

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের পর এবার আলোচনার কেন্দ্রে সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন। সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত আসনের ভিত্তিতে বিএনপি জোটের ভাগে ৩৭টি আসন পড়তে পারে। এসব আসনে মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেত্রীরা। বিএনপি এবার রাজপথের লড়াকু নেত্রী, কণ্ঠশিল্পী, সাংবাদিক সমাজের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারী নেত্রীদের সমন্বয়ে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেবে। গত শুক্রবার দেশ রূপান্তরকে এ কথা জানিয়েছেন দলটির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা। তারা বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তফসিল অনুযায়ী সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে। বিএনপিতে যোগ্য নারী নেত্রীর সংখ্যা অনেক। তাদের রাজনৈতিক ত্যাগ, অভিজ্ঞতা ও অবদান বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেভাবে প্রবীণ-নবীনদের সমন্বয় করে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল সংরক্ষিত নারী আসনে, তেমনিভাবে মনোনয়ন দেওয়া হবে।
৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন রমজান মাসেই হবে বলে আভাস দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সরকারের বিদ্যুৎ এবং জ¦ালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু গত শুক্রবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নেত্রীদের রাজনৈতিক ত্যাগ, অভিজ্ঞতা ও অবদান বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেভাবে প্রবীণ-নবীনদের সমন্বয় করে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল, সংরক্ষিত নারী আসনে তেমনিভাবে মনোনয়ন দেওয়া হবে।’
স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান। এর আগে তিনি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বরিশাল-৩ আসনে (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। এবার দল তাকে মনোনয়ন দেয়নি। কিন্তু তিনি নির্বাচনে দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন। সেলিমা রহমান বিগত ২০০১-০৬ বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিএনপির অঙ্গসংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি প্রয়াত শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বীথিকা বিনতে হুসাইন। রাজপথে বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি দেশ জুড়ে বিএনপির নির্যাতিত কর্মীদের পাশে ‘অর্পণ আলোক সংঘ’ নামক সংগঠনের মাধ্যমে সবার পাশে অর্থনৈতিক ও মানসিক সাপোর্ট দিয়ে এসেছেন দীর্ঘদিন ধরে। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘দুর্দিনে দলের জন্য কাজ করেছি। পাশাপাশি সারা দেশে নির্যাতিত-নিপীড়িত নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছি। দল যোগ্য মনে করলে এবং মনোনয়ন দিলে সংসদ সদস্য হয়ে দলের পাশাপাশি নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই।’
মহিলা দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান। ইডেন কলেজের সাবেক ভিপি। ছাত্রদলের পর মহিলা দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এই নেত্রী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘১৭ বছর রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলাম। প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাকে যোগ্য মনে করলে নিশ্চয়ই মনোনয়ন দেবেন।’
ঢাকা জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী। রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামের পরীক্ষিত এই নেত্রী দেশ জুড়ে দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সারা দেশের মানুষের কাছে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছেন। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমার বিষয়টি বিবেচনায় নেবেন বলে আশা করি।’
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অন্তত ৫০টি আসনে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন বিএনপির নারী নেত্রীরা। তবে তাদের মধ্যে মনোনয়ন পেয়েছেন কয়েকজন। আবার সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান গুমের শিকার হওয়া নেতাদের পরিবারের সদস্যদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি। বিগত দিনে তার ভূমিকার কথা চিন্তা করে দল তাকে মনোনয়ন দিতে পারে।
এ ছাড়া সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আরও যারা আলোচনায় রয়েছেন তারা হলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেত্রী শিরিন সুলতানা, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, সহসভাপতি নাজমুন নাহার বেবী, সাবেক এমপি শাম্মী আকতার, নিলোফার চৌধুরী মনি, আসিফা আশরাফী পাপিয়া, রাশেদা বেগম হীরা, রেহেনা আকতার রানু, ইয়াসমিন আরা হক, জাহান পান্না, বিলকিস ইসলাম ও ফরিদা ইয়াসমিন। নারী সাংবাদিকদের মধ্যে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য শাহনাজ পলি, সংগীতশিল্পীদের মধ্যে কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন, রিজিয়া পারভীন ও কনক চাঁপা এগিয়ে রয়েছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রয়াত ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদের নামও আলোচনায় রয়েছে। এর বাইরে নারী নেত্রীদের মধ্যে আরও যারা আলোচনায় রয়েছেন, তারা হলেন শাহানা আকতার সানু, নিয়াজ হালিমা আর্লি, রাবেয়া আলম, জেবা আমিন খান, শাহিনুর নার্গিস, তানজিন চৌধুরী লিলি, নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আরা উর্মি, সেলিনা সুলতানা নিশিতা, শাহিনুর সাগর, ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা, আরিফা সুলতানা রুমা, সামিরা তানজিনা চৌধুরী ও সৈয়দা আদিবা হোসেনের নামও আলোচনায় আছে।