

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মাধবপুর গ্রামে বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষে গুরুতর আহত কৃষক দল নেতা তরু মুন্সি (৪৪) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তিনি সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড কৃষকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তিনি ওই ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের মৃত মুনসুর আলী মুন্সি ছেলে।
এদিকে কৃষকদল নেতার মৃত্যুর খবর ছড়ার সাথে সাথে জেলা শহরসহ সদরের গান্না ইউনিয়নে থমথমে পরিবেশ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এ নিয়ে জামায়াত নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা। সংঘর্ষে কৃষকদল নেতা তরু মুন্সি, তার ছেলে শিপন মুন্সি, হোসেন আলী, শহিদুল ইসলাম, নায়েব আলী, আব্দুল খালেক ও আকবর আলীসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের মধ্যে কৃষকদল নেতা তরু মুন্সি গুরুতর আহত হলে তাকে সদর হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে রেফার্ড করেন চিকিৎসক।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলা জামায়াতের আমির ড. হাবিবুর রহমান জানান, জামায়াতের নারী কর্মীদের তালিম প্রোগ্রামে কোনো কারণ ছাড়াই হামলা চালায় বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে জামায়াতের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এ ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে আমরা দলীয় ভাবে নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছি। এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখা আমাদের সকলের দায়িত্ব।
জেলা বিএনপির সহ সভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, জামায়াতের নারী কর্মীরা বিএনপি পরিবারের নারীদের জোরপূর্বক তালিমে ডেকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন কর্মী তালিমে যেতে বাধ্য করার ব্যাপারে জামায়াতের নারী কর্মীদের কাছে জানতে গেলে বাকবিতন্ডা শুরু হয়। ওই সময় আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা জামায়াতের কর্মীরা দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে বিএনপির নিরীহ কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় গুরুতর আহত আমাদের কৃষকদলের নেতা তরু মুন্সি মারা গেছেন। আমরা এঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তি ও গ্রেপ্তার দাবি করছি।
ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন জানান, জামায়াত-বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত একজন মারা গেছেন। ঘটনাস্থলে উত্তেজনা ও অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর যৌথ টিম মোতায়েন রয়েছে। ওই এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা বা অভিযোগ আমরা পাইনি। তবে সংঘর্ষে জড়িতদের গ্রেপ্তার অভিযান চলছে।