শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ০৬:১১ অপরাহ্ন

যুদ্ধ থেকে বেরোনোর পথ পাচ্ছেন না ট্রাম্প

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬
  • ১৫ বার

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ থেকে কীভাবে ও কখন ‘বিজয়’ ঘোষণা করে সসম্মানে বেরিয়ে আসা যায়, তা নিয়ে হোয়াইট হাউসের ভেতরে তীব্র রেষারেষি চলছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টারা এখন নীতিগতভাবে বিভক্ত। ফলে ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় এই সামরিক অভিযান নিয়ে ট্রাম্পকে এক জটিল চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে।

রয়টার্সের এক বিশ্লেষণে হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ এই টানাপড়েনের চিত্র উঠে এসেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর সময় ট্রাম্প বড় লক্ষ্যের কথা বললেও, এখন তিনি এই যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছেন। কারণ গত দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধ আন্তর্জাতিক তেলের বাজারকে রীতিমতো ওলটপালট করে দিয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলসের মতো রাজনৈতিক উপদেষ্টারা সতর্ক করে বলছেন, তেলের দাম বাড়লে জনগণের সমর্থন দ্রুত কমে যাবে। তারা ট্রাম্পকে জয়ের সংজ্ঞা সীমিত গণ্ডিতে বেঁধে দ্রুত অভিযান শেষের আভাস দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।

লিন্ডসে গ্রাহাম ও টম কটনের মতো রিপাবলিকান নেতারা চাইছেন সামরিক চাপ অব্যাহত থাকুক। তাদের মূল লক্ষ্য ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করা ও মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার কড়া জবাব দেওয়া।

স্টিভ ব্যানন ও টাকার কার্লসনের মতো ট্রাম্পের কট্টর সমর্থকরা মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি দীর্ঘস্থায়ী ‘অপ্রয়োজনীয়’ যুদ্ধে আটকে পড়ার বিষয়ে তাকে বারবার সতর্ক করছেন।

সব পক্ষকে খুশি করতে গিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে অস্পষ্টতা তৈরি হচ্ছে। বুধবার কেন্টাকিতে এক সভায় তিনি একবার বলেন, ‘আমরা জিতেছি’, আবার পরক্ষণেই বলেন, ‘আমাদের কাজ শেষ করতে হবে।’

৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় এক ঝটিকা অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার পর ট্রাম্পের কিছু উপদেষ্টা ভেবেছিলেন, ইরান যুদ্ধও হয়তো তেমনই সহজ হবে। কিন্তু ইরান যে অনেক বেশি শক্তিশালী ও সুসজ্জিত প্রতিপক্ষ, তা এরই মধ্যে প্রমাণিত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত শীর্ষ নেতাসহ প্রায় দুই হাজার ইরানি নিহত হয়েছেন, ধ্বংস হয়েছে সামরিক ভাণ্ডার। কিন্তু হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এই প্রণালি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট বিভক্তির এই খবরকে ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দিলেও, যদি যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয় তবে আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে তেলের দাম বৃদ্ধির এই নেতিবাচক প্রভাব রিপাবলিকান দলের জন্য বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com