

শর্তসাপেক্ষে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আর এই খবরে দেশের শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরুতেই বড় উত্থানের আভাস মিলছে। আজ লেনদেন শুরুর প্রথম আধা ঘন্টায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১২৭ পয়েন্ট বেড়েছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ডিএসইর লেনদেনে অংশগ্রহণ করা শেয়ার ও ইউনিটগুলোর মধ্যে মাত্র ১১টি বাদে সবগুলোর দাম বেড়েছে। সবগুলো মূল্যসূচক ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ডিএসইতে মোট ৩৮২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ৩৭১টির। কমেছে তিনটির এবং আটটির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বড় সংখ্যায় শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ায় ডিএসসির প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ২ দশমিক ৪৭ শতাংশ বা ১২৭ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ২৮৪ পয়েন্টে উঠেছে। এক্সচেঞ্জটির শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ২ দশমিক ৪৬ শতাংশ বা ২৬ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৭২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর ৩০টি বাছাইকৃত শেয়ারের সমন্বয়ে গঠিত ডিএস৩০ সূচক ২ দশমিক ২৭ শতাংশ বা ৪৫ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৬ পয়েন্টে উঠেছে।
লেনদেনের প্রথম আধাঘণ্টায় ডিএসইতে ২৫৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দেশের শেয়ারবাজারে প্রথম লেনদেন হয় ১ মার্চ। ওইদিন লেনদেনের শুরুতে মাত্র এক মিনিটে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্সে ২২৩ পয়েন্ট পর্যন্ত পতন হয়। দিনশেষে অবশ্য পতনের মাত্রা কিছুটা কমে ১৩৯ পয়েন্ট পতন নিয়ে লেনদেন শেষ হয়।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, শেয়ারবাজার খুবই সেনসিটিভ জায়গা। বিশ্বের কোন দেশে যখনই যুদ্ধ শুরু হয়, তার প্রভাব পুঁজিবাজারে খুবই দ্রুত সময়ে পরে। অতীতেও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধসহ বিশ্বজুড়ে যেসব যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে তার প্রভাব বাংলাদেশের পুঁজিবাজারেও পড়েছে। এবারও ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিলো। আবার যুদ্ধ থেমে যাওয়ার খবরে শেয়ারবাজার ইতিবাচক ধারায় ফেরার ইঙ্গিতও দিচ্ছে।