

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে টানা ২১ ঘণ্টা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হয়নি। দীর্ঘ বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা হলেও কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি উভয় পক্ষ।
আলোচনা শেষে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের বক্তব্যের পর ইরানের গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই। তিনি বলেছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র বেশ কিছু বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছালেও গুরুত্বপূর্ণ দুই-তিনটি বিষয়ে এখনো মতপার্থক্য রয়েছে।
ইরানি গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এই তথ্য জানিয়েছে।
ইসমাইল বাগাই বলেন, ‘এ আলোচনা হয়েছে ৪০ দিনের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের পর, যেখানে চারদিকে শুধু অবিশ্বাস আর সন্দেহ। স্বাভাবিকভাবেই প্রথম বৈঠকেই কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর আশা আমাদের ছিল না। আর তেমনটা কেউ আশাও করেনি।’
এদিকে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এ আলোচনাকে ‘নিবিড়’ বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু চলমান আলোচনার সাফল্য ‘প্রতিপক্ষের আন্তরিকতা এবং সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ওয়াশিংটনকে ‘অতিরিক্ত চাওয়া ও বেআইনি অনুরোধ’ করা থেকে বিরত থাকতে এবং ইরানের ‘বৈধ অধিকার ও স্বার্থ’ মেনে নিতেও আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের মুখপাত্র।
এর আগে এক ব্রিফিংয়ে জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘‘যুক্তরাষ্ট্র তার ‘রেড লাইন’ বা যেসব শর্তে দেশটি ছাড় দিতে রাজি নয়, তা স্পষ্ট করেছে। কিন্তু ইরান ‘আমাদের শর্তে রাজি হয়নি’।’’
তিনি বলেন, ‘আমরা এমন কোনো অবস্থায় পৌঁছাতে পারিনি যেখানে ইরানিরা আমাদের শর্তগুলো মেনে নেবে।’
ব্রিফিংয়ে ভ্যান্সের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা এবং হোয়াইট হাউজের উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার এবং মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ উপস্থিত ছিলেন।