

জ্বালানি তেল ডিজেলের দাম বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে গণপরিবহনের ভাড়া সমন্বয়ের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। এ লক্ষ্যে গতকাল রবিবার সন্ধায় রাজধানীর বনানীতে বিআরটিএ কার্যালয়ে একটি বৈঠক হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিআরটিএর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মীর আহমেদ তারিকুল ওমর। প্রথমে দূরপাল্লার রুটের ভাড়া নির্ধারণ নিয়ে বৈঠক হয়। এরপর মহানগরীর ভাড়া নিয়ে পর্যালোচনা চলে। রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বৈঠক চলছিল।
বিআরটিএর একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যাত্রীবাহী মোটরযানের ভাড়া পুনর্নির্ধারণে গঠিত ১২ সদস্যের ভাড়া নির্ধারণ কমিটি এ বৈঠকে নতুন ভাড়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। একে বলা হয় ব্যয় বিশ্লেষণ কমিটি। বৈঠকে বাস, ট্রাক মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শুরুর আগে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম বলেন, মালিকপক্ষ বৈঠকে নতুন ভাড়ার একটি প্রস্তাব দেবে। ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে দ্রুত ভাড়া সমন্বয় প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বর্তমানে বিআরটিএ নির্ধারিত ভাড়া অনুযায়ী ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ২ টাকা ৪৫ পয়সা এবং আন্তঃজেলা বা দূরপাল্লার বাসে ২ টাকা ১২ পয়সা। এ ছাড়া ঢাকা মহানগরে সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা এবং মহানগরের বাইরে ৮ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। তবে মালিক সমিতির সূত্র জানিয়েছে, নতুন প্রস্তাবে মহানগর এলাকায় প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ৪ টাকা এবং দূরপাল্লার বাসে ৩ টাকা ৮০ পয়সা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। বাস মালিক সমিতি ঢাকা, চট্টগ্রামসহ মহানগরীগুলোতে বাস ভাড়া ৬৪ শতাংশ এবং দূরপাল্লার বাসে ৩৭ শতাংশ ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দেয় বাসমালিক সমিতি।
বিআরটিএর কর্মকর্তারা জানান, ভাড়া নির্ধারণে ব্যয় বিশ্লেষণ করা হয় এবং কমিটির সুপারিশ সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। পরে মন্ত্রণালয় গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে নতুন ভাড়া কার্যকর করে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, জ্বালানি তেলের দাম প্রতি লিটারে ১ টাকা বাড়লে ভাড়া ১ পয়সা বাড়ে এবং দাম কমলে একই হারে কমে।
এর আগে শনিবার রাতে সরকার জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য নির্ধারণ করে। এতে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১১৫ টাকা হয়েছে। কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে ১৩০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা এবং পেট্রল ১১৬ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিকে পুঁজি করে বাসমালিক সমিতির সরকার সমর্থিত প্রভাবশালী নেতারা অতীতের ফ্যাসিস্ট সরকারের পদাঙ্ক অনুসরণ করে একচেটিয়া ভাড়া বৃদ্ধির পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। রাতের আঁধারে ভাড়া বৃদ্ধির গোপন বৈঠক এমন চক্রান্তের ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করে সংগঠনটি। গতকাল রাতে সংগঠনের মহাসচিব মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, নিকট অতীতে ৩ দফা জ্বালানি তেলের মূল্য ৩ টাকা হারে কমানোর পরিপ্রেক্ষিতে বাসভাড়া ৩ পয়সা হারে ভাড়া কমানো হয়েছে, ২ টাকা কমানোর পরিপ্রেক্ষিতে ২ পয়সা হারে ভাড়া কমানো হয়েছে। এবার প্রতিলিটার ডিজেলের মূল্য ১৫ টাকা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে বাসভাড়া প্রতিকিলোমিটারে ১৫ পয়সা হারে বৃদ্ধির জন্য দেশের যাত্রীসাধারণের পক্ষ থেকে প্রস্তাব তুলে ধরেন তিনি। তার দাবি, আমলাতন্ত্রকে ম্যানেজ করে এর অতিরিক্ত ভাড়া বৃদ্ধি করা হলে সরকারের জনপ্রিয়তায় কমবে, জনরোষ তৈরি হবে বলে গতরাতে পাঠানো বিবৃতিতে উল্লেখ করেন তিনি।