

বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ : বাংলাদেশে অনেক কৃষক বর্গাচাষি বা ভূমিহীন। ফলে তাঁদের সঠিকভাবে নিবন্ধন করা কঠিন। অতীতে দেখা গেছে, অনেক সময় প্রভাবশালীরা কৃষকদের নামে সুবিধা গ্রহণ করেন। এটি বড় ঝুঁকি। গ্রামীণ এলাকায় ইন্টারনেট ও প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাব একটি বড় বাধা। কিছু রিপোর্টে দেখা গেছে, পরিকল্পনা থাকা সত্ত্বেও বাস্তবায়ন দীর্ঘসূত্রতায় ভুগছে। এ ছাড়া ব্যাংক, কৃষি অফিস ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় না থাকলে এই উদ্যোগ ব্যাহত হতে পারে।
সম্ভাবনা ও দিকনির্দেশনা : প্রায়ই কৃষক আর্থিক সংকটের কারণে দ্রুত পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হন। ফলে তাঁরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে যদি কৃষিঋণ, ভর্তুকি ও অন্যান্য আর্থিক সহায়তা সহজে পাওয়া যায়, তাহলে কৃষক তাড়াহুড়া করে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হবেন না। এতে ভালো দাম পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে পারবেন। একই সঙ্গে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের গুদাম, হিমাগার বা সংরক্ষণ সুবিধা ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হলে কৃষক উৎপাদনের সময় অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হবেন না। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে যদি কৃষককে সরাসরি ক্রেতা, পাইকার বা প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করা যায়, তাহলে মধ্যস্বত্বভোগীর সংখ্যা কমবে এবং কৃষক বেশি মূল্য পাবেন। কৃষক কার্ড বাংলাদেশের কৃষিব্যবস্থায় একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এটি শুধু একটি পরিচয়পত্র নয়, বরং কৃষিকে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বচ্ছ ব্যবস্থায় রূপান্তরের একটি কার্যকর হাতিয়ার। তবে এর সফলতা নির্ভর করবে সঠিক বাস্তবায়ন, সুশাসন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতির ওপর।
লেখক : মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, ফল বিভাগ বিএআরআই, গাজীপুর