

কুষ্টিয়ায় জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় ছয়জনকে হত্যাসহ নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের করা পৃথক দুটি মানবতাবিরোধী মামলায় সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের ওপর আজ মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) আসামিপক্ষের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
শুনানি হবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই শুনানি পরিচালনা করবেন। অন্য দুই সদস্য হলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
গতকাল সোমবার (২৭ অক্টোবর) প্রসিকিউশন হানিফসহ ৪ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি সম্পন্ন করেন। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি নির্দিষ্ট তিনটি অভিযোগ পড়ে শোনানোর পাশাপাশি অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আবেদন জানান। পলাতক আসামিদের পক্ষে নিয়োগপ্রাপ্ত স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী আমির হোসেনের বক্তব্য শুনতে আজকের দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
হানিফের পাশাপাশি মামলার অন্য তিন আসামি হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সদর উদ্দিন খান, জেলা সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা।
গত ২৩ অক্টোবর হানিফসহ চারজনকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার কথা ছিল। পলাতক থাকায় ট্রাইব্যুনাল তাদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ দেয়। ১৪ অক্টোবরের নির্দেশনা অনুযায়ী হাজির না হওয়ায় জাতীয় দৈনিক দুটি পত্রিকায় তাদের গ্রেপ্তারের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান। ওই দিন প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এমএইচ তামিম।
এর আগে, ৬ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণ করেন এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। প্রসিকিউশন ৫ অক্টোবর ফরমাল চার্জ দাখিল করেন। অভিযোগে তিনটি নির্দিষ্ট বিষয় অন্তর্ভুক্ত—উসকানিমূলক বক্তব্য, ষড়যন্ত্র এবং কুষ্টিয়ায় ছয়জনের হত্যা।
প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ২৩ অক্টোবর ইনুর বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগ পড়ে শোনান এবং বিচার শুরুর আবেদন করেন। আসামিপক্ষ শুনানির জন্য সময় চাওয়ায় আজকের দিন নির্ধারণ করা হয়।
১৪ অক্টোবর হওয়া শুনানিতে ইনুর পক্ষে আইনজীবী নাজনীন নাহার সময় চান। তিনি জানান, ১৭০০ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র পড়া ও প্রিভিলেজ কমিউনিকেশনের জন্য আট সপ্তাহ প্রয়োজন। ট্রাইব্যুনাল পরবর্তীতে তিনদিন করে দুই ঘণ্টার সাক্ষাৎ অনুমোদন দেন।
এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনাল ইনুকে হাজিরের নির্দেশ দেন। কারাগার থেকে আনার পর ফরমাল চার্জের শুনানির জন্য প্রসিকিউশন এক সপ্তাহ সময় চান। আসামিপক্ষের সময় বৃদ্ধি চাওয়ার আবেদন মঞ্জুর হয়। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ১৪ অক্টোবর ধার্য হয়।
২৫ সেপ্টেম্বর জাসদ সভাপতির বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্ট গণহত্যায় সহযোগিতা সম্পর্কিত আটটি নির্দিষ্ট অভিযোগ দাখিল করেন প্রসিকিউশন। শুনানির পর অভিযোগ গ্রহণ করে আদালত প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করেন।
গত বছরের ২৬ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা থেকে ইনুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন মামলায় কারাগারে রয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন এই জাসদ নেতা। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে জোট প্রার্থী হিসেবে কুষ্টিয়ায় নিজের আসনে হেরে যান।
উল্লেখ্য, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়ায় ৬ জন নিহত হন এবং আরও কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনায় হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়। তদন্ত শেষে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন।