

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজয়ের মাসকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের অনাগ্রহ ও উদাসীনতার অভিযোগ তুলেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি। বুধবার (৪ ডিসেম্বর) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতারা এ অভিযোগ করেন।
ঢাবি শাখার সভাপতি তাহমিদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরী বলেন, প্রতি বছর বিজয়ের মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন আয়োজন, আলো ঝলমলে সাজসজ্জা ও স্মৃতিচারণা অনুষ্ঠান হয়। কিন্তু এ বছর ক্যাম্পাসে তেমন কোনো উদ্যাপনের আমেজ নেই। তার দাবি- প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা ও ডাকসুর প্রতিনিধিদের উদাসীনতার কারণেই এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
২১ ও ২২ নভেম্বরের ভূমিকম্প-পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েও সমালোচনা করেন তাহমিদ। তিনি বলেন, মাত্র এক দিনের নোটিশে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়তে বলা হয়, যা অগণতান্ত্রিক। ছুটি বাড়িয়ে ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত করলেও হলগুলোর বর্তমান অবস্থা, কারিগরি নিরীক্ষার অগ্রগতি কিংবা সংস্কারকাজের কোনো সুস্পষ্ট তথ্য শিক্ষার্থীদের জানানো হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন ছাত্রশক্তির এই নেতা। ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিনিধির বক্তব্যে শহীদ ও নির্যাতিত বীরাঙ্গনার সংখ্যা ‘সহস্র’ বলে উল্লেখ করাকে তিনি বিভ্রান্তিকর দাবি করেন। আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী চার লাখের বেশি নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সহস্র’ শব্দ ব্যবহার ইতিহাসকে ভুলভাবে উপস্থাপনের শামিল।
তাহমিদ বলেন, বিজয়ের মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীরবতা শঙ্কাজনক। প্রশাসন ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হীনম্মন্য আচরণ মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করছে। তাঁর ভাষায়, মুক্তিযুদ্ধ বাঙালির সর্বোচ্চ অর্জন, এটি কোনোভাবেই ফ্যাসিবাদী শক্তির ছত্রছায়ায় যেতে দেওয়া যাবে না।
তিনি আরও বলেন, পরিকল্পনাহীন ছুটি সেশনজট বাড়াবে এবং পরীক্ষার সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের ওপর ছেড়ে দেওয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়কে রাজনৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।