

দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চলার সময় গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ট্রানজিট ফি (টোল) নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে ইরান ও ওমান। ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে সিএনএন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শর্তসাপেক্ষে দুই সপ্তাহের জন্য ঘোষিত যুদ্ধবিরতি চলাকালে এই নৌপথ ব্যবহারকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর নির্দিষ্ট হারে ফি আরোপের বিষয়ে দেশ দুটি একমত হয়েছে।
এক আঞ্চলিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান এই ফি থেকে প্রাপ্ত অর্থ দেশের পুনর্গঠন কাজে ব্যয় করবে। তবে ওমান কীভাবে এই অর্থ ব্যবহার করবে, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরান ও ওমান উভয়েরই আঞ্চলিক অধিকার রয়েছে। এই প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ হিসেবে বিবেচিত।
এদিকে বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, শর্তসাপেক্ষে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এই খবরে বিশ্ববাজারে তাৎক্ষণিকভাবে জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু করেছে। যুদ্ধবিরতির আলোচনায় মধ্যস্থতা করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় শাহবাজ শরিফ এই সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়ে দুই দেশের নেতৃত্বের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘উভয় দেশ যে বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতা প্রদর্শন করেছে, আমি তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাই। এই উচ্চপর্যায়ের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষই অত্যন্ত গঠনমূলকভাবে শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে কাজ করেছে।’
শাহবাজ শরিফ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলকে আনুষ্ঠানিকভাবে আগামী শুক্রবার ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সেখানে সব বিরোধের একটি চূড়ান্ত এবং মীমাংসিত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আলোচনা শুরু হবে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আন্তরিকভাবে আশা করি, ‘‘ইসলামাবাদ আলোচনা’’ টেকসই শান্তি অর্জনে সফল হবে এবং সামনের দিনগুলোতে এ বিষয়ে আরও সুসংবাদ জানাতে চাই।’
এদিকে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান, উভয়পক্ষ নিজেদের বিজয়ী বলে ঘোষণা করেছে। যুদ্ধবিরতির খবরে ইরানে সাধারণ নাগরিকদেরকে সড়কে আনন্দ মিছিল করতে দেখা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ীভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করার জন্য যুদ্ধবিরতির শর্ত এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার জন্য উভয়পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।