বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৪৪ অপরাহ্ন

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় মানতে হবে যেসব নির্দেশনা

বিডি ডেইলি অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪ বার

১৬ বছর পর প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আজ বুধবার। এদিন সকাল ১০টা থেকে দেশের ৬১ জেলার (পার্বত্য অঞ্চলের তিন জেলা বাদ) সব কেন্দ্রে একযোগে পরীক্ষা শুরু হবে। প্রথম দিন হবে বাংলা বিষয়ের পরীক্ষা, চলবে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত।

এর আগে গত ৫ মার্চ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভায় পরীক্ষার সূচি অনুমোদন করা হয়। পরবর্তীতে অধিদপ্তরের নির্দেশনায় বিস্তারিত সময়সূচি প্রকাশ করা হয়।

সূচি অনুযায়ী, ১৬ এপ্রিল ইংরেজি, ১৭ এপ্রিল প্রাথমিক গণিত এবং ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ও প্রাথমিক বিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি পরীক্ষা সকাল ১০টায় শুরু হয়ে আড়াই ঘণ্টা ধরে চলবে।

তবে দেশের তিন পার্বত্য জেলা- রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে ভিন্ন সময়সূচিতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব জেলায় ১৭ এপ্রিল প্রাথমিক গণিত পরীক্ষার মাধ্যমে পরীক্ষা শুরু হবে। এরপর ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ও প্রাথমিক বিজ্ঞান, ১৯ এপ্রিল বাংলা এবং ২০ এপ্রিল ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষার মাধ্যমে সেখানে বৃত্তি পরীক্ষা শেষ হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এদিকে পরীক্ষা সামনে রেখে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে পরীক্ষার রুটিন ও পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রকাশ করেছে। নীতিমালায় পরীক্ষার্থীদের জন্য ১০টি বিশেষ নির্দেশনা এবং পরীক্ষা চলাকালীন আচরণবিধি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

পরীক্ষার হলে বিশৃঙ্খলা এড়াতে ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে শিক্ষার্থীদের ১০টি জরুরি নির্দেশনা-

১. প্রবেশপত্র: প্রবেশপত্র ছাড়া পরীক্ষায় অংশ নেওয়া যাবে না। নির্ধারিত সময়ের আগেই হলে উপস্থিত হতে হবে।

২. নিষিদ্ধ বস্তু: ক্যালকুলেটর, মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে আনা যাবে না।

৩. উত্তরপত্রের কভার পৃষ্ঠা (ওএমআর): উত্তরপত্রের কভার পৃষ্ঠায় নাম, বিষয় কোড ও রোল নম্বর ছাড়া অন্য কিছু লেখা যাবে না।

৪. শিক্ষকের স্বাক্ষর: উত্তরপত্রে অবশ্যই দায়িত্বরত শিক্ষকের (ইনভিজিলেটর) স্বাক্ষর থাকতে হবে, অন্যথায় খাতা বাতিল হবে।

৫. পরিচয় গোপন রাখা: উত্তরপত্রের ভেতরে পরীক্ষার্থীর নাম, ঠিকানা বা কোনো সাংকেতিক চিহ্ন লেখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

৬. খসড়া কাজ: আলাদা কোনো কাগজ দেওয়া হবে না। উত্তরপত্রেই খসড়া করে পরে তা কেটে দিতে হবে।

৭. অন্যত্র লেখা নিষিদ্ধ: টেবিল, স্কেল বা শরীরের কোথাও কোনো কিছু লেখা যাবে না।

৮. হল ত্যাগ: প্রশ্নপত্র দেওয়ার পর অন্তত ১ ঘণ্টা পার না হওয়া পর্যন্ত কেউ হলের বাইরে যেতে পারবে না।

৯. খাতা জমা: পরীক্ষা শেষে দায়িত্বরত শিক্ষকের কাছে খাতা বুঝিয়ে দিয়ে তবেই হল ছাড়তে হবে।

১০. কর্তৃপক্ষের নিয়ম: এ ছাড়া কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্দেশিত অন্যান্য সকল নিয়ম মেনে চলতে হবে।

পরীক্ষা চলাকালে আচরণ নির্দেশিকা-

# পরীক্ষার হলে একে অন্যের সঙ্গে কথা বলা যাবে না।

# প্রশ্নপত্র বা অন্য কোনো মাধ্যমে কিছু লিখে অন্য পরীক্ষার্থীর সঙ্গে বিনিময় করা যাবে না।

# প্রশ্নপত্র ছাড়া অন্য কোনো কাগজপত্র বা অন্যের উত্তরপত্র দেখে লেখা যাবে না বা অন্যকে দেখানোর কাজে সহযোগিতা করা যাবে না।

# উত্তরপত্র ইনভিজিলেটরের কাছে দাখিল না করে উত্তরপত্রসহ পরীক্ষার হল ত্যাগ করা যাবে না।

# উত্তরপত্রের পৃষ্ঠা পরিবর্তন ও বিনষ্ট করা যাবে না।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, সবশেষ ২০০৮ সালে প্রাথমিকে বৃত্তি পরীক্ষা হয়েছিল। এরপর ২০০৯ সালে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা (পিইসি) শুরু করে সরকার। এর ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়া হতো। ফলে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ১৬ বছর বন্ধ ছিল।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2019 bangladeshdailyonline.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com