

ইরানের সবচেয়ে ব্যস্ত বিমানবন্দর এবং প্রধান অভ্যন্তরীণ হাব মেহরাবাদ বিমানবন্দরে বড় ধরনের হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম অবশ্য বলছে, বিমানবন্দরের কিছু অংশ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
তবে তেহরানের প্রধান বাণিজ্যিক বিমানবন্দরে বিস্ফোরণের পর সেখানকার টারমার্কে বিমান পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা। তেহরানের অধিবাসীরা বলেছেন, সবশেষ রাতটি ছিল তাদের কাছে সবচেয়ে ভয়াবহ, যেখানে প্রতি ঘণ্টায় হামলা হয়েছে।
এর আগে ইসরায়েল নতুন করে আরও হামলার তথ্য দিয়েছিল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরান থেকে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়েছে বলে তারা চিহ্নিত করেছে। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলোর হুমকি প্রতিহত করতে কাজ করছে। নাগরিকদের মোবাইল ফোনে সতর্ক বার্তা পাঠানো হয়েছে এবং তাদের সুরক্ষিত এলাকায় যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্স বা আইডিএফ বলেছিল, তারা ইরানে বিস্তৃত পরিসরের নতুন হামলা শুরু করছে। এর আগে ৪ মার্চও তারা বিমানবন্দরটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল। তখন তারা বিমানবন্দরের প্রতিরক্ষা ও শনাক্তকরণ ব্যবস্থার কিছু অংশ ধ্বংস করার দাবি করেছিল। এর মধ্যে বিমানবন্দরের হেলিকপ্টার তৈরির অংশও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
নতুন হামলায় বিমানবন্দরের ঠিক কোন কোন অংশ বোমাবর্ষণের শিকার হয়েছে তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, আজ রাতের হামলা আগের চেয়ে অনেক বেশি তীব্র ছিল।
এদিকে ইরানের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ছাড়া দেশটির সঙ্গে কোনো চুক্তি হবে না বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি আরও বলেছেন, তার প্রশাসনের কাছে গ্রহণযোগ্য কাউকে ইরানের নতুন নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তারা এ পর্যন্ত ইরানের ৩ হাজারের বেশি টার্গেটে হামলা চালিয়েছে। সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ তারা বলেছে, চলমান অভিযানে ইরানের ৪৩টি জাহাজ ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলা করার ক্ষেত্রে এমন সব স্থান অগ্রাধিকার পেয়েছে যেগুলো ‘তাৎক্ষণিক হুমকি সৃষ্টি করতে পারে’ বলে মনে করা হচ্ছে। এর লক্ষ্য হলো ইরানের শাসনব্যবস্থার নিরাপত্তা কাঠামো ভেঙে ফেলা।