

ইসরায়েলের অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে খোদ দেশটিতেই এখন প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি ইরানের ছোড়া বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের আরাদ ও ডিমোনার মতো গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক এলাকায় সরাসরি আঘাত হানার পর এই সংশয় তীব্র হয়েছে। ডিমোনায় ইসরায়েলের স্পর্শকাতর পারমাণবিক স্থাপনা থাকায় এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি লক্ষ্যবস্তু। খবর ওয়াশিংটন পোস্টের।
ইরানের ওই হামলায় ১১৫ জনের বেশি আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এখনও স্পষ্ট করে জানায়নি কেন তাদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এই হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হলো। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এই ঘটনাকে বড় সাফল্য দাবি করে বলেছেন, ‘ইসরায়েলের আকাশ এখন অরক্ষিত।’
ইসরায়েলের জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলছেন, ইরানের ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ ইসরায়েলি প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে পারে-এমন উদ্বেগ থেকেই মূলত ইরানের ওপর নতুন করে হামলা শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের আশঙ্কায় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো রক্ষায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তাদের ব্যয়বহুল ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সাশ্রয় বা সংরক্ষণ করছে কিনা, তা নিয়েও জল্পনা চলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি ‘অ্যারো’ ক্ষেপণাস্ত্রের দাম প্রায় ৩০ লাখ ডলার, ‘থাড’ ইন্টারসেপ্টরের দাম প্রায় দেড় কোটি ডলার ও ‘আয়রন ডোম’-এর একেকটি ইন্টারসেপ্টরের খরচ ৫০ থেকে ৭০ হাজার ডলার। এ ছাড়া রাডার ও ইন্টারসেপ্টর ব্যবস্থার মধ্যে কারিগরি বা প্রকৌশলগত ত্রুটির কারণেও মাঝে-মধ্যে প্রতিরক্ষাব্যবস্থা লক্ষ্যভ্রষ্ট হতে পারে। আইডিএফের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শোশানি দাবি করেছেন, চলমান সামরিক অভিযানে ইরানের অন্তত ৭০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ও মজুদ ধ্বংস করা হয়েছে। তবে আক্রমণ করার ক্ষমতা কমলেও বিভিন্ন পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ প্রদর্শন করে তেহরান এখনও ভয় দেখানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
শুক্রবার ইরান ভারত মহাসাগরের ডিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের একটি যৌথ সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। যদিও যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, ওই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই সাগরে পড়ে গেছে। তবু বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি সত্যিই আড়াই হাজার মাইল দূরে হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জন করে থাকে, তবে তা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।