শতভাগ বই দিতে পারেনি। পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার জন্য দরপত্রের মাঝখানে হঠাৎ সংশোধনীও আনে এনসিটিবি। এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক নারায়ণচন্দ্র বলেন, সব সময় যে একই প্রক্রিয়ায় কাজ সম্ভব তা নয়। বিগত বছরগুলোতেও কোনো কোনো টেন্ডার রি-টেন্ডার করা হয়েছে। এ বছর সব টেন্ডারই করতে হয়েছে রি-টেন্ডার। সে কারণে একটা স্পেস রেখে টেন্ডার করি। কিছুটা সময় লেগেছে। তবে ১ জানুয়ারির মধ্যে বই পৌঁছে দেব।

জানা গেছে, প্রতিবছর সেপ্টেম্বরের মধ্যে ছাপাখানাগুলোর সঙ্গে চুক্তি হলেও এবার তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির বই ছাপাতে চুক্তি হয় ১৮ অক্টোবর। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির জন্য চুক্তি হয় ২৪ অক্টোবর। স্কুলের বই ছাপতে সাধারণত তিন মাস সময় পায় ছাপখানাগুলো। এবার মাসখানেক কম সময় পাওয়ায় জানুয়ারির মধ্যে ৮০ ভাগের বেশি বই পৌঁছানো চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com