শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৪৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বর্তমান সংসদের দিকে তাকিয়ে আছে দেশের ১৮ কোটি মানুষ: ভারপ্রাপ্ত স্পিকার অপরিকল্পিত কেনাকাটায় অচল কোটি টাকার চিকিৎসা যন্ত্রপাতি: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং যেন মরণ ফাঁদ সমন্বিত প্রচেষ্টায় ৪-৫ বছরেই অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী বললেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী, চলতি মাসেই ঢাকা–কক্সবাজার রুটে একজোড়া নতুন ট্রেন চালু করা হবে সংসদের ছোটখাটো বিষয়কে রাজপথে এনে অস্থিরতা-বিভ্রান্তি তৈরির অপচেষ্টা চলছে: তথ্যমন্ত্রী শাহ আমানতে অন্তর্বাসে ক্যাপসুলসদৃশ স্বর্ণসহ ভারতীয় আটক ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন, ২ দিনে ডিএমপির ৬৩০০ মামলা দুই মেট্রো স্টেশনে বোমাতঙ্ক, ব্যাগে যা মিলল টানা ৫ বারের মতো সাফ সভাপতি হলেন কাজী সালাহউদ্দিন

দক্ষিণ কোরিয়ায় করোনার আতঙ্ক, জারি রেড অ্যালার্ট

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২০
  • ৩৬০ বার

দক্ষিণ কোরিয়ার মানুষের মধ্যে করোনাভাইরাস আতঙ্ক কতটা জেঁকে বসেছে তা আক্রান্ত শহরগুলোর রাস্তায় বেরুলেই বোঝা যায়।

“রাস্তাঘাটে কেউ নেই, একদমই ফাঁকা। শিশুরা নেই, বয়স্ক লোকদেরও কাউকেই রাস্তাঘাটে দেখা যাচ্ছে না। গত দুই দিন ধরে এমন অবস্থা দেখছি” – দেগু শহর থেকে বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন জিয়াউর রহমান।

তিনি দক্ষিণ কোরিয়ায় এই শহরে আছেন আট বছর ধরে, কাজ করেন একটি কারখানায়।

দক্ষিণ কোরিয়ায় ইতিমধ্যে করোনাভাইরাস বা কোভিড নাইনটিন সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছে ৬ শতাধিক লোক – মারা গেছেন ৫ জন। সংক্রমিতদের একটা বড় অংশই এই দেগু শহরের।

জিয়াউর রহমান বলছিলেন, “দেগুতে চার হাজারের বেশি বাংলাদেশি রয়েছে, এবং তাদের মধ্যে ফেসবুক বা অন্য উপায়ে নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। তাতে যেসব কথাবার্তা শুনছি – তাতে বুঝতে পারছি যে বাংলাদেশীরা ভীষণভাবে আতংকিত।”

“আজকে একটা শপিং মলে গিয়েছিলাম বাজার করতে। খাদ্যদ্রব্য তেমন একটা নেই। ফলমূলের অভাব দেখা যাচ্ছে। মানুষজন আগেই সব কিনে ফেলেছে। বেচাকেনা মোটামুটি শেষ। হ্যান্ডওয়াশ কিনতে গিয়েছিলাম, পাইনি।”

ঘরে খাবার মজুতের প্রবণতা দেখা গেছে দক্ষিণ কোরিয়ায় অন্য বাংলাদেশীদের মধ্যেও । দেগু থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরের বুসান শহরে থাকেন এ জামান শাওন। তিনি দক্ষিণ কোরিয়ায় আছেন চার বছর ধরে।

তিনিও বলছেন, বুসান শহরে ৬/৭ জন করোনাভাইরাস সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছেন বলে গতকাল পর্যন্ত জানা গেছে। শহরের রাস্তায় লোকজন কমে গেছে। লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অনেকেই দোকান থেকে নানা জিনিসপত্র কিনে ঘরে জমিয়ে রাখছেন।

এ জামান শাওন বলছেন, তিনি নিজেও এক মাসের খাবার কিনে ঘরে জমিয়ে রেখেছেন, এবং তার পরিচিত অন্য অনেকেই এটা করেছেন।

তিনি বলছেন, কর্তৃপক্ষ ১০ মিনিট পর পর মোবাইলে টেক্সট মেসেজ করে লোকজনকে নানা স্বাস্থ্য নির্দেশিকা জানাচ্ছে।

তবে দেগু থেকে জিয়াউর রহমান বলছেন, “আমি অতটা করি নাই। শাকসব্জি তো আর কেনা যায় না। আলু বা মাছের মতো যা ফ্রিজে রাখা যায় – সেগুলো কিছু কিনেছি।”

“আমি যে কারখানায় কাজ করি – তার কাছেই একটি এলাকা আছে সেখানে প্রায় পাঁচ হাজার লোক বাস করে। সেখানকার কোন লোককে রাস্তায় বের হতে দেয়া হচ্ছে না।”

আপনি কি এ রোগের কথা ভেবে আতঙ্কিত? এ প্রশ্ন করা হলে মি. রহমান বলেন, “আতঙ্ক তো অবশ্যই আছে। তবে একদিন তো মৃত্যু হবেই – কিন্তু আমি যদি আক্রান্ত হই তাহলে আমাকে হয়তো এক মাস হাসপাতালে থাকতে হবে, তার মধ্যে রোগ না সারলে আরো এক মাস। আমি এ দেশে একা – সে জন্য এতদিন হাসপাতালে থাকার কথা ভেবে ভয় হচ্ছে।”

“আল্লাহ না করুক, কোনো প্রবাসী বাংলাদেশী যদি এখানে মারা যায় – তাহলে তার লাশটাও কিন্তু দেশে পাঠানোর কোনো ব্যবস্থা নেই। এটাও একটা আতঙ্ক। আমি মনে মনে এটা চিন্তা করি। এটা একটা বিরাট জিনিস।”

এ অবস্থায় কিছুদিনের জন্য হলেও দেশে চলে যাবার চিন্তা করছেন কিনা – এ প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “না আমি এরকম চিন্তা করি নাই। আমি এখানেই নিরাপদ থাকার চেষ্টা করবো।”

“আমি আমার কাজের জায়গা থেকে এক কিলোমিটার দূরে থাকি। এই পথটা আমি সাইকেল চালিয়ে আসি। এই যাতায়াতটা আমার কাছে এক বিরাট আতঙ্কের বিষয়। এই রাস্তাটুকুতে আমার কারো সাথে দেখা হলে কি হবে না হবে – এটা আমার এক বিরাট আতঙ্ক।”

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইন বলছেন, এ ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষেত্রে আগামি কয়েক দিন কী ঘটে তা হবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র : বিবিসি

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com