

দেশে সংক্রামক ব্যাধি হামের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা এবং অনলাইনে পাঠদান কার্যক্রম চালুর নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। এই রিটের শুনানি আগামীকাল সোমবার (২০ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত হবে। আজ রবিবার (১৯ এপ্রিল) রিটকারী আইনজীবী লুৎফে জাহান পূর্ণিমা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, গত ২ এপ্রিল জনস্বার্থে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় তিনি এই আবেদনটি দায়ের করেন।
রিট আবেদনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে। এতে দেশে হামে মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা, সংক্রমণের হার এবং টিকার বর্তমান মজুত ও প্রাপ্যতার বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি টিকাদানে ঘাটতি ও সরবরাহে বিলম্বের কারণ খুঁজে বের করতে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়েছে। রিটকারীর মতে, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা সংবিধানের মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন। একইসঙ্গে বর্তমান প্রাদুর্ভাবটি সত্যিই হাম কি না, তা নিশ্চিত হতেও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
বর্তমানে দেশজুড়ে হাম একটি আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্তের সংখ্যা ২২ হাজার ছাড়িয়েছে এবং এই রোগে আক্রান্ত হয়ে ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ২১৩ শিশুর। আক্রান্তদের মধ্যে ৬০ শতাংশের বেশি শিশুর বয়স ৯ মাসের নিচে, যারা এখনো নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আসেনি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ৯ মাসের পরিবর্তে এখন ৬ মাস বয়স থেকেই শিশুদের হামের প্রথম ডোজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।
চিকিৎসকরা বলছেন, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে হলেও সঠিক সময়ে চিকিৎসা ও পুষ্টির জোগান দিলে মৃত্যুঝুঁকি কমানো সম্ভব। যারা মারা যাচ্ছে, তারা মূলত হামের পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য জটিলতায় ভুগছিল। তাই শিশুদের পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করার পাশাপাশি দ্রুত টিকাদানের ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। হামের লক্ষণ দেখা দিলে আতঙ্কিত না হয়ে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।