

রুদ্ধশ্বাস এক লো-স্কোরিং ম্যাচে লাহোরকে হারিয়ে জয় তুলে নিয়েছে করাচি। শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৯ রান। তখন আব্বাস আফ্রিদি টানা দুই বলে একটি চার ও একটি ছক্কা মেরে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। তবে ওভারের শুরুতেই নাটক তৈরি হয়—প্রথমে সমীকরণ ছিল ৬ বলে ১৪ রান, কিন্তু বলের অবস্থা পরিবর্তনের দায়ে মাঠের আম্পায়াররা লাহোরকে শাস্তি দিলে তা নেমে আসে ৬ বলে ৯ রানে, এবং করাচির ব্যাটসম্যানদের নতুন বল বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।
১২৯ রানের লক্ষ্য এই উইকেটে সহজ ছিল না। এটি ছিল একই মাঠে টানা চতুর্থ ম্যাচ, ফলে উইকেট হয়ে উঠেছিল ধীরগতির এবং অনিয়মিত বাউন্সযুক্ত। দুই দলের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন শহীন আফ্রিদি। তিনি ৪ ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে ৪টি উইকেট নেন। ধীরগতির বল দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করে তিনি তৃতীয় ওভারে টানা তিন বলের ব্যবধানে প্রতিপক্ষের দুই ব্যাটসম্যান—ডেভিড ওয়ার্নার ও সালমান আগাকে আউট করেন।
পাওয়ারপ্লেতে তার দুর্দান্ত বোলিংয়ের সঙ্গে উবায়েদ শাহের মেডেন ওভার মিলে প্রথম ৫ ওভারে করাচির সংগ্রহ দাঁড়ায় ২ উইকেটে মাত্র ১৮ রান। তবে শেষ পাওয়ারপ্লে ওভারে সাদ বাইগ হারিস রউফকে টানা দুইটি বাউন্ডারি মেরে কিছুটা স্বস্তি এনে দেন।
উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান সাদ সপ্তম ওভারে সিকান্দার রাজার একটি খারাপ বল বাউন্ডারিতে পাঠান, যা নো-বলও ছিল। তবে পরের ওভারে মোস্তাফিজুর রহমান তাকে আউট করলে আবার চাপে পড়ে করাচি। পরবর্তী চার ওভারে মাত্র ১৯ রান আসে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসা মুহাম্মদ ওয়াসিম ১৩তম ওভারে হারিস রউফকে একটি চার ও একটি ছক্কা মেরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। এই ওভারটি ছিল ম্যাচের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ওভার। এরপর মইন আলী দারুণ ব্যাটিং করে রান তোলার গতি বাড়ান, ফলে প্রয়োজনীয় রান রেট অনেকটা কমে আসে।
তাদের ৪৩ রানের জুটি ভাঙেন আবারও শহীন আফ্রিদি, যিনি ১৫তম ওভারে ওয়াসিম ও মইন—দুজনকেই ফিরিয়ে দেন। এরপর খুশদিল শাহ ও আজম খান ৩২ রানের জুটি গড়ে দলকে শেষ ওভারে নিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত আব্বাসের ব্যাটেই নিশ্চিত হয় জয়।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই দুই উইকেট হারালেও লাহোর পাওয়ারপ্লে শেষে ২ উইকেটে ৪২ রান তোলে। আবদুল্লাহ শফিক ২৪ বলে ৩৩ রান করে ইনিংস সামাল দেন। তবে তার বিদায়ের পর পারভেজ হোসেন ইমনও দ্রুত আউট হন।
এরপর সিকান্দার রাজা ও হাসিবুল্লাহ খান ৪৩ রানের জুটি গড়ে দলকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যান। ১২তম ওভারে আব্বাসকে এক চার ও এক ছক্কা মেরে ১৫ রান তোলেন হাসিবুল্লাহ। কিন্তু ১৫ ও ১৬তম ওভারে রাজা ও শহীনের আউটের পর ধস নামে লাহোরের ইনিংসে। শেষ ৫ উইকেট তারা হারায় মাত্র ২০ রানে।