

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নিবন্ধন পেতে যাচ্ছে, এ বিষয়টি আগেই আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে দলীয় প্রতীক হিসেবে শাপলা চাইলেও এনসিপিকে শাপলা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলেও ইসির পক্ষ থেকে দলটিকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে। এদিকে শাপলাকেই নিজেদের প্রতীক হিসেবে আদায় করতে এনসিপি নানামুখী প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি শাপলা না পেলে প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার আভাসও দিয়েছে তারা। এছাড়া, প্রতীক ইস্যুসহ সামগ্রিক কর্মকাণ্ডে নির্বাচন কমিশন একটা বিশেষ দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে নিজেদের ‘নিরপেক্ষ’ চরিত্র হারাচ্ছে এমন অভিযোগ তুলে ইসি সংস্কারের পুরোনো দাবিতে মাঠও গরম করতে চায় দলটি।
এনসিপির নীতিনির্ধারণী একাধিক নেতা দাবি করছেন, শাপলা ইসির প্রতীকের তালিকায় না থাকলেও ইসি চাইলে তা তালিকায় যোগ করতে পারে। তারা বলছেন, শাপলা জাতীয় প্রতীক এমন বিবেচনায় প্রথমে এনসিপিকে শাপলা দেওয়া হবে না জানালেও দলটির পক্ষ থেকে পাঠানো আইনি মতামতের পর এ প্রশ্ন মীমাংসা হয়েছে। এরপর আরেকটি দল এ প্রতীক চেয়েছে, ইসির পক্ষ থেকে এমনটা বলা হলেও সে দলটি অনাপত্তির কথা জানিয়েছে। এনসিপি নেতারা বলছেন, নির্বাচন কমিশন একটি দলের কথামতো কাজ করছে যে কারণে এনসিপির দাবি শাপলা প্রতীক নিয়ে সংস্থাটি তালবাহানা করছে। এ অবস্থায় প্রতীক হিসেবে শাপলা না পেলে দলটি প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হবে এবং একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন ও সংস্কারের দাবিতে যে আন্দোলন তারা শুরু করেছিল, তা পুনরায় বেগবান করার আভাস দিয়েছে।
এ বিষয়ে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব ইত্তেফাককে জানান, প্রতীক আদায়ে আমাদের রাজনৈতিক লড়াই চলবে। নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ জায়গা থেকে বিবেচনা না করে অদৃশ্য চাপে এনসিপিকে ভালো প্রতীক থেকে বঞ্চিত করছে। ফলে শাপলা পাওয়ার জন্য এনসিপি বুদ্ধিবৃত্তিক, কৌশলগত ও মাঠের কর্মসূচির মাধ্যমে লড়াই জারি রাখবে। দলটির যুগ্ম সদস্যসচিব মুশফিক উস সালেহীন ইত্তেফাককে বলেন, ‘প্রতীক ইস্যুতে নির্বাচন কমিশন আমাদের সঙ্গে রাজনীতি করছে। এর পেছনে রাজনৈতিক এবং কিছু অরাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রভাব আছে বলে আশঙ্কা করছি।’ এই নেতা আরো বলেন, ‘প্রতীক সংক্রান্ত বিষয় নির্বাচন কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট দলের দ্বিপাক্ষিক বিষয়, কিন্তু শিষ্ঠাচার এবং রাজনৈতিক সততা উপেক্ষা করে কতিপয় দল ও ব্যক্তি এ বিষয়ে ইসিকে প্রভাবিত করছেন। আমরা আইনগতভাবে এবং সাংবিধানিক পদ্ধতিতে অগ্রসর হব এবং আমাদের ন্যায্য অধিকার আদায় করব।’
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, শাপলা প্রতীক তাদের দেওয়া যাচ্ছে না—গত ৩০ সেপ্টেম্বর ইসির পক্ষ থেকে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বরাবর চিঠি পাঠিয়ে জানানো হয়েছে। এছাড়া, বরাদ্দযোগ্য ৫০টি প্রতীকের মধ্য থেকে পছন্দের প্রতীক বেছে নিয়ে তা আগামী ৭ অক্টোবরের মধ্যে জানানোর অনুরোধ করেছে এ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। ইসির পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, ‘এনসিপির ২২ জুন, ৩ আগস্ট ও ২৪ সেপ্টেম্বরের বিষয় ও সূত্রের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে, এনসিপি নামের দলটির নিবন্ধনের জন্য করা আবেদন প্রাথমিক পর্যালোচনায় বিবেচিত হয়েছে। আবেদনপত্রে প্রতীক হিসেবে পছন্দের ক্রম অনুযায়ী শাপলা, কলম ও মোবাইল উল্লেখ করা হয়। পরের দুটি আবেদনে তা পরিবর্তন করা হয়। উল্লেখ্য, নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮-এর বিধি ৯(১) অনুযায়ী প্রার্থিত শাপলা প্রতীকের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নেই। এ অবস্থায় প্রতীকের তালিকা থেকে বরাদ্দ হয়নি, এমন একটি প্রতীক পছন্দ করে নির্বাচন কমিশনকে ৭ অক্টোবরের মধ্যে লিখিতভাবে অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হলো।’
চিঠিতে ২২ জুন, ৩ আগস্ট ও ২৪ সেপ্টেম্বরের যে বিষয় ও সূত্রের উল্লেখ করা হয়েছে, তার মধ্যে গত ২২ জুন ইসিতে নিবন্ধনের আবেদন জমা দিয়েছিল এনসিপি। তখন তারা দলীয় প্রতীক হিসেবে শাপলা, কলম ও মোবাইল প্রতীক চেয়েছিল। কিন্তু ৩ আগস্ট ইসি সচিব বরাবর আরেক আবেদনে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম পছন্দের প্রতীকে সংশোধনী এনে শাপলা, সাদা শাপলা ও লাল শাপলা চান। সর্বশেষ ২৪ সেপ্টেম্বর আরেকটি আবেদনে শাপলা, সাদা শাপলা অথবা লাল শাপলাকে নির্বাচনি প্রতীক হিসেবে তালিকাভুক্ত করে এনসিপির অনুকূলে এই তিন প্রতীকের যে কোনো একটি বরাদ্দের আবেদন জানিয়েছিল দলটি।
এনসিপিকে পাঠানো ইসির চিঠিতে নতুন রাজনৈতিক দলের জন্য বরাদ্দযোগ্য ৫০টি প্রতীকের তালিকা যুক্ত করা হয়েছে। এগুলো হলো আলমিরা, উটপাখি, কলম, কলস, কাপ-পিরিচ, কম্পিউটার, কলা, খাট, ঘুড়ি, চার্জার লাইট, চিংড়ি, চশমা, জগ, জাহাজ, টিউবওয়েল, টিফিন ক্যারিয়ার, টেবিল, টেবিল ঘড়ি, টেলিফোন, তবলা, তরমুজ, থালা, দালান, দোলনা, প্রজাপতি, ফুটবল, ফুলের টব, ফ্রিজ, বক, বাঁশি, বেঞ্চ, বেগুন, বালতি, বেলুন, বৈদ্যুতিক পাখা, মগ, মাইক, ময়ূর, মোবাইল ফোন, মোড়া, মোরগ, লাউ, লিচু, শঙ্খ, সেলাই মেশিন, সোফা, স্যুটকেস, হরিণ, হাঁস ও হেলিকপটার।