শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০১:২৩ অপরাহ্ন

সংরক্ষিত নারী আসন : বিএনপির খসড়া তালিকা প্রস্তুত

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬
  • ৩ বার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থীদের খসড়া তালিকা প্রস্তুত হয়েছে। চিকিৎসার উদ্দেশে চীন যাওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে এই খসড়া তালিকা পৌঁছে দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর কৃষিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকও করেছেন। বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের প্রক্রিয়া কার্যত শুরু হয়ে গেছে। সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো যাদের মনোনীত করবেন, মূলত তারাই নির্বাচিত হবেন। দলগুলো ইতোমধ্যে প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে। বিধি অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণের ৯০ দিনের মধ্যে এই নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কমিশন ওই সময়ের মধ্যেই তা সম্পন্ন করবে।

বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয় পেয়েছে। আসন অনুপাতে সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের মধ্যে দলটি পাবে ৩৫টি। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১১টি ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) একটি আসন পাবে। অন্য ৩টি আসন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও নিজস্ব প্রতীকে জয়ী ছোট দলগুলোর মধ্যে বণ্টন করা হবে।

সংরক্ষিত নারী আসনে দলের জন্য নিবেদিত, যোগ্য ও জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে এমন নেত্রীদের মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি- এমনটাই জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সম্প্রতি তিনি বলেছেন, নারী আসনের নির্বাচন পার্লামেন্টের সিদ্ধান্তে হবে। আর প্রার্থী মনোনয়নের যোগ্যতা হবে দলের আদর্শ, নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকতে হবে, জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পৃক্ততা থাকতে হবে, দলের জন্য ত্যাগ থাকতে হবে। আমাদের দলের সঙ্গে যারা নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত আছেন, যাদের ত্যাগ-তিতিক্ষা রয়েছে তাদেরকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। তবে নারী আসনে মনোনয়ন একই পরিবারের দুই সদস্য বিবেচনা করা হবে কিনা সে বিষয়ে এখনই কিছু বলা যাবে না। এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীর দাবি- দলের সুসময়ে ‘উড়ে এসে জুড়ে বসা’ কোনো নেত্রী যেন মনোনয়ন না পান, সেটা কেন্দ্রকে বিবেচনায় রাখতে হবে। গত ফ্যাসিস্ট শামনামলে যেসব নারীনেত্রী ভয়ভীতি উপেক্ষা করে সার্বক্ষণিক দলীয় কর্মসূচি এবং দলের পক্ষে সরব ছিলেন, তারাই যেন মূল্যায়িত হন। এ ছাড়া সদ্য শেষ হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে যারা বেশি সরব ছিলেন, তাদের ভূমিকাকেও যেন গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বিএনপির সূত্রমতে, নবীন-প্রবীণের মিশ্রণে এবার জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনগুলোতে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অপেক্ষাকৃত তরুণদের বড় একটা অংশকে দেখা যেতে পারে সেই খসড়া প্রার্থী তালিকায়।

যারা আছেন আলোচনায় : জানা গেছে, খসড়া তালিকায় কারা আছেন তা পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে দলের মধ্যে আলোচনা আছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের স্ত্রী হাসিনা আহমদ, স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং বিদ্যুৎ, জ¦ালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর স্ত্রী রুমানা মাহমুদ, প্রয়াত ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদ, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুন রায় চৌধুরী, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বড় মেয়ে মির্জা শামারুহ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা তানজিনা চৌধুরী, প্রয়াত বিএনপি নেতা নাছির উদ্দিন পিন্টুর স্ত্রী নাসিমা আক্তার কল্পনা, সাবেক কাউন্সিলর সাইদুর রহমান নিউটনের সহধমির্ণী, বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুর বোন ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, সিলেটের সাবেক সংসদ সদস্য ড. সৈয়দ মকবুল হোসেনের (লেচু মিয়া) মেয়ে সৈয়দা আদিবা হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বীথিকা বিনতে হোসাইন, চট্টগ্রামের বিএনপি নেতা সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে আইনজীবী ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, ঢাকা-১৪ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে লড়ে হেরে যাওয়া সানজিদা ইসলাম তুলি, বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আকতার জাহান শিরিন, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, যুগ্ম-সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, বিএনপি মিডিয়া সেলের শাম্মী আকতার, সাবেক এমপি নিলুফার চৌধুরী মনি, বিলকিস ইসলাম, ফরিদা ইয়াসমিন, মহিলা দলের নেত্রী রুমা আক্তার, লাইলী বেগম, শাহানা আকতার সানু, নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের অ্যাডভোকেট ড. আরিফা জেসমিন নাহিন, মেহেরুন্নেসা হক, ঝালকাঠি জেলা বিএনপি নেত্রী জেবা আমিন খান, কণ্ঠশিল্পী কনক চাঁপা, বেবী নাজনিন।

এ ছাড়া খসড়া তালিকায় আরও আলোচনায় যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক প্রয়াত কমর উদ্দিনের মেয়ে সাবিনা খান, সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক প্যানেল মেয়র ও মহিলা দালের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রোকসানা বেগম শাহনাজ, সিলেট জেলা মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ‘গুম’ হওয়া ছাত্রদল নেতা ইফতেখার আহমদ দিনারের বোন তাহসিন শারমিন তামান্না।

তরুণ প্রজন্ম ও নারী নেত্রীদের মধ্য থেকে আলোচনায় আছেন মৌসুমী নাসরিন, নিয়াজ হালিমা আর্লি, রাবেয়া আলম, শাহিনুর নার্গিস, তানজিন চৌধুরী লিলি, নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আরা উর্মি, সেলিনা সুলতানা নিশিতা, শাহিনুর সাগর, ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা, আরিফা সুলতানা রুমা, সামিরা তানজিনা চৌধুরী ও সৈয়দা আদিবা হোসেন।

এ ছাড়া আলোচনায় রয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সাবেক নেত্রী ও ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটে লড়ে হেরে যাওয়া ডা. তাসনিম জারা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনের সাবেক নেত্রী উমামা ফাতেমার নাম।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন দলের নারীনেত্রীরা। তারা বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তাদের রাজনৈতিক জীবনবৃত্তান্ত জমা দিচ্ছেন। এ ছাড়া নারীনেত্রীরা বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, দলীয় আনুগত্য, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার বিবরণ দিয়ে প্রোফাইল (বৃত্তান্ত) তৈরি করে পৌঁছে দিচ্ছেন বিএনপির নীতিনির্ধারণী নেতাদের কাছে। আবার অনেকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ করে মনোনয়ন নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন। এ ক্ষেত্রে সাবেক এমপি, মহিলা দলের পাশাপাশি অতীতে ছাত্রদল করা নেত্রীরাও রয়েছেন। চলতি সপ্তাহের যেকোনো দিন সংরক্ষিত নারী আসনে দলের প্রার্থীদের মনোনয়ন ঘোষণা করা হতে পারে।

বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ের একটি সূত্রমতে, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ব্যাপারে দলীয় কোনো সিদ্ধান্ত এখনও কেন্দ্র থেকে আসেনি। অনেকেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে তৎপরতা চালাচ্ছেন। তবে বিগত আন্দোলন-সংগ্রাম এবং দলের দুঃসময়ে যারা ভূমিকা রেখেছেন, তাদের বিষয়টি দল গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন দলের হাইকমান্ড।

জানতে চাইলে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ আমাদের সময়কে বলেন, দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। দলটির রাজনীতি রক্তের সঙ্গে মিশে আছে। প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে অবদান রেখেছি, প্রতিটি অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে সফল করেছি। ব্যক্তিগত চাওয়া পাওয়া নাই; তবে রাজনীতিতে মূল্যায়ন চাই। দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। দল এখন সরকার গঠন করেছে, আমরাও চাই সরকারের কাজে অংশগ্রহণ করতে; সরকারকে সহযোগিতা করতে।

ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা আমাদের সময়কে বলেন, দীঘ ২০ বছর ধরে যারা রাজপথে প্রতিটি আন্দোলন কর্মসূচিতে ছিলো, বিশেষ করে ১/১১ পর থেকে রাজপথে কর্মসূচি ঘিরে হামলা, মামলা, কারাবরণ করেছেন তাদের মূল্যায়ন প্রত্যাশা করছি।

ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী নাদিয়া পাঠান পাপন আমাদের সময়কে বলেন, দলের জন্য কাজ করেছি; কোথাও পালিয়ে যাইনি। যেহেতু দলের আদর্শের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই তাই প্রত্যাশা করছি আমাকে মূল্যায়ন করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com